ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মকেন্দ্রিক বিভাজনের প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বাংলাদেশের উদাহরণ টেনেছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘জাতি, উপাসনা পদ্ধতি বা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের জন্য চরম ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, ঠিক যেমনটা আজ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ‘আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা।’
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, ‘সেখানকার (বাংলাদেশ) ঘটনা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার দোকান খুলে বসেছেন, হিন্দু সমাজ ও সনাতন ধর্মকে ভেঙে ফেলার জন্য তাদের ক্ষমতার অভাব নেই; কিন্তু বাংলাদেশের ঘটনায় তাদের মুখে যেন ফেভিকল আর টেপ সেঁটে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে কোনো মোমবাতি প্রজ্বালন মিছিলও নেই। এটা আমাদের জন্যও একটা সতর্কবার্তা।’
আদিত্যনাথ সতর্ক করে বলেন, ‘যারা সমাজকে বিভক্ত করে তারা কখনোই মানুষের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না। যখন ক্ষমতায় ছিল, এই মানুষগুলো নিজের পরিবারের বাইরে কিছু ভাবতে পারেনি। তারা আবার অনেক স্লোগান দেবে, কিন্তু সুযোগ পেলে সেই আগের কাজই করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন, তাদের সেই কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার সব সময় সনাতন বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে পাশে আছে। বিভাজনকারীদের কখনোই আমাদের দুর্বল করতে দেবেন না। আমরা যদি এই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যৎ হবে সনাতন ধর্মের। রাম মন্দিরের ওপর যেমন নিশান উড়ছে, তেমনি সারা বিশ্বে সনাতন পতাকা উড়বে, তখন বাংলাদেশে দুর্বল এবং দলিত হিন্দুদের ওপর হাত তোলার সাহস কেউ পাবে না।’
তিনি দাবি করেন, সাধু-সন্তরাই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার পথ তৈরি করেন। তার ভাষ্যমতে, ‘অযোধ্যায় বিশাল রাম মন্দির নির্মাণ হলো শ্রদ্ধেয় সন্তদের ঐক্যের ফল।’
তিনি দাবি করেন, ‘অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্তদের ঐক্যের ফল। ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর, ভারত বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছে। সবাই উন্নয়নে অবদান রেখেছিলেন, কিন্তু অযোধ্যার মূল-আত্মাই শ্রদ্ধা এবং রামলাল্লা পুনর্নির্মাণের যোগ্য এবং এই অনুভূতির মূর্ত রূপ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’
সুলতানা দিনা/