ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা? আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ঘিরে বেরোবির স্মারক মাঠে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ রাজধানী ও গাজীপুরে আ.লীগের ৪৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার উপসচিব হলেই আগের এসিআর পাঠাতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হাইড্রেশন ব্রেক ম্যাচের গতি নষ্ট করছে: টুখেল বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি ‘মেসির মতো আর কেউ আসবে না’ বরিশালে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে, পিছিয়ে কর্মসংস্থানে সেনেগালকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নরওয়ে ২৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সহযোগিতার নতুন দিগন্তে ঢাকা-কুয়ালালামপুর আমাদের স্যার শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন ২৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য সবকিছুই থাকছে ডালাসের গর্জনে টিএসসিতে উল্লাস ইসলামী ব্যাংকে বায়তুল মালের নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় ২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কোন দলের বিপক্ষে কত দেখে নিন যে কারণে বন্ধ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ এমবাপ্পের গোলে ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে ফ্রান্স গোল করেই রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসালেন এমবাপ্পে বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বোগডানোভিচ জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি

যৌন অপরাধী এপস্টেইন কেলেঙ্কারির আরও ১৯ ছবি প্রকাশ, আছেন ট্রাম্পও

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম
যৌন অপরাধী এপস্টেইন কেলেঙ্কারির আরও ১৯ ছবি প্রকাশ, আছেন ট্রাম্পও
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের আলোচিত আরও ১৯টি ছবি প্রকাশ করেছে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। যার মধ্যে তিনটি ছবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা গেছে। রয়টার্সের খবর।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ছবিগুলোর তিনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্পষ্ট উপস্থিতি চিহ্নিত করা গেছে। 

একটি সাদা-কালো ছবিতে ট্রাম্পকে একাধিক নারীর সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে তাকে এপস্টেইনের পাশে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। অপেক্ষাকৃত অস্পষ্ট তৃতীয় ছবিতে ট্রাম্পকে এক নারীর পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। 

তবে, ছবিগুলো কবে ও কোথায় তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া, সব ছবিতে নারীদের চেহারা ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।

হাউজ ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা জানান, এপস্টেইনের সম্পত্তি থেকে সরবরাহ করা ৯৫ হাজারের বেশি ছবি তারা পর্যালোচনা করছেন।

এই দফার ছবিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী স্টিভ ব্যানন, বিল গেটস এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার্সকেও দেখা যায়।

এ বিষয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, এপস্টেইনকে সবাই চিনত। তিনি পাম বিচ জুড়ে ঘুরে বেড়াতেন। তার সঙ্গে সবারই ছবি আছে। বলতে গেলে) শত শত মানুষের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। তাই এটা (আমার সঙ্গে ছবি থাকা) তেমন বড় কোনও বিষয় না।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছে। সংবাদমাধ্যমের উচিত ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি না করে জিজ্ঞেস করা—এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেন ডেমোক্র্যাটরা তার আশপাশে থাকতে চেয়েছিল।

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মার্কিনির ধারণা, প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক আড়াল করেছেন এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনের মরদেহ পাওয়া যায়, যা আত্মহত্যা বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তবে বিচার বিভাগ জুলাই মাসে জানায়, এপস্টেইন মামলায় তৃতীয় কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা আরও জানায়, কোনও ক্লায়েন্ট তালিকা, যৌন পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করার প্রমাণও মেলেনি।

১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে সখ্যতা ছিল। তবে ট্রাম্পের দাবি, যৌন হয়রানি এবং নারী পাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করার আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর এপস্টেইনের নির্যাতন বা পাচারের বিষয়ে কিছু জানতেন বলে বারবার দাবি করে আসছেন তিনি।

সুলতানা দিনা/

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তি কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বুর্গেনষ্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠকে মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, সম্পাদিত এই চুক্তিটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো মাত্র। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিপজ্জনক সংঘাত সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। এই চুক্তি আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। শেষ মুহূর্তে লেবাননকেন্দ্রিক কিছু মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া রক্ষা পায়।

পাকিস্তান কেবল পরোপকারের জন্য এই মধ্যস্থতায় জড়ায়নি। এর পেছনে দেশটির নিজস্ব সুনির্দিষ্ট স্বার্থ ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সেখানে যুদ্ধ চললে তেলের দাম বাড়ত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হতো। তাই এই মধ্যস্থতা ছিল পাকিস্তানের জন্য একধরনের কৌশলগত আত্মরক্ষা।

এই কূটনীতির প্রথম সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের আলোচনা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মধ্যস্থতা সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে সংকটের উৎস হিসেবে নয়, বরং সংকট সমাধানের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য আসল পুরস্কার লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমলে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জ্বালানিসংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফল মধ্যস্থতার ফলে পাকিস্তান এখন ইরান, সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য রুটে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘকাল ধরে দুবাই ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমিরাত ইরানি ব্যবসার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান এখন বিকল্প বাণিজ্য রুটের সন্ধান করছে। পাকিস্তান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি বিকল্প রুট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এদিকে চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরূকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতিতে পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক বিজয়ী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসলামাবাদের তৈরি করা একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এই কূটনৈতিক ট্র্যাকটি পরিচালনা করছে। তবে ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ স্পষ্ট করেই বলেছেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসুক, তা ইসরায়েল একেবারেই পছন্দ করছে না। অবশ্য জেরুজালেম মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান, আফগানিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে পাকিস্তানের অবস্থান তাকে একটি স্থায়ী কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। অতীতে ওসামা বিন লাদেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট–কোনো কিছুই ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ভৌগোলিক অবস্থানগত শক্তি কোনো আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না, এটি একটি বাস্তব সত্য। ইসরায়েলের অস্বস্তির মূল কারণও এটিই।

সূত্র: দ্য ডন, জেরুজালেম পোস্ট

ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?
ছবি: সংগৃীহত

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত চকচকে কালো দরজাটি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন। প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে এই বাড়িটি বহু বিখ্যাত নেতার সাক্ষী হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এখানে কাটিয়েছেন মোট ৯ বছর। ১৯৮০-এর দশকে ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচার প্রায় ১২ বছর এবং টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা এক দশক এখানে বাস করেছেন।

তবে গত ১০ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এই বাসভবনে এসেছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মালপত্র গোছানোর আগেই অনেককে বিদায় নিতে হয়েছে। শুধু গত চার বছরেই চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন দেখেছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়ম

যুক্তরাজ্যের ভোটাররা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো সরাসরি তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। এর পরিবর্তে, ভোটাররা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব কমন্স’-এর সদস্য (এমপি) নির্বাচন করেন। পার্লামেন্টে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, সাধারণত সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে যেকোনো সময় নেতা পরিবর্তন করতে পারে। যদি কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী দলের পর্যাপ্ত সদস্যের আস্থা হারান, তবে তাকে পদ ছাড়তে হয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব চলে যায়।

এই ব্যবস্থার কারণে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন সম্ভব। তবে ক্ষমতাসীন দলটির হাতেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর সাধারণ নির্বাচন হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে যেকোনো সময় আগাম নির্বাচন দিতে পারে। গত এক দশকে এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে, যা দেশটির রাজনীতিতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

ব্রেক্সিট: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে জটিল বিচ্ছেদ

এই রাজনৈতিক সংকটের শুরু ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া) গণভোটের মাধ্যমে। ওই ভোটে অল্প ব্যবধানে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় জনগণ। এর ফলে দেশটির রাজনীতিতে যে বড় ধরনের মেরূকরণ শুরু হয়, তার প্রভাব এখনো চলছে।

তৎকালীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি বলেছিলেন, তিনি জিতলে ইইউ সদস্যপদের বিষয়ে গণভোট দেবেন। নির্বাচনে জিতে তিনি ক্ষমতায় ফিরলেও গণভোটের ফলাফল তার পক্ষে যায়নি। তিনি ইইউ-তে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ পার্টিকে পুরোপুরি বদলে দেয়। দলটির অনেক পুরোনো ভোটার দল ছেড়ে পপুলিস্ট বা জনমতভিত্তিক ব্রেক্সিট আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রথাগত শ্রমজীবী শ্রেণির সমর্থকরাও ব্রেক্সিটকে সমর্থন করেন।

মে, জনসন, ট্রাস ও সুনাক যুগ

ব্রেক্সিট আন্দোলনের সময় ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ইইউ থেকে বের হলে অভিবাসন কমবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) বড় তহবিল পাবে। কিন্তু করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। উল্টো ব্রিটেনজুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা।

ক্যামেরনের পর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া থেরেসা মে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ২০১৯ সালে চোখের জলে বিদায় নেন। এরপর ‘গেট ব্রেক্সিট ডান’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসেন বরিস জনসন। অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তার সময়েই রেকর্ডসংখ্যক মানুষ দেশটিতে প্রবেশ করে, যা দলের প্রতি জনগণের আস্থা ধসিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত লকডাউনের নিয়ম ভেঙে ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি করা (পার্টিগেট কেলেঙ্কারি) এবং এক যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত নেতাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জনসন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর লিজ ট্রাস আসেন, যিনি মাত্র ৪৫ দিন ক্ষমতায় থেকে ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তার কর ছাড়ের বিতর্কিত ‘মিনি-বাজেট’ আর্থিক বাজারে ধস নামায়। ট্রাসের পর আসেন ঋষি সুনাক। তিনি প্রায় দুই বছর টিকলেও মহামারি ও যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা করতে পারেননি। ফলে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির কাছে দলটির বিশাল পরাজয় ঘটে।

লেবার পার্টিতেও সংকট, দোরগোড়ায় কি নতুন কেউ?

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার আগেই তার সরকারও এখন খাদের কিনারায়। নীতি পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে তার নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা নিয়ে স্টারমার কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এবং তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্তত দুজন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী তাকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েছেন ব্রেক্সিটের অন্যতম কারিগর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদর্শিক মিত্র নাইজেল ফারাজ। তার দল ‘রিফর্ম ইউকে’ সাম্প্রতিক নির্বাচনে দারুণ ফলাফল করে মূলধারার রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে।

আইন অনুযায়ী ২০২৯ সালের আগস্টের আগে স্টারমারকে নির্বাচন ডাকতে হবে। তিনি যদি দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারেন, তবে হয়তো ততদিন টিকে থাকবেন। কিন্তু তার ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে। দল যদি নতুন কোনো নেতা নির্বাচন করে, তবে ২০২৯ সালের আগেই দেশে নতুন সাধারণ নির্বাচনের দাবি জোরালো হবে।

ওপিনিয়ন রিসার্চ সংস্থা ‘মোর ইন কমন’-এর ইউকে ডিরেক্টর লিউক ট্রিল বলেন, ‘২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে প্রতিটি ভোটই মূলত পরিবর্তনের পক্ষে ছিল। জনগণ আধুনিক ব্রিটেনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিবিসি নিউজ

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মাত্র গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার পার্লামেন্টে ফেরা বার্নহ্যামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে আবেগঘন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসা ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন লেবার নেতা এবং সেই সূত্রে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ‘নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

এ সময় স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও দুই সন্তানকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সরকার একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হ্রাসের কারণে চাপে পড়ে।

লেবারের আস্থাহীনতা

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার আর সক্ষম নন। জাতীয় জনমত জরিপগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

যদিও স্টারমার আগে বলেছিলেন তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন, তবে বার্নহ্যামের জয়ের পর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তাকে জানান যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন নিজেকে প্রশ্ন করছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি?’

‘আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেটি আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবসময় আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতা

স্টারমার জানান, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, ‘এর ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

ভাষণ শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন স্টারমার। এ সময় ব্রেক্সিটবিরোধী এক কর্মী কাছাকাছি একটি সড়ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীত ‘ওড টু জয়’ বাজিয়ে তার বক্তব্যে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে এক্সে দেওয়া পোস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।’

অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ঘোষণা দেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার্নহ্যামের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অস্তিত্বের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বার্নহ্যামের রয়েছে।’

‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’

গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ের পর বার্নহ্যাম বলেছিলেন, লেবারের সামনে এটি ‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবারের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও, তার জনপ্রতিনিধিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যাম ২০০০-এর দশকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তবে লেবারের ‘সফট-লেফট’ ঘরানার এ নেতা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে দলের কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখতে পারেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম নেতা পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপের মুখে অবশেষে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ’এটা স্পষ্ট যে, আমার দল পরিবর্তন চাইছে। আমার সংসদীয় দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে- পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের সেই বার্তা বুঝতে পেরেছি এবং সানন্দে তা গ্রহণ করছি।’

থিওটোনিয়াস/

ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২
প্রতীকী ছবি।

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২১ জুন) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অধীনে ক্যারিবিয়ান সাগরে এই অভিযান চালানো হয়।

সাউথকম জানিয়েছে, তারা ‘ছয় জন পুরুষ সদস্য সম্পর্কে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে। তবে তাদের উদ্ধার বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নৌযানটি পানিতে চলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়।

গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযান শুরু করার পর থেকে সর্বশেষ এই হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ অভিযান শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

তবে এমন হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/