আপনি কি জানেন যে, নেপালে কুকুরদের তাদের আনুগত্য এবং বন্ধুত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাতে একটি দিন আছে? দিনটি কুকুর তিহার নামে উদযাপন করা হয় এবং এর অর্থ 'কুকুরের পূজা'।
কুকুর তিহার হিন্দু ধর্মাবুলম্বীদের উৎসব তিহারের দ্বিতীয় দিনে (ভারতে এটি দীপাবলি নামে পালিত হয়) অনুষ্ঠিত হয়। মজার বিষয় হল, এর আগের দিনটি আবার কাকদের জন্য নিবেদিত।
এদিন বিশ্বজুড়ে দীপাবলি পালিত হয়, কিন্তু নেপালের কুকুর তিহার নেপালিদের জন্য অনন্য। কুকুরকে নেপালে মৃত্যুর দেবতা যমরাজের দূত বলে মনে করা হয় এবং বছরে একবার এই দিনে তাদের পূজা করা হয়।
নেপালে ‘কুকুর তিহার’ উৎসবের মধ্য দিয়ে কুকুরদের প্রতি দেখানো হয় বিশেষ সম্মান। প্রভুভক্তি ও নিষ্ঠার জন্য কুকুরদের সম্মান জানানো হয় এই দিনে। পোষ্য এবং সার্ভিস ডগ, সবাইকেই মালা, খাবার এবং সিঁদুর দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এদিন নেপাল পুলিশ কাইনাইন ডিভিশনে কুকুরদের পদকও দেওয়া হয়।
গত সোমবার নেপালে ছিল কুকুরদের দিন অর্থাৎ ‘কুকুর তিহার’ উৎসব। এ উৎসব ঘিরে মানুষ তাদের সবচেয়ে নিবেদিত বন্ধুকে পূজা করে।
এই দিনে নেপালের ঘরে ঘরে আর পথে পথে দেখা যায় কুকুরদের রাজকীয় আপ্যায়ন। কেউ তাদের মাথায় টিকা পরিয়ে দিচ্ছে, কেউ ফুলে সাজিয়ে ছবি তুলছে, কেউ আবার হাতে ধরা প্লেটে দিচ্ছে মাংস, ডিম আর দুধের ভোজ। কেউই বঞ্চিত নয়—না পোষা কুকুর, না পথের আশ্রয়হীন চারপেয়ে বন্ধুরা। সবাই যেন এই দিন একই কাতারে।
কুকুরকে মনে করা হয় মৃত্যুর দেবতা-যমের দূত, যে আত্মার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। এই বিশ্বাস থেকেই শতাব্দী ধরে চলে আসছে ‘কুকুর তিহার’। দেবতার দূত হিসেবে নয়, বরং বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে কুকুরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই মানুষ এই দিনটিকে এত বিশেষ করে তোলে।
কাঠমাণ্ডুতে গত সোমবার সকালে দেখা যায় নেপাল সেনাবাহিনীর ক্যানাইন ডিভিশনের বর্ণাঢ্য প্যারেড। সামরিক পোশাকে সাজানো কুকুরদের সামনে মাথা নত করেছে মানুষ।
জানা গেছে, নেপালজুড়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে প্রায় একশরও বেশি প্রশিক্ষিত কুকুর কাজ করছে, যাদের বিশেষভাবে বোমা শনাক্তকরণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে নিযুক্ত করা হয়।
এ দিনটিকে অনেকে ‘মানুষ ও কুকুরের বন্ধুত্বের উৎসব’ বলেই জানে। বিদেশি পর্যটকরা বলেন, অন্য দেশে কুকুর হয়তো পোষা প্রাণী, কিন্তু নেপালে তারা পূজিত আত্মা—ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতীক।
সুলতানা দিনা/