ইসরায়েল-সিরিয়ার বাফার জোন (নিরপেক্ষ এলাকা) পার হয়ে সিরিয়ায় লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের এই অনুপ্রবেশ স্পষ্টভাবে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে। আল–জাজিরার খবর।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের সাইদা আল-গোলান নামে একটি গ্রামে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ১২টি সামরিক যান প্রবেশ করে।
এমন সময়ে ঘটনাটি ঘটল, যখন সিরিয়ার প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় ও মধ্যস্থতায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা চালাচ্ছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, আলোচনাগুলো মঙ্গলবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে গড়ানোর কথা ছিল। গত সোমবার সানাকে দেওয়া এক বক্তব্যে সিরিয়ার সরকারের একটি সূত্র জানায়, এই আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে সিরিয়া তার আলোচনা অযোগ্য জাতীয় অধিকার পুনরুদ্ধারে অবিচল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরায়েল গোলান মালভূমির বাইরে সিরিয়ার ভূখণ্ড দখল সম্প্রসারিত করেছে এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় একাধিক অভিযান ও বোমাবর্ষণ চালিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ সিরিয়ায়, বিশেষ করে কুনেইত্রা প্রদেশে অনুপ্রবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার, চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং জমি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করার ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব হামলায় বেসামরিক হতাহত হয়েছে এবং সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে ইসরায়েল সিরিয়াজুড়ে ৬ শতাধিক বার বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন দুইটি হামলা হয়েছে।
এদিকে, গোলান মালভূমি ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিলেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সুলতানা দিনা/