ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি এবং বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। এই ঘটনাকে ইসরায়েলি নীতি নির্ধারকরা তাদের ‘রাজনৈতিক গুপ্তহত্যা’ নীতির বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে না দেওয়া এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই অঙ্গীকার করেছিলেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বা ক্ষমতার শীর্ষে থাকবেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। লারিজানির হত্যাকাণ্ড সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন লারিজানি লক্ষ্যবস্তু ছিলেন?
গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে আলী লারিজানিকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সেখানে তাকে ইসরায়েলের জন্য ইরানের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক মস্তিষ্ক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ইসরায়েলের দৃষ্টিতে লারিজানি ছিলেন অত্যন্ত ধূর্ত এবং প্রভাবশালী একজন নেতা।
ইসরায়েল বর্তমানে এই ঘটনাকে সামরিক ও কৌশলগতভাবে একটি বিশাল জয় হিসেবে উদযাপন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার বা কোনো বড় সমঝোতায় পৌঁছানোর মূল কারিগর হিসেবে দেখা হতো। তার অনুপস্থিতি যেকোনো সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
শীর্ষ পর্যায়ের এই ব্যক্তিদের অপসারণের মাধ্যমে ইরানের শাসনকাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়াই ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য।
এই হত্যাকাণ্ডের ফলে তেহরান এবং তেল আবিবের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: ডন
মাহফুজ/