ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

ইরানে গোপন হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব: প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ইরানে গোপন হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব: প্রতিবেদন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবে চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সৌদি আরবও ইরানে একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন দুই পশ্চিমা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে কখনো সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে জানা যায়নি। এ হামলা ইঙ্গিত দেয়, আঞ্চলিক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সৌদি আরব আগের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী অবস্থান নিচ্ছে।

দুই পশ্চিমা কর্মকর্তার মতে, সৌদি বিমানবাহিনীর পরিচালিত এসব হামলা গত মার্চের শেষ দিকে চালানো হয়। তাদের একজন বলেন, ‘সৌদি আরবে হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে এগুলো চালানো হয়।’

বার্তাসংস্থা রয়টার্স হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলা চালানোর বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক থাকা সৌদি আরব ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল। তবে ১০ সপ্তাহব্যাপী এই যুদ্ধের সময় সৌদি আরব এমন কিছু হামলার মুখে পড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষা বলয় ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

পাল্টা হামলা চালায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো
সৌদি আরবের হামলাগুলো ইঙ্গিত দেয়, সংঘাতটি বিস্তৃত আকার ধারণ করেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে, তখন যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল তা মধ্যপ্রাচ্যের আরও বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে- যার অনেক কিছু এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে সোমবার (১১ মে) এক প্রতিবেদনে জানায় দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এসব পদক্ষেপ এমন একটি সংঘাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে, যার অনেকটাই এতদিন আড়ালে ছিল। অর্থাৎ, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এবার পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে।

তবে এই দুই দেশের কৌশল এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এর মূল্য আদায় করতে চেয়েছে এবং তেহরানের সঙ্গে খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশ্য কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেওয়া ঠেকাতে চেষ্টা করেছে এবং ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

এর মধ্যে রিয়াদে নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা সরাসরি ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জনগণের সমৃদ্ধির স্বার্থে সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা হ্রাস, সংযম এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে- আমরা সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করছি।’

হামলার পর কূটনৈতিক তৎপরতা, পরে উত্তেজনা প্রশমনের সমঝোতা
ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরব হামলার বিষয়ে আগেই ইরানকে জানিয়েছিল। এরপর দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয় এবং সৌদি আরব আরও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশ উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।

৭ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আগের সপ্তাহ থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি।

ইরানি এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেন, তেহরান ও রিয়াদ উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একমত হয়। তার মতে, ‘এর লক্ষ্য ছিল শত্রুতা বন্ধ করা, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা এবং উত্তেজনা আর বাড়তে না দেওয়া।’

দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে জড়িত মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শিয়া ও সুন্নি শক্তি ইরান ও সৌদি আরব আঞ্চলিক বিভিন্ন সংঘাতে পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধবিরতিও কার্যকর হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে সৌদি আরব তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছে। ফলে উপসাগরীয় অনেক দেশের তুলনায় তারা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির মুখে পড়েছে।

‘ধ্বংসের আগুন’ এড়িয়েছে সৌদি আরব: প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল
সৌদি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আরব নিউজে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল সৌদি আরবের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি লেখেন, ‘ইরান ও অন্যরা যখন সৌদি আরবকে ধ্বংসের আগুনে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তখন আমাদের নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশের কারণে সৃষ্ট কষ্ট সহ্য করেছে- শুধু দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য।’

সৌদি আরবের হামলার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। গত ১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ‘প্রয়োজন মনে করলে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।’

এর তিন দিন পর সৌদি আরব ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের আরও চার কর্মকর্তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করে।

সৌদি আরবে সরাসরি হামলা কমায় ইরান: সূত্র
পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি, মার্চের শেষ দিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুমকির পর পরিস্থিতি শান্ত করার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়। সৌদি আরব জানিয়েছিল, প্রয়োজনে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে পারে।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। তবে ১ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৫টি।

পশ্চিমা সূত্রগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির আগে সৌদি আরবে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সরাসরি ইরান থেকে নয়, বরং ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সরাসরি হামলা কমিয়ে আনলেও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো তৎপর ছিল।

এ ঘটনার পর ১২ এপ্রিল সৌদি আরব ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে হামলা চালানোর প্রতিবাদ জানায়।

এদিকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির শুরুতেই নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ ও ৮ এপ্রিল সৌদি আরবে ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

রিয়াদ এই হামলার পর ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে শুরু করে। একই সময়ে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে পাকিস্তান। দেশটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের পাশাপাশি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। সূত্র: রয়টার্স

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মাত্র গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার পার্লামেন্টে ফেরা বার্নহ্যামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে আবেগঘন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসা ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন লেবার নেতা এবং সেই সূত্রে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ‘নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

এ সময় স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও দুই সন্তানকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সরকার একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হ্রাসের কারণে চাপে পড়ে।

লেবারের আস্থাহীনতা

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার আর সক্ষম নন। জাতীয় জনমত জরিপগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

যদিও স্টারমার আগে বলেছিলেন তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন, তবে বার্নহ্যামের জয়ের পর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তাকে জানান যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন নিজেকে প্রশ্ন করছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি?’

‘আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেটি আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবসময় আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতা

স্টারমার জানান, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, ‘এর ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

ভাষণ শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন স্টারমার। এ সময় ব্রেক্সিটবিরোধী এক কর্মী কাছাকাছি একটি সড়ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীত ‘ওড টু জয়’ বাজিয়ে তার বক্তব্যে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে এক্সে দেওয়া পোস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।’

অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ঘোষণা দেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার্নহ্যামের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অস্তিত্বের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বার্নহ্যামের রয়েছে।’

‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’

গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ের পর বার্নহ্যাম বলেছিলেন, লেবারের সামনে এটি ‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবারের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও, তার জনপ্রতিনিধিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যাম ২০০০-এর দশকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তবে লেবারের ‘সফট-লেফট’ ঘরানার এ নেতা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে দলের কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখতে পারেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সপ্তম নেতা পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপের মুখে অবশেষে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ’এটা স্পষ্ট যে, আমার দল পরিবর্তন চাইছে। আমার সংসদীয় দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে- পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের সেই বার্তা বুঝতে পেরেছি এবং সানন্দে তা গ্রহণ করছি।’

থিওটোনিয়াস/

ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২
প্রতীকী ছবি।

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২১ জুন) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অধীনে ক্যারিবিয়ান সাগরে এই অভিযান চালানো হয়।

সাউথকম জানিয়েছে, তারা ‘ছয় জন পুরুষ সদস্য সম্পর্কে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে। তবে তাদের উদ্ধার বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামলার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নৌযানটি পানিতে চলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়।

গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযান শুরু করার পর থেকে সর্বশেষ এই হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ২০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ অভিযান শুরু করে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে লাতিন আমেরিকা থেকে পরিচালিত মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

তবে এমন হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসের লার্নাকায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের পর ২২ বছর বয়সি একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা এক বাংলাদেশি ছাত্রের।

রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাংলাদেশি ছাত্রের বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ২২ বছর বয়সি এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি অপহরণের পাশাপাশি অপহৃতকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও গ্রেপ্তার তরুণকে তাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে তারা মরদেহ এবং একটি ছুরি খুঁজে পায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির দাবি, এই ছুরি দিয়েই হত্যা করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ জুন ২২ বছর বয়সি বাংলাদেশি ছাত্র শাহরিয়ার আহমেদ ইমন ওরোক্লিনির বাড়ি থেকে স্থানীয় কারখানায় কাজে যাওয়ার সময় লার্নাকা থেকে অপহৃত হন। 

এর আগে শাহরিয়ার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া সাহায্যের জন্য তার বাবাকেও বার্তা পাঠান। এর পরই তার মােবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এরপর ছাত্রের বাবা কয়েকটি ফোন থেকে কল পান, যেসব কলে অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ছেলের মুক্তির বিনিময়ে অর্থ দাবি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত চলছে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর
ছবি: সংগৃহীত

একাধিক ড্রোন প্রতিহত করার পর, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভোরে পুনরায় বিমানবন্দরগুলো চালু করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২২ জুন) মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে আসা মোট ৫৯টি ড্রোনকে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইউক্রেনের শহরগুলোতে রুশ হামলার জবাবে কিয়েভ রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা যায়, তবে এসব ড্রোন ইউক্রেন থেকে এসেছে কি না, সে বিষয়ে সোবিয়ানিন স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।

আমান/