ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জিতলেই নকআউটে জার্মানি গতির রাজা জর্ডান মরোক্কোর রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম গোল প্যারাগুয়ের ব্রাজিল ম্যাচের চেয়েও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলেছে মরক্কো: ওয়াহবি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলের রাফিনহা ৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে সাগরিকায় ক্রিকেটের উন্মাদনা শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যালের বর্ণিল উদ্বোধন ইসমাইল সাইবারিকে ছাড়িয়ে এবার ৬৪ সেকেন্ডে দ্রুততম গোল গ্যালারজারের দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? ব্রেকে হাওয়া না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর পাড়ে ঝুলে পড়ল যাত্রীবাহী বাস আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে নাটোরে ওড়না পেঁচিয়ে যুগলের আত্মহত্যা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ বাংলাদেশের আজ দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের

আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দম্ভচূর্ণ

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দম্ভচূর্ণ
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি ইতোমধ্যেই মার্কিন জনগণের কাছে বেশ অজনপ্রিয় হয়ে গেছে। এ যুদ্ধ এখন আরও জটিল ও সমস্যাপূর্ণ এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এর কারণ হলো খবর এসেছে যে ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।

এখনো অনেক কিছুই আমাদের অজানা। ওই বিমানের দুই ক্রু সদস্যের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানা যায়নি। সিএনএন রিপোর্ট করেছে, তাদের একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন, তবে অন্যজনের ভাগ্য সম্পর্কে আমরা এখনো জানি না।

এর পর পরই আরেকটি খবরে জানা যায়, ইরান গত শুক্রবার আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে। তবে পাইলট দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে ইরানের সীমার বাইরে নিয়ে গিয়ে ইজেক্ট করেন। এরপর তাকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাগুলোর কোনোটিই এমনটা বোঝায় না যে ইরান হঠাৎ করেই সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মার্কিন হতাহতের সংখ্যাও সীমিত, গত তিন সপ্তাহে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

কিন্তু যে যুদ্ধে সামরিক আধিপত্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি, সেখানে এই ঘটনাটি ‘অসম যুদ্ধের’ বিপদকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতোমধ্যে এর জন্য মাশুল গুনতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এই ঘটনাগুলো ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে এক মাস ধরে তারা যে ‘অভেদ্য’ ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছিল, তাতেও ফাটল ধরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি এর আগেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান ঘটনাটি তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ওপর দিয়ে বিমান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। তারা তেহরানকে এমনভাবে তুলে ধরছিলেন যেন তাদের যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে প্রতিহত করার কোনো ক্ষমতাই নেই।

গত ৪ মার্চ এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেছিলেন, ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ আধিপত্য খুব শিগগির অর্জিত হতে যাচ্ছে।

হেগসেথ বলেছিলেন, ‘গত রাত থেকে (৩ মার্চ) শুরু করে আগামী কয়েক দিন বা এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি বিমানবাহিনী ইরানি আকাশপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে।’ তিনি একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশপথ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

তিনি আরও বলেছিলেন, যোগ করেন, ‘ইরান একে প্রতিরোধ করতে পারবে না।’

ট্রাম্পও গত দুই সপ্তাহ ধরে এই আকাশপথের আধিপত্যের কথা ফলাও করে প্রচার করছেন। ২৪ মার্চ তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের বিমানগুলো আক্ষরিক অর্থেই তেহরান এবং তাদের দেশের অন্যান্য অংশের ওপর দিয়ে উড়ছে; তারা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারছে না।’ 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারে এবং ‘তারা কিছুই করতে পারবে না।’

প্রেসিডেন্ট কয়েক সপ্তাহ ধরে বলে আসছেন, ইরানের ‘কোনো নৌবাহিনী নেই,’ ‘কোনো সেনাবাহিনী নেই,’ ‘কোনো বিমানবাহিনী নেই’ এবং ‘কোনো বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই’। 

১ মার্চ রাতে হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে তিনি জানান, তিনি ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে পারেন এবং তাদের কিছুই করার থাকবে না।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের কোনো বিমান বিধ্বংসী সরঞ্জাম নেই। তাদের রাডার ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। সামরিক শক্তি হিসেবে আমরা অপ্রতিরোধ্য।’

এটা ঠিক, হাজার হাজার বিমানের মধ্যে মাত্র দুটি বিমান ভূপাতিত হয়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে জোর দিয়ে বলেছে, কিছু বিপত্তি আসতে পারে, এমনকি প্রাণহানিও হতে পারে। হেগসেথ ৪ মার্চের সেই একই ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেছিলেন যে এমন পরিস্থিতি হতে পারে যেখানে ‘ইরান কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যভেদ করতে পারে বা দুঃখজনক কিছু ঘটতে পারে।’

কিন্তু আকাশপথে সামরিক আধিপত্য নিয়ে প্রশাসনের দাবিগুলো ছিল চরম। যে দাবি করতে গিয়ে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশপথ’-এর মতো শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি তারা ইরানকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো অস্ত্রশস্ত্রও তাদের কাছে নেই।

এটি ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠদের দ্বারা সামরিক সাফল্যকে অতিরঞ্জিত করে দেখানোর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ মাত্র।

গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে এবং এটি আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে তেমনটা দেখা যায়নি। আর ঠিকই ৯ মাস পর প্রশাসন আবার হঠাৎ করেই ইরানকে আসন্ন পারমাণবিক হুমকি হিসেবে প্রচার শুরু করে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছু দিন পরেই ট্রাম্প একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ইরানকে দায়ী করেছিলেন। পরে প্রাথমিক তদন্ত এবং অন্যান্য প্রমাণ থেকে জানা যায়, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছিল।

৩ এপ্রিল সিএনএন রিপোর্ট করেছে, ইরানের মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ছিল অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আআরজিসি) এখনো তাদের সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক অবশিষ্ট আছে।

এসবের রাজনৈতিক সমস্যা হচ্ছে, সামরিক সাফল্যকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রধান অর্জন হিসেবে ধরে নিয়েছিল।

মার্কিন জনগণের এই অভিযানের ওপর আস্থা খুব কম। তারা মনে করেন না যে এর উদ্দেশ্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যুদ্ধের চারটি লক্ষ্যের তালিকা বারবার বদলে ফেলছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর সম্ভবত সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো অর্থনৈতিক মন্দা, যা হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এটা ঘটেছে। মার্কিনিরা একেবারেই মনে করেন না যে যুদ্ধটি এত ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার মতো মূল্যবান কিছু।

পুরো সময়ে হেগসেথ যুক্তি দিয়েছেন যে মিডিয়া এই সামরিক অভিযানের সাফল্যকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

৪ মার্চের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ফেক নিউজ (ভুয়া সংবাদ), যা এড়িয়ে যাচ্ছে তা হলো আমরা কোনো স্থলসেনা ছাড়াই ইরানের আকাশপথ এবং জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছি।’

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এক মাস পর দেখা যাচ্ছে সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখনো বড় ব্যতিক্রম হিসেবে রয়ে গেছে। ইরানের আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করার বিষয়টি বিজ্ঞাপনে যতটা প্রচার করা হয়েছে, বাস্তবে ততটা পূর্ণাঙ্গ বলে মনে হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইসলামাবাদ স্মারককে একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে এ সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান।

জাতীয় পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘অনেক দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী এমন সম্মান অর্জনের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। আজ বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের নাম সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।’

তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের প্রশংসা করেন।

শেহবাজ বলেন, ‘তিনি দিন-রাত শান্তির জন্য কাজ করেছেন। এমন মুহূর্তও এসেছিল, যখন যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সমাধানের পথ খুঁজতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।’ এ সময় উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সেই আলোচনা ছিল আন্তরিক ও ইতিবাচক।

শেহবাজ বলেন, পেজেশকিয়ান কঠিন সময়ে ইরানের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানান এবং শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। পেজেশকিয়ান পাকিস্তানকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শেহবাজ শরিফ বলেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে এবং জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে এবং পাকিস্তানের জনগণ এর সুফল পাবে। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, শুক্রবারের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হবে।

শেহবাজ শরিফ কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, চীন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যিনি এই সমঝোতায় সহায়তা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা ঘোষণা দেন যে, চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

এই স্মারক অনুযায়ী ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস জলবিদ্যুৎ প্রকল্প/ ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে চীন। জবাবে ভারতও অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লি জানায়, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর নিম্নাংশে ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করেছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বেইজিংয়ের এই উদ্যোগের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দিল্লি অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প (সাম্প) এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি।

দুই প্রকল্পের অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার মেডোগ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিপরীতে ভারতের সাম্প প্রকল্প এখনো প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি নির্মাণ-পূর্ব সমীক্ষার কাজও শুরু হয়নি।

ভারত এখন কৌশলগত প্রতিক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি বিতর্কিত নদীটিতে বেইজিংয়ের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।তিব্বতের ইয়ারলুং স্যাংপো নদী ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয়। পরে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়ে অরুণাচল ও আসাম প্রদেশে প্রবেশ করে এবং লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে।

লোকসভায় দেওয়া লিখিত জবাবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিল্লি বরাবরই সীমান্তবর্তী নদীসংক্রান্ত সব প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের জন্য বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সাম্প প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে পানিপ্রবাহ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। এ কারণে প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বও অর্থনৈতিক গুরুত্বের সমান বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা জোরদার করার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে দিল্লি। সূত্র: এনডিটিভি

ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব
অ্যান্ডি বার্নহাম এবং কিয়ার ষ্টারমার

যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। এই জয়ের ফলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর পদে কিয়ার স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ আরও প্রশস্ত হলো তার জন্য। আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে প্রকাশিত ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, মেকারফিল্ড আসনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’র প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। বার্নহ্যাম পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট। এর মাধ্যমে তিনি হাউস অব কমন্সের সেই আসনটি নিশ্চিত করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তার প্রয়োজন। রিস্টোর ব্রিটেনের রেবেকা শেফার্ড তৃতীয় হন।

বিজয়ী ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, ‘সবাই জানে, রাজনীতি ঠিকভাবে কাজ করছে না। সবাই অনুভব করছে, দেশ যে অবস্থানে থাকার কথা ছিল, সেখানে নেই। আজকের রাত হতে পারে–হতেই পারে একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত।’ তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব, যাতে মেকারফিল্ড নামটি চিরদিনের জন্য দেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে থাকে।’

বার্নহ্যামের এই জয় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে অথবা লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে স্টারমার, বার্নহ্যাম এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই পার্লামেন্ট সদস্যরা নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানালে বার্নহ্যাম পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ‘বড় ইউনিয়নপন্থি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিথ ডেভিস বলেন, ‘আমি কিয়ার স্টারমারের প্রতি আস্থা হারিয়েছি। আমার মনে হয়, তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছেন।’

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সেখানে কিয়ার স্টারমারের পক্ষে সমর্থন ছিল ১২ শতাংশ।

ফলাফল ঘোষণার পর স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, ভোটাররা ‘বিভাজন ও ঘৃণার পরিবর্তে লেবার পার্টির আশা ও আশাবাদের প্রচারকে বেছে নিয়েছেন।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার পদত্যাগের কোনো ইচ্ছা নেই এবং তিনি দল ও দেশের নেতৃত্ব ধরে রাখতে লড়াই চালিয়ে যাবেন। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, নেতৃত্বের লড়াই দেশের জন্য ‘খারাপ বিষয়’ হবে।

স্টারমার বলেন, ‘হ্যাঁ, যদি লেবার পার্টিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হয়, আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমি বারবার বলেছি, আমি এ দায়িত্ব থেকে সরে যাব না।’ সূত্র: আল-জাজিরা

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের
ইসরায়েলি হামলার পর গতকাল দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে গোপন সশস্ত্র সেল গঠন করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আটজন ইরাকি সামরিক, নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া সূত্রের বরাতে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি প্রচলিত ইরানপন্থি মিলিশিয়া কাঠামো এড়িয়ে নতুন গোপন সেলগুলো সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করছে, যাতে হামলার দায় এড়ানো এবং নজরদারি কমানো সম্ভব হয়। তিনটি বা চারটি ছোট সেলে বিভক্ত এসব ইউনিটে প্রায় ১০ জন করে অভিজ্ঞ ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছে।

তারা ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে ড্রোন হামলা চালায় বলে তিনটি সূত্র জানিয়েছে। ইরাকি সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব যোদ্ধার অনেকেই আগে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ জোটের অংশ ছিলেন। নতুন সেলগুলো সরাসরি আইআরজিসির কাছে জবাবদিহি করে।

মিলিশিয়া কমান্ডারদের মতে, ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়া এবং নিজেদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় আইআরজিসি নতুন কৌশল হিসেবে এ ধরনের ছোট ও গোপন ইউনিট গঠন করছে। ইরাকের অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল জাসিম আল-বাহাদলি এবং শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা বলেন, ইরাকের কিছু শক্তিশালী শিয়া গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় আইআরজিসি সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সেল গঠন করেছে।

চলতি মাসে ইরানপন্থি দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী—আসাইব আহল আল-হক ও ইমাম আলী ব্রিগেড—যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে অস্ত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়। বাহাদলি বলেন, নতুন সেলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে বেশি কঠোর এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে ইরান এখন কম ব্যয়ে বেশি কার্যকর ও বিশ্বস্ত বাহিনীর ওপর নির্ভর করছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধ অবসানে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সই করলেও ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর’ প্রতি তেহরানের সমর্থন আলোচনার বিষয় নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরাক সরকারকে ইরানের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের সব উপকরণ, বিশেষ করে আইআরজিসি ও ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গত সোমবার ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও মার্কিন দূত টম ব্যারাকের বৈঠকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকের ভূখণ্ড যেন কোনো পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের সময় নতুন নামে আবির্ভূত হওয়া এসব গোষ্ঠী কুয়েতে তিনটি, সৌদি আরবে দুটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুটি ড্রোন হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য, যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং উৎক্ষেপণস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো এ তথ্য দিয়েছে।

কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক টার্মিনাল হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব ও আমিরাতের দিকে ছোড়া ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সেলগুলোর মাধ্যমে আইআরজিসি হামলার দায় অস্বীকার করার সুযোগ পাচ্ছে এবং বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপও কমানোর চেষ্টা করছে। কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এপ্রিল মাসে ইরাকি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যবহৃত ড্রোন হামলার সঙ্গে এসব নতুন গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই দিনে সৌদি আরবও ইরাক থেকে নিক্ষেপ করা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ওই হামলাগুলোকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করে কুয়েত ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তার মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান কোনো মন্তব্য করেননি। সূত্র: রয়টার্স

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি
ছবি: ইসরায়েল গত বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী টায়ারে ব্যাপক হামলা চালায়তে সম্মত

লেবাননে সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে লেবাননের নতুন সহিংসতার কারণে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বাতিল করা হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালীতে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছিল।

লেবাননের স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টার কিছু আগে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওই সময় থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আজকের গোলাগুলি বিনিময়ের পর আমরা বুঝতে পেরেছি, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এখন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই সমঝোতা চূড়ান্ত করেন।

এর আগে লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বাতিল করা হয়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময়সূচি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

লেবাননের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৮ জন নিহত হন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন হিজবুল্লাহকে ‘খুব চড়া মূল্য’ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে লেবাননে তার কর্মকাণ্ড সংযত করার জন্য সতর্ক করেন।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, আমেরিকাই তার একমাত্র অবশিষ্ট বন্ধু এবং হত্যার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা ওই বিস্তৃত চুক্তির অন্যতম শর্ত।

হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা বলেন, ইরান তাদেরকে জানিয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সরাসরি আলোচনা প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও বলেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী এবং তেহরান নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। সূত্র: রয়টার্স ও দ্যা টেলিগ্রাফ