প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শনিবার জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত সামরিক অভিযান, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশটির রাজধানীতে হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা হয়েছে, তা আসলে তার প্রবর্তিত ‘ডন-রো ডকট্রিন’ (Don-roe Doctrine)-এরই অংশ। ‘ডোনাল্ড+মনরো=ডন-রো, এইভাবে পরিভাষাটির উৎপত্তি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, “মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলা আমাদের অঞ্চলে ‘বিদেশি শত্রুদের’ আশ্রয় দিয়েছিল এবং এমন সব ‘হুমকিস্বরূপ আক্রমণাত্মক অস্ত্র’ সংগ্রহ করেছিল, যা মার্কিন স্বার্থ ও জানমালের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, গত রাতে তারা সেই অস্ত্রগুলো ব্যবহারও করেছেন।
ট্রাম্পের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ছিল দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতিগুলোর চরম লঙ্ঘন। এখন আর তা চলবে না। এই নীতি সেই মনরো ডকট্রিন (Monroe Doctrine) পর্যন্ত বিস্তৃত। মনরো ডকট্রিন অনেক বড় একটি বিষয় ছিল, কিন্তু আমরা এখন তাকে অনেকখানি ছাড়িয়ে গেছি, সত্যি অনেকখানি। তারা এখন এটাকে বলছে ‘ডন-রো ডকট্রিন’।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ১৮২৩ সালের ২ ডিসেম্বর কংগ্রেসের এক ভাষণে এই নীতিটি প্রকাশ করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে তার নামানুসারেই পরিচিতি পায়। মনরো ডকট্রিন মূলত পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলোতে বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় ইউরোপীয় শক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি সতর্কবার্তা ছিল।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, মনরোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জন কুইন্সি অ্যাডামস এই নীতিটি তৈরি করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল স্পেন বা ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর নাক গলানো বন্ধ করা। পাশাপাশি রাশিয়া যাতে আলাস্কার দিকে সাম্রাজ্য বিস্তার করতে না পারে, সেটিও ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
গত ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা লাতিন আমেরিকায় বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে মনরো ডকট্রিনের ওপর নির্ভর করেছেন। ১৮৬৫ সালে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বেনিটো জুয়ারেজ যখন ফরাসি সম্রাট ম্যাক্সিমিলিয়ানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, তখন মার্কিন কূটনীতিকরা তাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এই নীতিটি ব্যবহার করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট লাতিন আমেরিকাজুড়ে সামরিক হস্তক্ষেপকে বৈধতা দিতে এই ডকট্রিনের পরিধি আরও বাড়িয়েছিলেন। তবে কিছু গবেষক এই সম্প্রসারণের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বিশেষ করে স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই নীতি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বার্থের পরিপন্থি বামপন্থি সরকারগুলোকে অস্থিতিশীল করার জন্য সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। সূত্র: দ্য হিল
মাহফুজ/