তেহরানের কঠোর নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ গোপনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে পার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে এবার এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অজান্তেই এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে ২২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে এই বিপজ্জনক জলসীমা পার হতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি সহায়তা করে বলে তিনি জানান।
ইরান অন্ধকারেই ছিল: ট্রাম্প
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, ‘গত মাসে আমি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাংকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করার জন্য একটি গোপন মিশন পরিচালনার নির্দেশ দিই।’
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, এই গোপন প্রচেষ্টার ফলে ১০ কোটি ব্যারেলেলেরও বেশি তেল হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। লাইট নিভিয়ে মাঝরাতে পার হয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ইরান এই অভিযানের ব্যাপারে কিছুই জানত না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও করেন, ‘আমরা গত রাতেও সম্পূর্ণ অন্ধকারে ২২টি জাহাজ পার করে এনেছি। কারণ ওদের (ইরানের) কোনো রাডার ব্যবস্থা সচল নেই, আমরা আগেই সেগুলোকে গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন মিশন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’
২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
মে মাসের শুরুতে এই রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন প্রশাসন। তবে মিত্রদেশগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় মাত্র একদিন পরেই ট্রাম্প সেটি বাতিল ঘোষণা করেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মে মাসের শেষের দিকে মার্কিন বাহিনী আবারও গোপনে এই তৎপরতা শুরু করে। যদিও সে সময় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নৌসেনা কর্তৃক পাহারা দেওয়ার খবরটিকে 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দেয়।
তবে প্রেসিডেন্টের আজকের এই স্বীকারোক্তির পর সেন্টকমের সেই লুকোচুরি এবং মার্কিন গোপন অভিযানের বিষয়টি একদম স্পষ্ট হয়ে গেল।
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবির পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ইরান যদি এই গোপন অভিযানের খবরকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে, তবে জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর পাল্টা বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, যা চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ রূপ দেবে। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/