পেরুর নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রধান পিয়েরো করভেত্তো চলতি মাসের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন। এখনো ভোট গণনা চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, তিনি পেরুর জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া দপ্তরের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এই সংস্থাটি দেশটির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
জাতীয় বিচার বোর্ডকে লেখা চিঠিতে করভেত্তো বলেন, কিছু রাজনীতিবিদ যে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন, তা তিনি অস্বীকার করেন। তবে জনগণের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি পদত্যাগ করছেন, বিশেষ করে আগামী ৭ জুন সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে।
এপ্রিল ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোট নানা লজিস্টিক সমস্যায় পড়ে। রাজধানী লিমাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোট গ্রহণের সময় বাড়াতে হয়। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও জালিয়াতির কোনো শক্ত প্রমাণ নেই বলে সতর্ক করেছেন।
পেরুর জাতীয় নির্বাচন জুরি জানিয়েছে, ১৫ মের মধ্যে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। শীর্ষ দুই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হবেন। ডানপন্থি প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন এবং তিনি দ্বিতীয় দফায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। বামপন্থী কংগ্রেসম্যান রবার্টো স্যানচেজ এবং লিমার সাবেক কট্টর ডানপন্থি মেয়র রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা প্রায় সমান ভোট পেয়েছেন, যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।
এই অগোছালো নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে, এমন একসময় যখন দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা ও সরকারের প্রতি আস্থার সংকট চলছে।
নির্বাচনের আগেই করা এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬৮ শতাংশ পেরুভিয়ান দেশের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ওপর খুব কম বা একেবারেই আস্থা রাখেন না। কিছু প্রেসিডেন্ট প্রার্থী, যেমন লোপেজ আলিয়াগা, প্রমাণহীন জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রথম দফার ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে হাজারও বিতর্কিত ব্যালট পর্যালোচনা শুরু করেছে, যেগুলোতে অসঙ্গতি, তথ্যের ঘাটতি বা গণনার ভুল ছিল। সূত্র: রয়টার্স