ফিলিপাইনের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শুরু হয়েছে সুপার টাইফুন ‘ফাং-ওং’-এর ভয়াবহ তাণ্ডব। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় উপকূলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিপর্যয়। ঝড়ের প্রভাবে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে ফাং-ওং আঘাত হানতে শুরু করে কাটান্ডুয়ানেস প্রদেশের উপকূলে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই টাইফুনের বৃষ্টি ও বাতাসের বলয় প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত—যা ফিলিপাইনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে।
এরই মধ্যে দেশটি সামলাচ্ছে গত সপ্তাহের টাইফুন ‘কালমেগি’-এর ধ্বংসযজ্ঞ, যেখানে অন্তত ২২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন এই দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো দেশ।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কাটান্ডুয়ানেসে এক ব্যক্তি বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন এবং সামার প্রদেশে এক নারী ঘূর্ণিঝড়ে ধসে পড়া ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
টাইফুনের কারণে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ঝড়টির কেন্দ্রীয় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
কাটান্ডুয়ানেসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রবার্তো মন্টেরোলা বলেন, “বৃষ্টি আর বাতাস এতটাই তীব্র ছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। অনেকেই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে ঘরে ছিলেন—পরে আমরা তাদের উদ্ধার করেছি।”
দেশটির বিপদাপন্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই দশ লক্ষাধিক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো জুনিয়র বলেছেন, “ফাং-ওং-এর প্রভাবে বিপুল এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে সেবু ও রাজধানী ম্যানিলাও রয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করছি, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে দূরে থাকতে।”
ঝড়ের কারণে সোম ও মঙ্গলবার স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ৩২৫টি দেশীয় ও ৬১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। উপকূলীয় সমুদ্রবন্দরে আটকা পড়েছেন ৬,৬০০-এরও বেশি যাত্রী ও শ্রমিক।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩ মিটারেরও বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রতি বছর গড়ে ২০টির বেশি টাইফুন ও ঝড় ফিলিপাইনকে আঘাত করে। ভূমিকম্প ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ঝুঁকি মিলিয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। সূত্র: এবিসি
মেহেদী/