যুক্তরাজ্যে শিশুদের স্থূলতা কমাতে দিনের বেলা টেলিভিশন ও অনলাইনে তথাকথিত জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে এ নির্দেশ কার্যকর করা হয়। সরকার একে শিশুস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ‘বিশ্বে অগ্রণী পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছে।
নতুন এ নিষেধাজ্ঞা চর্বি, লবণ ও চিনি বেশি থাকা খাবারের বিজ্ঞাপনকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, এর ফলে প্রতিবছর শিশুদের খাদ্যতালিকা থেকে সর্বোচ্চ ৭২০ কোটি ক্যালরি বাদ পড়বে।
রাত ৯টার ওয়াটারশেডের আগে প্রচারিত টিভি বিজ্ঞাপন এবং অনলাইনে যেকোনো সময়ের বিজ্ঞাপন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। মন্ত্রণালয় জানায়, এতে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কমবে প্রায় ২০ হাজার। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড বা ২৭০ কোটি ডলারের সুফল মিলবে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমে ঘোষিত এ পদক্ষেপ এখন বাস্তবায়ন করা হলো। এর আগে দুধের শেক, কফি ও মিষ্টিযুক্ত দইয়ের পানীয়সহ প্যাকেটজাত পণ্যে চিনি কর বাড়ানো হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে স্কুলের আশপাশে ফাস্ট ফুড দোকান স্থাপন ঠেকানোর ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য, বিজ্ঞাপন শিশুদের কী ও কখন খাবে-সে সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে। ছোট বয়সেই খাবারের প্রতি পছন্দ গড়ে ওঠে। এতে স্থূলতা ও সংশ্লিষ্ট রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
সরকারি হিসেবে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রায় ২২ শতাংশই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ ১১ বছর বয়সে মাধ্যমিকে ওঠার সময় এই হার এক-তৃতীয়াংশের বেশি হয়ে যায়।
কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাজ্যে পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রধান কারণ দাঁতের ক্ষয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাশলি ডালটন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাত ৯টার আগে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন সীমিত করা এবং অনলাইনে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অতিরিক্ত প্রভাব কমানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা এনএইচএসকে শুধু চিকিৎসায় নয়, রোগ প্রতিরোধেও আরও মনোযোগী করে তুলবে। এতে মানুষ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে।
ওবেসিটি হেলথ অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথারিন জেনার বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাবার ও পানীয়ের বিজ্ঞাপন থেকে সুরক্ষায় বহুদিনের প্রতীক্ষিত পদক্ষেপটিকে স্বাগত জানাই।
ডায়াবেটিস ইউকের প্রধান নির্বাহী কোলেট মার্শালও এ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণদের মধ্যে টাইপ২ ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্থূলতা টাইপ২ ডায়াবেটিসের বড় ঝুঁকির কারণ। এই রোগ তরুণদের ক্ষেত্রে আরও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এতে কিডনি বিকল হওয়া ও হৃদরোগের মতো গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি থাকে।’ সূত্র: এএফপি
নাঈম/