ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় আগামী জুনের মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হোক। এই লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে দুই পক্ষকেই আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার জেলেনস্কি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রস্তাব দিয়েছে যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার দুই প্রতিনিধি দল যেন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৈঠকে বসে। আমরা আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছি।’’
ওয়াশিংটন বা মস্কো থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাত বন্ধে চাপ দিয়ে আসছেন।
শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপট
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। সেই আলোচনার বিষয়ে শনিবার সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার মতো ‘কঠিন বিষয়গুলো’ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
আলোচনায় প্রথমবারের মতো দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। তবে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, এর জন্য আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন।
জুন মাসের মধ্যে চুক্তি করার সময়সীমা নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘‘আমেরিকানরা বলছে তারা জুনের আগেই সব শেষ করতে চায়। সম্ভবত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা এই গ্রীষ্মের মধ্যেই সমাধান খুঁজছে।’’
বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার ব্যাপক হামলা
একদিকে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া হামলা অব্যাহত রেখেছে। হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে এই হামলার কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী ডেনিস শমিহাল জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে রাশিয়া ৪০০ এর বেশি ড্রোন এবং ৪০টি মিসাইল দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সাবস্টেশন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে ইউক্রেন। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/