যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ শনিবার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ধরনের আমদানির ওপর সাময়িক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করবেন। সুপ্রিম কোর্ট তার আগের শুল্ক কর্মসূচিকে অবৈধ ঘোষণা করার পর, আইনের অধীনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল যে, জরুরি অর্থনৈতিক আইনের অধীনে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। সেই সিদ্ধান্তের পরপরই ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার তড়িঘড়ি করে ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন।
নতুন এই কর ‘সেকশন ১২২’ নামক একটি ভিন্ন আইনের ওপর ভিত্তি করে আরোপ করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো সম্ভব, তবে ১৫০ দিন পর এর মেয়াদ বাড়াতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
শনিবার ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, তিনি এই ১৫০ দিনের সময়কালকে অন্য কোনো ‘আইনত অনুমোদিত’ শুল্ক জারির কাজে ব্যবহার করবেন। তার প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা বা অসাধু বাণিজ্য নীতির তদন্তের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পণ্য বা দেশের ওপর কর আরোপের আরও দুটি আইনের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করছে।
তিনি পোস্টে লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি অবিলম্বে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে আইনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ শতাংশে উন্নীত করছি। অনেক দেশই দশকের পর দশক ধরে আমাদের ঠকিয়ে আসছিল এবং এর কোনো বিচার ছিল না (যতক্ষণ না আমি এসেছি!)।”
আদালতের ৬-৩ ব্যবধানের সেই রায়ের পর থেকে ট্রাম্প তার বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণই দেখাননি। উল্টো তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিচারপতিদের আক্রমণ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, নিজের ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা তার এখনও রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/