ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে 'সি' গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা সালমান (রা.) কীভাবে সত্যকে চিনলেন? নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই
Nagad desktop

আমেরিকা সার্বভৌমত্বের খানিকটা হারিয়েছে: মামদানির জয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০২ এএম
আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৭ এএম
আমেরিকা সার্বভৌমত্বের খানিকটা হারিয়েছে: মামদানির জয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানির জয় নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, 'গত রাতে আমরা আমেরিকার সার্বভৌমত্বের সামান্য অংশ হারিয়েছি।'

বুধবার (৫ নভেম্বর) মায়ামিতে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, 'এক বছর আগে জনগণ আমাকে নির্বাচিত করে আমাদের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু গত রাতে নিউইয়র্কে আমরা সেই সার্বভৌমত্বের কিছুটা হারালাম।'

তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, 'আমরা বিষয়টা ঠিক করে নেব।'

ট্রাম্প আরও বলেন, মামদানির জয়ের পর আমেরিকা এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে— 'কমিউনিজম আর সাধারণ জ্ঞানের (common sense) মধ্যে বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।' তার দাবি, 'ডেমোক্র্যাটরা যা করছে, তা আমেরিকাকে ধীরে ধীরে কমিউনিস্ট কিউবা বা সমাজতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলায় পরিণত করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার প্রশাসন অর্থনৈতিক অলৌকিকতা তৈরি করছে, আর তারা দিচ্ছে এক অর্থনৈতিক দুঃস্বপ্ন। তারা সরকার ও অবৈধ অভিবাসীদের জন্য খরচ বাড়াতে চায়, আমরা চাই আমেরিকান শ্রমিক ও পরিবারের আয় বাড়ুক।'

মায়ামির আমেরিকা বিজনেস ফোরাম–এ দেওয়া এ বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, 'ফ্লোরিডা শিগগিরই হবে সেই জায়গা, যেখানে নিউইয়র্কের কমিউনিজম থেকে পালিয়ে মানুষ আশ্রয় নেবে।'

অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি জয়ের পর ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আমি ট্রাম্পের জন্য চারটি শব্দ বলব— Turn the volume up!'

৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক নেতা সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি

মেহেদী/

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়া জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার (১৩ জুন) এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে একটি বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠানের পর খামেনির মরদেহ সেখানে দাফন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুতেই তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে খামেনি নিহত হন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন তারই ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ/ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ধীরাজ শেঠ। বর্তমানে তিনি ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ (ভিসিওএএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগামী ৩০ জুন বিকেলে বর্তমান সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল শনিবার এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। 

ধীরাজ শেঠ ১ এপ্রিল ২০২৬ সালে উপ-সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও বিদ্রোহ দমন কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি মরু অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট, একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু-কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ সুদর্শন চক্র কোরের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তীতে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। খুব কম কর্মকর্তাই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রচলিত যুদ্ধ পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং কৌশলগত নেতৃত্বে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ধীরাজ শেঠ এমন এক সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট
ছবি: সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করার পরিকল্পনা হ্যাঁ ভোটের পোস্টার

কোনো দেশ কি তাদের জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিতে পারে? সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা আজ রবিবার ঠিক এই প্রশ্নটিরই মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশটির জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১ কোটিতে (১০ মিলিয়ন) সীমিত করার একটি প্রস্তাবের ওপর আজ (১৪ জুন) গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই প্রস্তাবের পেছনে মূল সমর্থন রয়েছে দেশটির ডানপন্থি দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’র। তারা এটিকে একটি ‘স্থায়িত্বের উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করছে। যার লক্ষ্য হলো আবাসন, সরকারি সেবা এবং পরিবেশের ওপর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপ কমানো।

তবে সুইস সরকার, অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী নেতা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই প্রস্তাবকে একটি ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্যোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের যুক্তি, এই প্রস্তাব পাস হলে দেশের হাসপাতাল ও হোটেলগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মীর তীব্র সংকট দেখা দেবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের কষ্টার্জিত সম্পর্কে ফাটল ধরবে।

২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা দ্রুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ লাখে, যার মধ্যে ২৭ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, ফ্ল্যাটের চড়া দাম এবং স্বাস্থ্য খাতের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশই এখন বেশ উদ্বিগ্ন।

সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই গণভোটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের ৫২ শতাংশ এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ৪৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছেন এবং একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

অনিন্দ্যসুন্দর এই দেশটির ভোটারদের বড় অংশই এখনো নিশ্চিত নন যে এই জনসংখ্যা সীমা ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে। কোনো দেশের জনসংখ্যার ওপর এমন কঠোর আইনি সীমা আরোপের নজির বিশ্বের কোথাও নেই। যদিও চীন অতীতে তাদের ‘এক সন্তান নীতি’র মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীর করার চেষ্টা করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করে।

সুইস এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের আগে দেশটির জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটি অতিক্রম করতে পারবে না এবং জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছামাত্রই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে থাকতে পারে সুইজারল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) মঞ্জুরের সংখ্যা সীমিত করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের পরিবারকে সঙ্গে রাখার অধিকার বাতিল করা।সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরান গতকাল শনিবার বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কাঠামোতে সই করতে পারে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী আজ রবিবার চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও তা হবে না বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই গত শুক্রবার জানায়, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষ একটি খসড়া পাঠে সম্মত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গতকাল বলেন, দুই পক্ষ একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে একমত হয়েছে এবং ইসলামাবাদ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক চুক্তিটি আজ রবিবারই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বাঘাই বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক ঠিক কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আজ হবে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এর আগেও একাধিকবার দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা শান্তিচুক্তির যতটা কাছে এখন আছি, আগে কখনো ছিলাম না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তিনি শরিফের পোস্টটি রিপোস্ট করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং লেবাননে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।

এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে।

যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জানাজাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই আলী খামেনিকে জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। সূত্র: রয়টার্স

ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ
ধীরাজ শেঠ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সরকার বর্তমান ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশটির পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর সহপ্রধান (ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এ খবর জানিয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি অপারেশন, কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি রয়েছে তার।

সামরিক জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ধীরজ শেঠ। তার কমান্ড দায়িত্বের মধ্যে ছিল মরু অঞ্চলে একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মিরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর নেতৃত্ব।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দেন। পরে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব তদারকি করেন।

আর্মি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতির পর ধীরাজ শেঠ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে দুইটি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলে কৌশলগত তদারকির দায়িত্বও পালন করেন।

সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিভিন্ন কোর্সে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের স্নাতক। এছাড়া প্যারিসের মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশ নিয়েছিলেন ধীরাজ শেঠ।

এসএন/