কাঁচা দুধ থেকে তৈরি কিছু পনিরে অত্যন্ত সংক্রামক বার্ড ফ্লু বা এইচ৫এন১ ভাইরাস দীর্ঘদিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের করনেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কর্তৃপক্ষ।
গবেষকরা জানান, পনিরের অম্লত্ব বা পিএইচ যত বেশি, ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। খাদ্য নিরাপত্তা ও সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এই ফলাফল।
এ গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা দুধে সংক্রমিত হওয়া ভাইরাস পনিরে ৬০ দিনের মানক পরিপক্বতা সময় পেরোনোর পরেও জীবিত থাকতে পারে।
করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক দিয়েগো ডিয়েল বলেন, “সংক্রমিত গরুর দুধে ভাইরাসের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি পূর্বের গবেষণায় প্রমাণিত হওয়ায় আমরা এই পরীক্ষা চালাই।”
এফডিএর নির্দেশ অনুযায়ী, কাঁচা দুধের পনির ৬০ দিন ধরে ৩৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে (১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) সংরক্ষণ করতে হয়। তবে গবেষকরা দেখেছেন, ৩৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায়ও কিছু পনিরে ভাইরাস ১২০ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকে।
গবেষণায় পনিরে পিএইচ বা অম্লত্ব ভাইরাসের স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পিএইচ ৫ বা তার নিচের পনিরে যেমন ফেটা চিজ, ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে পিএইচ ৫.৮ থেকে ৬.৬-এর মধ্যে থাকা পনিরে ভাইরাস টিকে থাকতে দেখা গেছে।
গবেষণার সহলেখক নিকোল মার্টিন বলেন, “এইচ৫এন১ সংক্রান্ত আমাদের গবেষণা দুগ্ধশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেবে।”
পরীক্ষার জন্য গবেষকরা কৃত্রিমভাবে এইচ৫এন১-সংক্রমিত কাঁচা দুধ ব্যবহার করে পনির তৈরি করে ভাইরাসের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করেন। এছাড়াও, এফডিএ পাঠানো বাণিজ্যিক চেডার পনিরের চারটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়, সবটিতেই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
সংক্রমণ ঝুঁকি যাচাই করতে ফ্যারেট প্রাণীর ওপরও পরীক্ষা চালানো হয়। দেখা যায়, সংক্রমিত কাঁচা দুধ পান করা ফ্যারেটগুলো আক্রান্ত হয়, তবে পনির খাওয়ানো ফ্যারেটগুলোতে সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
ডিয়েল বলেন, “দুধ তরল হওয়ায় তা শরীরের শ্লেষ্মা ঝিল্লির সঙ্গে বেশি সংস্পর্শে আসে, যা সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ায়, পনিরের ক্ষেত্রে এই প্রভাব তুলনামূলক কম।”
গবেষকরা আরও জানান, চিজে অম্লত্ব বাড়াতে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া বা সরাসরি অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়, যা দুধের চিনি থেকে অ্যাসিড তৈরি করে এবং ভাইরাস ধ্বংসে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সুলতানা দিনা/