যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত আরও নথি গতকাল ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। নতুন নথিতে উঠে এসেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু তথ্যও। এর আগে গত শুক্রবার কয়েক হাজার নথি প্রকাশ করা হয়েছিল।
নতুন প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিগুলোর একটিতে এক ইমেইল রয়েছে। আর সেটিতেই আছে ট্রাম্পের কথা। ইমেইলে বলা হয়েছে, ‘আগে যতবার ধারণা করা হয়েছিল, এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে তার চেয়েও বেশিবার ভ্রমণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’
ইমেইলে আরও বলা হয়েছে, ‘১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে অন্তত আটটি ফ্লাইটে তাকে যাত্রী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি ফ্লাইটে গিলেন ম্যাক্সওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি মারলা ম্যাপলস, তার মেয়ে টিফানি, ছেলে এরিকসহ অন্যদের সঙ্গে ভ্রমণ করেছেন।’
ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘১৯৯৩ সালের একটি ফ্লাইটে যাত্রীতালিকায় শুধু ট্রাম্প ও এপস্টিনের নাম ছিল। আরেকটি ফ্লাইটে মাত্র তিনজন যাত্রী ছিলেন– এপস্টিন, ট্রাম্প এবং ২০ বছর বয়সী একজন তরুণ।’ ওই তরুণের নাম গোপন রাখা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, ‘আরও দুটি ফ্লাইটে যাত্রীদের মধ্যে এমন দুজন নারী ছিলেন, যারা ম্যাক্সওয়েল মামলায় সম্ভাব্য সাক্ষী হতে পারেন।’
২০২২ সালে গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের অবৈধ যৌন কর্মকাণ্ডে জড়াতে প্রলুব্ধ করার ষড়যন্ত্র এবং পাচারের মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
ট্রাম্পের তথ্য থাকা ওই ইমেইলটি পাঠানো হয় ৭ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে। এর প্রেরক ও প্রাপক দুজনের নামই গোপন রাখা হয়েছে। তবে ইমেইলের নিচে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের একজন সহকারী মার্কিন আইনজীবীর পদবির উল্লেখ রয়েছে, তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বছর এপস্টিনের বন্ধু ছিলেন। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০৪ সালের দিকে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়, যা এপস্টিনের প্রথম গ্রেপ্তারের বহু আগের ঘটনা। ট্রাম্প বরাবরই এপস্টিন-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। নথিতে ফ্লাইটে তার উপস্থিতির উল্লেখ থাকলেও, বিষয়টি কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিগুলোর বহু পাতা কালো কালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কী কী তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং কেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ না করতে তারা অত্যন্ত সতর্ক ভূমিকা পালন করছে। এ কারণে যেসব ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোতে নারীদের মুখ কালো করে দেওয়া হয়েছে। তবে গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের কাছে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, প্রকাশিত নথিতে তার নাম দেখা যাচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে জানানোর পরও বিচার বিভাগ তা সরাতে পদক্ষেপ নেয়নি।
নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন আইনজীবী জে ক্লেটন বিচারকদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, ‘ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তার স্বার্থে এপস্টিনের সঙ্গে থাকা নারীদের ছবিতে তাদের মুখ ঢেকে দেওয়া হয়েছে, এমনকি সব নারী যে ভুক্তভোগী ছিলেন তা জানা না থাকলেও। কারণ প্রতিটি ছবিতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা বিভাগের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছবির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিকে কেউ কেউ অতিরিক্ত মুছে দেওয়া বলে মনে করতে পারেন। তবে সীমিত সময়ের মধ্যে বিভাগ মনে করেছে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় রিডাকশন পন্থা অবলম্বনের দিকেই ঝুঁকে পড়া উচিত।’
তবে বিচার বিভাগ এসব ছবির বিস্তারিত দেয়নি। কোন ছবি কখন বা কোথায় তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। নথিতে কারও ছবি থাকা মানেই যে, তিনি কোনো অপরাধে জড়িত এমন নয়। যাদের নাম বা ছবি এসেছে, তাদের অনেকেই এপস্টিন-সংক্রান্ত কোনো কিছুতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সর্বশেষ প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে জেফ্রি এপস্টিনের একটি পুরোনো মার্কিন পাসপোর্টের ছবিও আছে। পাসপোর্টটি ১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইস্যু করা হয় এবং ১৯৯৫ সালে এর মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে শুক্রবার প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এপস্টিনের আরেকটি পাসপোর্ট দেখা গেছে, যা ২০০৯ সালের মার্চে ইস্যু করা হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি