আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের তুলনায় ১০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। সম্প্রতি বোস্টনের এমারসন কলেজ পরিচালিত নতুন জনমত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
গত সপ্তাহান্তে তিন দিনব্যাপি পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ভোটারদের ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ৪০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তারা রিপাবলিকান প্রার্থীকে পছন্দ করেন। বাকি ১০ শতাংশ ভোটার এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
গত মাসের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতির হার ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। গত মাসে দলটির সমর্থন ছিল ৪৯ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ছিল ৪২ শতাংশ। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৪ শতাংশের আশেপাশে থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তা বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারিতে এই সমর্থন ৪৮ শতাংশে পৌঁছায় এবং বর্তমানে তা ৫০ শতাংশে ঠেকেছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের সমর্থন ৪২ শতাংশে স্থির থাকলেও এই মাসে তা ২ শতাংশ কমে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।
এমারসন কলেজ পোলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার কিমবল এই ফলাফলের বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, মূলত হিস্পানিক ভোটার, নারী এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এই শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। জরিপ অনুযায়ী, হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ৩৫ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছে। নারী ভোটারদের মধ্যে এই ব্যবধান ২১ পয়েন্ট এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ১৯ পয়েন্ট।
মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাটদের পালে হাওয়া দিচ্ছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান হতাশা এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এখন ডেমোক্র্যাটদের জন্য অনেকটা নাগালের মধ্যে। বর্তমানে তারা সিনেটের দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে। যদিও সিনেটের নির্বাচনি মানচিত্র রিপাবলিকানদের জন্য সুবিধাজনক। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ৫৩টি আসন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের ৪৭টি আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আরও ৪টি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র ৩টি আসন জেতা প্রয়োজন।
এমারসন ছাড়াও কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের সাম্প্রতিক এক জরিপেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। ৩৬টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনি এলাকায় পরিচালিত সেই জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ৬ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। গত ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১,০০০ সম্ভাব্য ভোটারের ওপর এমারসনের এই জরিপটি চালানো হয়। এই জরিপের মার্জিন অফ এরর বা ত্রুটির মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ শতাংশ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: দ্য হিল