যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ জুড়ে ‘নো কিংস’ র্যালিতে বহু মানুষ ইরান যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) আয়োজিত এই গণবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা।
সেন্ট পলের মিনেসোটা ক্যাপিটল লন এবং তার আশেপাশের রাস্তাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উল্টো করে ধরেছিলেন, যা ঐতিহাসিকভাবে দুর্দশার প্রতীক।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন, যিনি ‘স্ট্রিটস অব মিনিয়াপোলিস’ গানটি পরিবেশন করেন।
ফেডারেল অ্যাজেন্টদের গুলিতে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে শীতকালে রাস্তায় নেমে আসা হাজার হাজার মিনেসোটাবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি গানটি লিখেছিলেন।
গানটি শুরু করার আগে স্প্রিংস্টিন গুড ও প্রেটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ও অভিবাসন বিভাগের বিরুদ্ধে জনগণের অব্যাহত প্রতিরোধ দেশের বাকি অংশকে আশা যুগিয়েছে।
প্রায় ৮৫ লাখ বাসিন্দার শহর ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত রাজ্য নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে শুরু করে পূর্ব আইডাহোর দুই হাজারেরও কম জনসংখ্যার শহর ড্রিগস পর্যন্ত মানুষ সমাবেশ করেছে। এই রাজ্যে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজকরা অনুমান করেছেন, ‘নো কিংস’ র্যালির প্রথম দুই দফায় জুনে ৫০ লাখের বেশি এবং অক্টোবরে ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল।
এ সপ্তাহে তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শনিবার তারা ৯০ লাখ অংশগ্রহণকারীর প্রত্যাশা করছেন, যদিও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কিনা তা বলার সময় এখনও আসেনি।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫০টি রাজ্যেই তিনি হাজার ১০০টির বেশি অনুষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে, যা গত অক্টোবরের চেয়ে ৫০০টি বেশি।
কানসাসের টোপেকায়, স্টেটহাউসের বাইরে একটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাঙ রাজা এবং শিশু ট্রাম্পের অনুকরণ করছিল।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এগুলোকে ‘বামপন্থি অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের’ ফসল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার প্রতি প্রকৃত জনসমর্থন খুবই কম।
জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশনগুলো নিয়ে শুধু তারাই মাথা ঘামায়, যাদেরকে এগুলো কভার করার জন্য টাকা দেওয়া হয়’।
ওয়াশিংটনে শত শত মানুষ লিংকন মেমোরিয়াল পেরিয়ে ন্যাশনাল মলে মিছিল করে প্রবেশ করে। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘রাজমুকুট নামাও, ভাঁড়’ এবং ‘শাসন পরিবর্তন নিজ ঘর থেকেই শুরু হয়’। বিক্ষোভকারীরা ঘণ্টা বাজায়, ঢোল বাজায় এবং ‘নো কিংস’ বলে স্লোগান দেয়।
ইউরোপ থেকে লাতিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত আরও এক ডজনেরও বেশি দেশে সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা সংগঠন ‘ইনডিভিজিবল’-এর সহ-নির্বাহী পরিচালক এজরা লেভিন।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক রাজতন্ত্র থাকা দেশগুলো এই প্রতিবাদকে ‘স্বৈরাচার নয়’ বলে অভিহিত করছে।
রোমে হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীরা ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে ব্যানার প্রদর্শন করেন এবং ‘যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব’ গড়ার আহ্বান জানান।
লন্ডনে, ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদকারীরা ‘চরম ডানপন্থাকে থামাও’ এবং ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।
শনিবার সকালে প্যারিসে, ফরাসি শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি, ফ্রান্সে বসবাসকারী অধিকাংশ আমেরিকানসহ কয়েক শ মানুষ বাস্তিলে সমবেত হয়েছিলেন।
‘আমি ট্রাম্পের সব অবৈধ, অনৈতিক, বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অন্তহীন যুদ্ধের প্রতিবাদ জানাচ্ছি’, বলেন ‘প্যারিস নো কিংস’-এর সংগঠক অ্যাডা শেন। সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/