ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি শেষের বিবর্ণতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের নাগরপুরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা ও চাল বিতরণ আত্মপরিচয়ের খোঁজে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১০ জন আটক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজনের ঘোষণা ইয়াংজির বুনো পরিবেশেই হচ্ছে স্টার্জন মাছের প্রজনন শেরপুরে শ্বশুর-জামাই দ্বন্দ্ব, গাছে বেঁধে জামাইকে মারধরের অভিযোগ রাজশাহীতে বিদ্যুতের খুঁটিতে যুবকের মৃত্যু

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে নানা বিতর্ক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০০ এএম
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে নানা বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বোর্ড অব পিস। যুদ্ধবিরতির শুরু থেকে এ বিষয়ে জানা গেলেও যতই দিন যাচ্ছে, এ বিষয়কে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। সামনে আসতে শুরু করেছে নানা ধরনের বিতর্ক।

নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের তালিকায় এরই মধ্যে ঠাঁই পেয়েছেন ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসন সমর্থনকারী ও বরাবরই ফিলিস্তিনবিরোধী হিসেবে পরিচিত সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এ ছাড়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও রয়েছেন সেই বোর্ডে। স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ১০০ কোটি ডলার ফি এবং জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন–এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

কারা ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বহু নেতার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেস, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফার হাসান, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎসকি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি ‘গভীরভাবে বিবেচনা করছেন’ বলে জানা গেছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে।

বেশ কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভ, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োইয়েভ, ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক তো লাম, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো (তিনি বলেছেন অংশ নিতে ‘প্রস্তুত’), কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন, তবে তিনি সদস্য হতে কোনো অর্থ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

যোগ দেওয়ার শর্ত কী?
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, যোগ দেওয়ার জন্য কঠোর কোনো শর্ত নেই। তবে যারা তিন বছরের পরিবর্তে স্থায়ী সদস্য হতে চান, তাদের ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে। কর্মকর্তারা বলেন, এই অর্থ গাজা পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে।

তবে রয়টার্সের দেখা চিঠি ও খসড়া সনদ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পরও আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন। এই বোর্ডকে ভবিষ্যতে অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলায় সম্প্রসারণ করতে চান।
বোর্ড অব পিস কি জাতিসংঘকে দুর্বল করবে?

চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, এই বোর্ড ‘বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানে এক সাহসী নতুন পথ’ শুরু করবে। এতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠা, শান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার দায়িত্ব এই পরিষদের।

ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ জানিয়েছে, সনদে ‘আরও দ্রুত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক শান্তি-নির্মাণ সংস্থা’র প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে এবং উল্লেখ করা হয়েছে স্থায়ী শান্তির জন্য ‘বারবার ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরে আসার সাহস’ দরকার।

হোয়াইট হাউস দাবি করছে, এই বোর্ড জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপি সংবাদ সংস্থাকে বলেছে, এই সনদ ‘গাজার একমাত্র কাঠামোর বাইরে’। তিনি আরও বলেন, ‘এটি বড় ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করে, বিশেষ করে জাতিসংঘের নীতি ও কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা সম্পর্কে, যা কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের খালেদ এলগিন্ডি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন ধারণা আসছে যে তারা শান্তি বোর্ডের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে এবং এমনকি বর্তমান জাতিসংঘ ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের কথাও বলতে চায়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে গাজা দিয়ে শুরু হতে পারে, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটি বোর্ডের শেষ নয়।’

এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমিয়েছে এবং গাজা বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ ঠেকাতে ভেটো ব্যবহার করেছে। ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ও জাতিসংঘ ডেমোক্রেসি ফান্ডসহ ৩১টি জাতিসংঘ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
বোর্ডটি কীভাবে পরিচালিত হবে?

দুটি অধীনস্থ উচ্চপর্যায়ের বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর একটি প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ড, বিনিয়োগ ও কূটনীতির ওপর উচ্চপর্যায়ের নজরদারি করবে। আরেকটি গাজা নির্বাহী বোর্ড, গাজায় মাঠপর্যায়ের কাজ তদারকি করবে, যা পরিচালনা করবে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা।

ট্রাম্প সাত সদস্যের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিরা কি প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছেন?

কোনো নির্বাহী বোর্ডেই ফিলিস্তিনি সদস্য নেই। গাজা নির্বাহী বোর্ডে মাত্র একজন ইসরায়েলি রয়েছেন। তিনি রিয়েল এস্টেট ধনকুবের ইয়াকির গাবাই, যিনি ইসরায়েলে জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে সাইপ্রাসে থাকেন। বোর্ডে কাতার ও তুরস্কের রাজনীতিকরাও রয়েছেন। তারা যুদ্ধে ইসরায়েলের ভূমিকার সমালোচক।

ফিলিস্তিনি রাজনীতিক মুস্তাফা বারঘৌতি বিবিসিকে বলেন, ফিলিস্তিনিরা ‘আরও বিস্তৃত প্রতিনিধিত্ব’ আশা করেছিলেন। তিনি এটিকে ‘কিছু আন্তর্জাতিক উপাদানসহ একটি মার্কিন বোর্ড’ বলে বর্ণনা করেন এবং পুনর্গঠনের জন্য ইসরায়েল রাফাহ ক্রসিং খুলবে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এদিকে নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, নির্বাহী বোর্ড গঠনের আলোচনায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এই উদ্যোগ ছিল ‘সমন্বয়হীন’। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এটিকে ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেন, গাজার জন্য প্রশাসনিক কমিটি নয়, হামাসকে অপসারণই প্রয়োজন।
বোর্ড অব পিস কি গাজা সমস্যার সমাধান করতে পারবে?

এই বোর্ডের চ্যালেঞ্জের পরিসর বিশাল। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার ৮০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ইসরায়েলি বিধিনিষেধ এখনো ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা। হামাস জানিয়েছে, একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চুক্তির অংশ হিসেবেই তারা নিরস্ত্রীকরণ বিবেচনা করবে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাস নিরস্ত্র না হলে তারা স্থল সেনা প্রত্যাহার করবে না। এই বাস্তবতায় ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস কত দ্রুত টেকসই শান্তির পথে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: বিবিসি

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল। দুই পক্ষের মধ্যকার এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

 শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতভর লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ হামলার জেরে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বাতিল করা হয়েছে।

সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে লেবানন কর্তৃপক্ষ এটিকে চলমান সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে লেবাননের পরিস্থিতির কারণে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকটি আপাতত স্থগিত হলেও আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

এসএন/

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

শুক্রবার (১৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।  এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ।

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সহায়তায় চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র টেকসই সমাধান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

এসএন/

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানায় যে, তাদের বাহিনী গত রাতে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে, যা মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া নতুন চুক্তিটিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

লেবাননে এই চলমান লড়াই নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে। কারণ এই চুক্তিতে লেবাননসহ "সব ফ্রন্টে" সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করছে। একই সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননের "আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব" নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেই অবস্থান করবে।

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন, যেখানে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস এর পেছনে লজিস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা উল্লেখ করলেও, এই ঘোষণাটি মূলত আল-মায়াদিন (হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক মিত্র একটি প্যান-আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল)-এর একটি রিপোর্টের পর আসে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইরান সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে বিলম্ব করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে প্যালেস অব ভার্সাই-এ নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে এই প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভ্যান্স ইসরায়েলকে একটি স্পষ্ট ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ট্রাম্পই হচ্ছেন ‘এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড
ছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে শুক্রবার (১৯জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা আর হচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র গত রাতে জানান যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার পূর্বপরিকল্পিত সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মূলত এর পরপরই সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শুক্রবার (১৯জুন) এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে একটি পূর্বপরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ইরানের সাথে একটি নতুন দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখেও ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।