একটি বেসরকারি চীনা মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গত মঙ্গলবার উন্মোচন করেছে ওয়াইকেজে-১০০০ (YKJ-1000) নামের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং প্রতিরোধ এড়াতে দ্রুত গতিবদল করতে সক্ষম।
চীন গত ৩ সেপ্টেম্বর বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে বিভিন্ন ধরনের হাইপারসনিক অস্ত্র প্রদর্শন করেছে। এক বিশেষজ্ঞ বলেন, হাইপারসনিক প্রযুক্তি খাতে চীনের শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা রয়েছে, যা বহুস্তরীয় হাইপারসনিক প্রকল্প বাস্তবায়নে ভিত্তি তৈরি করছে।
বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি লিংকোং তিয়ানশিং টেকনোলজি মঙ্গলবার তাদের উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তুলে ধরে।
ভিডিওতে কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ওয়াইকেজে-১০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর পাল্লা ৫০০ থেকে ১,৩০০ কিলোমিটার, গতি ম্যাক ৫ থেকে ৭ এর মধ্যে, এবং এতে ৩৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষমতা রয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে বহন করা যায়। উৎক্ষেপণের পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং আঘাত হানার আগে সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক হামলা এড়াতে নিজে থেকেই জটিল গতিবদল সম্পন্ন করতে সক্ষম।
ভিডিওতে আরও বলা হয়, ওয়াইকেজে-১০০০ একটি বুস্ট-গ্লাইড ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, যার গ্লাইডার অংশে অতিরিক্ত রকেট ইঞ্জিন রয়েছে। ভিডিওতে প্রদর্শিত পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে দেখা গেছে।
কোম্পানিটি গ্লোবাল টাইমসকে জানায়, ওয়াইকেজে-১০০০–এর বেসিক সংস্করণ ইতোমধ্যে গণউৎপাদনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ‘স্বর্ম কোলাবোরেশন’ প্রযুক্তি সমন্বিত উন্নত সংস্করণটির উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ মাত্রায় চালানো হচ্ছে।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা লাইনের পেছনে থাকা উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু—যেমন কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, রাডার স্থাপনা—দ্রুত ও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে এর গতি ও উচ্চ-রেজোলিউশন সেন্সরের সহায়তায় এটি দ্রুত পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতাও পরিচালনা করতে পারে।
বেইজিংভিত্তিক ‘অ্যারোস্পেস নলেজ’ (Aerospace Knowledge) ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক ওয়াং ইয়ানান গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ডেভেলপারের প্রকাশিত ভিডিওতে প্রদর্শিত ওয়াইকেজে-১০০০–এর সক্ষমতা “খুবই চিত্তাকর্ষক”।
তার মতে, বেসরকারি কোম্পানির হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে কাজ করা যৌক্তিক, কারণ মহাকাশ ও হাইপারসনিক প্রযুক্তির মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের রাষ্ট্রীয় গবেষণা অবকাঠামো ও সুবিধাসমূহই প্রধান সহায়তা করছে বলে তিনি মনে করেন।
৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে চীন YJ-19, YJ-17, YJ-20 অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রসহ YJ-21, DF-17, DF-26D–এর মতো একাধিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে।
অক্টোবরের chinanews.com–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, লিংকোং তিয়ানশিং হাইপারসনিক ফ্লাইট প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক প্রয়োগে বিশেষজ্ঞ। তাদের রয়েছে হাইপারসনিক প্ল্যাটফর্মের নকশা, পেশাদার রকেট অ্যাসেম্বলি দল এবং অ্যাসেম্বলি থেকে পরীক্ষণ ও উৎক্ষেপণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিজস্বভাবে সম্পন্ন করার সক্ষমতা।
কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারা একাধিক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মহাকাশ ও বিমান শিল্প প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করছে।
কোম্পানিটি দাবি করেছে, তাদের মূল দল বড় জাতীয় হাইপারসনিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছে এবং ধারণাগত নকশা, সিমুলেশন যাচাই থেকে শুরু করে উড্ডয়ন পরীক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ গবেষণা-উন্নয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি প্রয়োজনীয় সামরিক অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
মাহফুজ/