তাইওয়ানের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় বোয়িং এবং নর্থরপ গ্রুম্যানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু প্রতিরক্ষা সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্টের ১০ জন ব্যক্তি এবং ২০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এর মধ্যে মিসৌরির সেন্ট লুইসে অবস্থিত বোয়িং-এর উৎপাদন কেন্দ্রটিও অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যবস্থার ফলে চীনে থাকা এসব কোম্পানি ও ব্যক্তিদের সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং চীনের কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্রের প্যাকেজ বিক্রির ঘোষণা দেয়, যার মধ্যে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির ঘটনা।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থান হলো- দ্বীপটিকে অবশ্যই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সঙ্গে একীভূত হতে হবে। তবে গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে আগে থেকেই তিক্ত হয়ে থাকা চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি এখন একটি বড় বিরোধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
চীনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রতিরক্ষা সংস্থা 'অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ'-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নয়জন ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তা রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ওপর চীনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বোয়িং তাদের সেন্ট লুইস কেন্দ্রে যুদ্ধবিমান তৈরি করে, যেখানে এ বছর বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন হাজারেরও বেশি শ্রমিক ধর্মঘট পালন করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞার শিকার অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে 'নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস কর্পোরেশন' এবং 'এল-থ্রি হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস'।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘তাইওয়ান ইস্যু হলো চীনের প্রধান জাতীয় স্বার্থের মূলকেন্দ্র এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের প্রথম ‘রেড লাইন’ যা অতিক্রম করা যাবে না। তাইওয়ান ইস্যুতে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’’
চীন যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বীপটিকে অস্ত্রসজ্জিত করার এই বিপজ্জনক প্রচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহ করতে বাধ্য, যদিও এই অস্ত্র বিক্রি চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্রমাগত উত্তেজনার সৃষ্টি করে আসছে।
ঘোষিত মোট আটটি অস্ত্র চুক্তির মধ্যে ৪২০টি 'আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম' (ATACMS) রয়েছে। এই সিস্টেমগুলো অনেকটা ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য দেওয়া সিস্টেমগুলোর মতোই।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির সময় জানিয়েছিল যে, এটি তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণ এবং একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় সহায়তা করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করবে।
বিভিন্ন চুক্তির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি তাইওয়ানের নিরাপত্তা উন্নত করতে সাহায্য করবে এবং ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামরিক ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। সূত্র: রয়টার্স
সুমন/