রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ পরিকল্পনায় একটি মিগ–৩১ যুদ্ধবিমান ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র তারা ভণ্ডুল করেছে। বিমানে ছিল রাশিয়ার অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কিঞ্জাল’।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ এবং তাদের যুক্তরাজ্যভিত্তিক সহযোগীরা এই পরিকল্পনার পেছনে ছিল।
ষড়যন্ত্রটির উদ্দেশ্য ছিল এক রুশ পাইলটকে প্রলুব্ধ করে মিগ–৩১ বিমানটি রোমানিয়ার কনস্টান্টা শহরে নিয়ে যাওয়া—যেখানে ন্যাটো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে তাদের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি নির্মাণ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় ধ্বংস করা হবে এবং ঘটনাটিকে বড় ধরনের “উস্কানিমূলক হামলা” হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এফএসবি তথাকথিত বার্তা ও রেকর্ডিং প্রকাশ করেছে, যেখানে একজন ব্যক্তি ইউক্রেন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তি নাকি পাইলটকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ও যেকোনো ইউরোপীয় দেশের নাগরিকত্বের প্রলোভন দেন।
এফএসবির এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা তাসকে বলেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট—যাকে রাশিয়া “অবাঞ্ছিত সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করেছে—এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল অথবা এটি তাদের নাম ব্যবহার করে আড়াল করা হয়েছিল।
তবে বেলিংক্যাট এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এসব দাবি “পুরোপুরি মিথ্যা”।
এফএসবি ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দাদের “ষড়যন্ত্রে সৃজনশীলতার অভাব” বলে কটাক্ষ করেছে এবং জানিয়েছে, ২০২২ সালেও তারা অনুরূপ অভিযোগ তুলেছিল—যখন যুক্তরাজ্যের সহায়তায় ইউক্রেন একটি উন্নতমানের সুখই সু–৩৪ যুদ্ধবিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল বলে রাশিয়া দাবি করেছিল।
তখনও বেলিংক্যাট এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
রাশিয়া, ইউক্রেন ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা বর্তমানে তীব্র তথ্যযুদ্ধের মধ্যে লিপ্ত, যখন স্থলযুদ্ধে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে পূর্ব ইউক্রেনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু ফ্রন্টলাইনে তেমন অগ্রগতি নেই।
এছাড়া আকাশপথেও চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা—প্রতিদিনই দুই পক্ষ শত শত আকাশ হামলা চালাচ্ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রাশিয়ার হামলায়, বিশেষত কিঞ্জাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/