যুক্তরাষ্ট্র সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লঘু করতে প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। এমন অবস্থায় ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু আলোচনার পর এবার দেশটির সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি। ওমানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা ইরান-আমেরিকা আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সংগত’ চুক্তিতে পৌঁছানোর উপায় এবং আলোচনার টেবিলে ফেরার গুরুত্ব নিয়ে উভয় পক্ষই জোর দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা লারিজানি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে, যিনি এই আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, লারিজানির এই মাস্কাট সফরের উদ্দেশ্য আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা। বিশ্লেষকরা এই সফরকে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক সংকেত’ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং মার্কিন সামরিক তৎপরতার মাঝে সংঘাত এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফার আলোচনার কথা নিশ্চিত করা হলেও এখনও কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
ইতোমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেছেন।
ইসরায়েলি প্রভাব ও পশ্চিমা চাপ
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরায়েলের চাপ উপেক্ষা করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
বাঘাই আরও বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম বৈঠকেই বিস্তারিত সমাধান আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। এবারের মাস্কাট বৈঠক ছিল মূলত একে অপরের সদিচ্ছা যাচাই করার জন্য। তিনি পরিষ্কার করেন যে, ইরান আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার থেকে পিছিয়ে আসবে না।
একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা স্বাধীন ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে একটি কৌশলগত ভুল করেছে।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ইউরেনিয়াম মজুত কমাতে প্রস্তুত তেহরান
আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে দুই পক্ষ থেকে মিশ্র সংকেত পাওয়া গেলেও, সোমবার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে ইরান তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লঘু করতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি। জাতিসংঘ গত বছর জানিয়েছিল যে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ কেজির বেশি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানালেও তেহরান তাদের এই অধিকার বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ব্যালেস্টিক মিসাইল ও আঞ্চলিক রাজনীতির মতো বিষয়গুলো আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও, ইরান শুধুমাত্র পরমাণু ইস্যুতেই মনোযোগ দিতে আগ্রহী।
ওমান সফর শেষ করে আলী লারিজানি কাতার সফরে যাবেন বলে জানা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/