দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাঁড়াশি সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের প্রথম চালান বিক্রি নিশ্চিত করেছে।
টাইম ম্যাগাজিনের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এই বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যার বাজারমূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী দিন এবং সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স টাইম-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি সম্পাদন করেছেন, যা আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের উপকারে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যারা ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো সংস্কারে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক এবং প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের পশ্চিম গোলার্ধকে মাদক-সন্ত্রাসী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশি শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করছেন।”
এই বিক্রির বিস্তারিত তথ্য প্রথম প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফোর’ (Semafor)। তারা জানায়, এই চুক্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থ মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হচ্ছে, যার মধ্যে একটি কাতার ভিত্তিক ব্যাংকও রয়েছে।
মাদুরোকে বন্দি করার পর ট্রাম্প বলেছিলেন যে, ক্ষমতার ‘যথাযথ ও বিচক্ষণ হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল জব্দ ও বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে। এই অর্থ মার্কিন সরকারের মাধ্যমে এমনভাবে বিতরণ করা হবে যা ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে আসবে, কোনো দুর্নীতি বা সরকারের পকেটে যাবে না।’
এই মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা আমাদের দেশের বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানিগুলোকে সেখানে পাঠাব। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে, জরাজীর্ণ তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।” সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
মাহফুজ/