গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় অনড় অবস্থান বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সমালোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প অনলাইনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত টেক্সট বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছেন। ওই বার্তায় ম্যাক্রোঁ গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মতবিরোধ নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বৃহস্পতিবার বিকেলে প্যারিসে জি–৭ বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
বার্তায় ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে লিখেছিলেন, “আমার বন্ধু, সিরিয়া নিয়ে আমরা পুরোপুরি একমত। ইরান ইস্যুতেও আমরা দারুণ কিছু করতে পারি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে আপনি কী করতে চাইছেন, আমি তা বুঝতে পারছি না।”
রয়টার্সের বরাতে ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বার্তাটি সত্য।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ট্রাম্প হুমকি দেন, ফরাসি মদ ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় চালু হওয়া তার তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে ম্যাক্রোঁকে যুক্ত করতে চাপ সৃষ্টি করতেই এই হুমকি দেন ট্রাম্প। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের আওতা অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতে চান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “সে কি সত্যিই তা বলেছে? ঠিক আছে, কেউই তাকে চায় না, কারণ খুব শিগগিরই সে ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তার মদ আর শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাবো, তখন সে যোগ দেবে—তবে যোগ না দিলেও আমার কিছু যায় আসে না।”
২০২৭ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ম্যাক্রোঁকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হবে। এ প্রসঙ্গে আজ মঙ্গলবার এএফপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে “অগ্রহণযোগ্য” এবং “অকার্যকর” বলে মন্তব্য করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/