বিদেশে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার হাজার হাজার পাসপোর্ট ব্লক করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পর এ ধরনের ঘটনার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
গত আগস্টে পাকিস্তান সরকার তথাকথিত ‘ভিক্ষুক মাফিয়া’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। অভিযোগ ছিল, তারা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য ভিসার অপব্যবহার করছে। বিষয়টি নিয়ে রিয়াদ থেকে অভিযোগ আসার পর ইসলামাবাদ ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সিকে (এফআইএ) তা দমনের নির্দেশ দেয়।
প্রবাসী পাকিস্তানিদের বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী চৌধুরী সালিক হুসেইন বলেন, বিশেষ করে গালফ দেশগুলোতে উমরাহ ও অন্যান্য ভিজিট ভিসা ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
তিনি পাকিস্তান গভর্ন্যান্স ফোরাম ২০২৬-এ বলেন, ‘আমরা ভিক্ষুকদের বিদেশে পাঠাচ্ছি না। কারও মুখে তো লেখা থাকে না যে সে ভিক্ষুক। তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় উমরাহ ভিসা নিয়ে যায় এবং পরে সেখানে গিয়ে এই কাজ শুরু করে।’
হুসেইন জানান, বিদেশে ভিক্ষাবৃত্তি বা অপরাধে জড়িয়ে পড়া যেসব ব্যক্তিকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদের পুনরায় বিদেশযাত্রা ঠেকাতে পাসপোর্ট ব্লক করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, ‘ভিক্ষাবৃত্তির জন্য আলাদা কোনো ভিসা নেই। তারা সাধারণ ভিসায় যায় এবং সব কাগজপত্র শতভাগ বৈধ থাকে।’
মন্ত্রী জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, ফলে তারা নতুন ভ্রমণ নথি সংগ্রহ করতে পারছে না। এখন পর্যন্ত হাজার হাজার পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে।
বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান এখন শ্রম রপ্তানির মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে। কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। - আরব নিউজ
অমিয়/