ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার

মিডটার্মের আগে বিপাকে ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
মিডটার্মের আগে বিপাকে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বার্থকেন্দ্রিক ও বিশৃঙ্খল শাসনব্যবস্থা এবং রিপাবলিকানদের রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার কৌশলের মধ্যে সংঘাত এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

ক্রমশ কমতে থাকা জনপ্রিয়তা ও জরিপে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত সত্ত্বেও ট্রাম্প বিতর্কিত নীতিগুলো সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরান যুদ্ধ, তার কাঙ্ক্ষিত বলরুম প্রকল্প এবং ১ দশমিক ৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের তথাকথিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল। প্রশাসনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই তহবিল থেকে এমন ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন যারা পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন। 

এই সপ্তাহে ট্রাম্প টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটরের বদলে কেইন প্যাক্সটনকে সমর্থন দিয়েছেন। যদিও রিপাবলিকানদের একাংশ আশঙ্কা করছে, নানা বিতর্কে জড়ানো প্যাক্সটন নভেম্বরে দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন এমনকি সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারেন।

এতদিন ট্রাম্পের প্রতি নিঃশর্ত অনুগত বলে পরিচিত কংগ্রেসের রিপাবলিকানরাও যেন এবার সীমারেখায় পৌঁছে গেছেন। ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিলের বিরুদ্ধে এবার তারা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ দেখিয়েছেন। কেউ একে বলেছেন ‘চূড়ান্ত বোকামি’, কেউ বলেছেন ‘ব্যাখ্যাতীত’; আবার কেউ একে ‘নৈতিকভাবে ভুল ও সম্পূর্ণ নির্বুদ্ধিতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ বিরোধিতার জেরে বৃহস্পতিবার সিনেট রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের অভিবাসন আইন পাস না করেই ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন।

সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনে ইঙ্গিত দিয়েছেন, হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের মধ্যে বাস্তব ফাটল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পও গত বৃহস্পতিবার স্বীকার করেন, সিনেট রিপাবলিকানদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। গত শুক্রবার তিনি তহবিল ও সিনেট রিপাবলিকানদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দুটি পোস্ট দেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ছয় মাসেরও কম সময় বাকি। এখন প্রশ্ন উঠছে, রিপাবলিকান পার্টি কোন পথে যাবে?
ওয়াশিংটনে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের কাছেই নতিস্বীকার করবে। অনেকে মনে করছেন, সিনেট রিপাবলিকানরা হয়তো কঠিন ভোট এড়াতেই আপাতত পরিস্থিতি ঝুলিয়ে রেখেছেন।

সম্ভবত আইনপ্রণেতারা ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিলের কিছু অংশ সীমিত করার চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলায় পুলিশের ওপর আক্রমণকারীদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার মতো বিধান যুক্ত হতে পারে, যাতে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। 

কিন্তু হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন তারা মেনে নেবে না। এমনকি তহবিল নিয়ে আপত্তি মিটলেও ট্রাম্পের বলরুম প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

সিনেট পার্লামেন্টারিয়ান জানিয়েছেন, বলরুমের নিরাপত্তার জন্য শত শত মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অভিবাসন বিলের অংশ হতে পারে না। ফলে রিপাবলিকানদের সমর্থন থাকলেও সেই অর্থ কীভাবে অনুমোদিত হবে, তা স্পষ্ট নয়।

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা সাধারণত ট্রাম্পের প্রতি অনুগত থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ট্রাম্প এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অজনপ্রিয়, আবার একই সঙ্গে আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণহীন। এতে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য টানা কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্বস্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন ট্রাম্প নিজেই সংখ্যার অঙ্কে সমস্যায় পড়ছেন।

সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন থাকলেও তাকে বরাবরই আলাস্কার লিসা মারকোয়স্কি ও মেইনের সুজান কলিন্সের মতো মধ্যপন্থিদের সামলাতে হয়। কলিন্স আবার একটি ডেমোক্র্যাটপ্রবণ অঙ্গরাজ্যে কঠিন পুনর্নির্বাচনি লড়াইয়ে আছেন। এ ছাড়া উত্তর ক্যারোলিনার থম টিলিস ও কেন্টাকির মিচ ম্যাকনেলের মতো অবসরের পথে থাকা সিনেটররাও এখন ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব।

সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ট্রাম্প আরও নতুন বিরোধী তৈরি করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।

লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডিকে প্রাইমারিতে হারানোর পর এখন তিনি পুনর্নির্বাচনের চাপমুক্ত। এক সময় ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দেওয়া ক্যাসিডি এখন আরও স্বাধীনভাবে মত দিচ্ছেন।

একই ধরনের পরিস্থিতি টেক্সাসেও তৈরি হতে পারে, যদি জন করনিন ট্রাম্প সমর্থিত প্যাক্সটনের কাছে প্রাইমারিতে হেরে যান। গত শুক্রবার সকালে ট্রাম্প নিজেই তার ‘সংখ্যার সমস্যা’ স্বীকারের মতো মন্তব্য করেন। টিলিসকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, এখন সে তার কিছু বন্ধুকে নিয়ে কয়েক মাস মজা করতে এবং রিপাবলিকান পার্টির ক্ষতি করতে পারবে।

এর মানে এই নয় যে, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের সব উদ্যোগ আটকে দেবেন। তবে দলীয় নেতারা যদি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর উদ্যোগ ঠেকাতে চান, তা হলে এখন এমন অনেক আইনপ্রণেতা আছেন যারা ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত হতে পারেন।

ক্যাসিডি বা করনিন কী ভোট দেবেন, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো ট্রাম্প তাদের যেভাবে টার্গেট করেছেন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নিজ দলের বর্তমান সিনেটরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, রিপাবলিকানদের নির্বাচনি সাফল্যের চেয়ে নিজের প্রতিশোধ ও ব্যক্তিগত স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প।

এই টানাপোড়েন দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে তা বড় ধরনের আইনগত জটিলতা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প ১ জুনের মধ্যে অভিবাসন প্যাকেজ পাসের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামনে রয়েছে ১২ জুনের সময়সীমা, যখন বিতর্কিত নজরদারি আইন ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিলিয়েন্স অ্যাক্ট সেকশন ৭০২ পুনরায় অনুমোদনের বিষয়টি কংগ্রেসে উঠবে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগও ঝুলে আছে। এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ নিশ্চিত হয়নি। ট্রাম্প চাইলে টড ব্ল্যানচকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রেখেও দিতে পারেন। কিন্তু ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল নিয়ে ক্ষোভের কারণে রিপাবলিকানদের একাংশ হয়তো তার মতো ট্রাম্পঘনিষ্ঠ প্রার্থীদের সমর্থন নাও করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে, সুপ্রিম কোর্টে শূন্যপদ তৈরি হওয়া। এখন পর্যন্ত বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো বা ক্ল্যারেন্স টমাস অবসরের ইঙ্গিত দেননি। তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ গ্রীষ্ম তাদের জন্য অবসরের উপযুক্ত সময় হতে পারে।

৫৩ আসনের রিপাবলিকান সিনেট সম্ভবত তাদের বদলি নিয়োগ আটকে দেবে না। তবে সিনেটের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ট্রাম্পের জন্য এমন কোনো চরমপন্থি বিচারপতি মনোনয়ন কঠিন করে তুলতে পারে, যিনি ট্রাম্পের প্রত্যাশামতো কাজ করবেন।

হয়তো রিপাবলিকানরা শেষ পর্যন্ত আপাতত পরিস্থিতি সামলে নিতে পারবেন। কিন্তু ট্রাম্পের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, খুব দ্রুতই তিনি আবারও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারেন। কারণ দলীয় স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থ নিয়েই তিনি বেশি চিন্তিত। আর কোনো আইনপ্রণেতার কাছে নিজের আসন হারানোর ভয় থেকে বড় প্রেরণা আর কিছুই নেই। সূত্র: সিএনএন

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত ১ দশমিক ৪ কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।’

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসএন/

নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সেদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনিষ্পন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংযোগ উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকতর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত প্রচেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ–নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

রবিউল /এসএন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। ছবি: সংগৃহীহ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে পুশইন সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিকের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শত শত শিশু ও নারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে। নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি বিষয়টি দুই দেশের সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক মাস পরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় মহাসচিবের মুখপাত্রকে।

জবাবে ডুজারিক বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাই মহাসচিব এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা সাধারণ পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই হবে। আর রোহিঙ্গাবিষয়ক কাজ চলতে থাকবে।’

এসএন/

আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বহাল থাকছেন বলে রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ‘আবেদনকারীর পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির মতো কোনো প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন খারিজ করা হলো।’

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধী পক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার জবাব আবেদনকারীকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ জুলাই। ফলে সেই সময় পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন।

রায় প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা। 

তার দাবি, ‘আদালতের এই রায়ে আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। আমাদের বিধায়কের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।’

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃার হওয়ার পরও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। 

প্রশ্ন ওঠে, বহিষ্কৃত একজন বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?

বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়েই একাধিক প্রশ্ন তোলে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে আদালত জানিয়ে দেয়, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু দলের বিদ্রোহী শিবির সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে। 

প্রথমে ৫৮ জন এবং পরে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি তুলে তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। সেই সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেন স্পিকার।

এই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রথম চিঠিটিকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হলো না এবং কেন পরবর্তী চিঠিটি গ্রহণ করা হলো।

আদালতে জানানো হয়, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছিলেন স্পিকার। 

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কি স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নাকি দলীয় অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন? 

তার মন্তব্য, ‘বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল কি না, সেই প্রশ্নে আমি যাচ্ছি না। তবে যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সঙ্গত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে ৭৮ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছে? যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তাহলে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তিকেই কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?’

বুধবার আদালত রায় সংরক্ষণ করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকবেন। সূত্র: আজতক

কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. ইস্তিনাব মাহী। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

নিহত মাহি চট্টগ্রামের মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্তরা/