ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার

মার্কিন-ইরান চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা: কী আছে সেই দেড় পাতার দলিলে?

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
মার্কিন-ইরান চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা: কী আছে সেই দেড় পাতার দলিলে?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন চুক্তিটি ঠিক কী শর্তে হয়েছে, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে রয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশগুলোর নেতারা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হ্রদের তীরে সোমবার (১৫ জুন) রাতে জি-৭ নেতাদের এক নৈশভোজে এই চুক্তির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বিশ্বনেতারা। 

অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৈশভোজ শেষ হওয়ার পরও অনেক নেতা আগের মতোই বিভ্রান্ত ছিলেন।

গত রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেন। তবে মাত্র দেড় পাতার এই চুক্তির মূল বিষয়বস্তু এখনো কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও চুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

কখন প্রকাশ পাবে এই চুক্তি?

চুক্তিটি কবে নাগাদ প্রকাশ করা হবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বৈপরীত্য। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের এক বা দুই দিন আগেই এটি জনসমক্ষে আনা হবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প জানান, তিনি এটি প্রকাশ করতে চান, তবে সম্ভবত তা শুক্রবারের পরেই হবে।

চুক্তির অস্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

চুক্তির মূল বিষয়গুলো গোপন রাখায় ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ও রক্ষণশীল (কনজারভেটিভ) বিশ্লেষকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্ক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটি যদি শান্তির জন্য এতই বড় অর্জন হয়, তবে চুক্তিটি প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?’

যেসব বিষয়ে অমিল ও বিতর্ক

প্রকাশিত খবর ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা গেছে।

হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সমুদ্রপথটি স্থায়ীভাবে ‘টোলমুক্ত’ থাকবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এই পথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে এবং প্রয়োজনে তারা ফি বা টোল আদায় করবে।

পরমাণু কর্মসূচি: ইরানের মজুত থাকা পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম এবং সেন্ট্রিফিউজগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন: মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত না মানা পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তায় ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, মিশর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কাতার এই আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত থাকায় আজকের বৈঠকে চুক্তিটি নিয়ে আরও কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন বিশ্বনেতারা। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/অমিয়/

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শুক্রবার (১৯জুন) এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে একটি পূর্বপরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ইরানের সাথে একটি নতুন দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখেও ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কাতারের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলাকালীন গোড়ালির এক ভয়াবহ চোটের শিকার হন তিনি। যার ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব সাসুওলোতে খেলা এই মিডফিল্ডারের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তার অন্তত তিন মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে এই ফুটবল মহোৎসবের বাকি অংশ কেবল দর্শক হয়েই কাটাতে হবে তাকে।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর এক মারাত্মক ট্যাকেলের শিকার হন কোনে। ফাউলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। চোট পাওয়ার পর মাঠে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায় কোনেকে। পরবর্তীতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

কোণের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাথান সালিবা। মাঠে নেমেই এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি, যা চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফ্রি-কিক গোল। গোলটি করার পর সালিবা কোণের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি সম্মান ও এই গোলটি তাঁকে উৎসর্গ করেন।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কাতারের খেলোয়াড় মাদিবো ম্যাচ শেষে কানাডার ড্রেসিংরুমে এসে কোণের কাছে তার এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। 

পাপ্পু/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি একপ্রকার মুছে গিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি চীনে তৈরি পাকিস্তানের নতুন ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছেছে। এই সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে ইসলামাবাদ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের নতুন এই সাবমেরিনের নাম রাখা হয়েছে পিএনএস হাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ সাবমেরিনটি ভারতের ‘আইএনএস খুকরি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সেটিই ছিল প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনা। যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তবে সেই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রতীকী গুরুত্বকে সামনে রেখেই নতুন এই সাবমেরিন বহরের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তান মোট ৮টি হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রথমটি গত সপ্তাহে করাচিতে এসে পৌঁছায়।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফ্লোটিলা এসকর্ট কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, এই নতুন হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বহুদূর বাড়িয়ে দেবে। এটি পাকিস্তানকে নিজের উপকূলীয় আরব সাগর ছাড়িয়ে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরেও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার শক্তি জোগাবে। এই সাবমেরিনগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার পানির ওপরে না উঠে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে এদের সহজে ট্র্যাক করা বা শনাক্ত করা যায় না। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তানের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের এই বঙ্গোপসাগরীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে আসে। ১৯৭১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রথম আগমন।

পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের বিমান বাহিনীপ্রধান চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফর করে দেশটির তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশ যৌথ নৌ মহড়া ‘আমান-২৫’-এ অংশ নেয়। এ ছাড়া করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ মহড়ার বিষয়গুলো রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে ভারতের একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গেও ঢাকার সম্পর্কের নতুন উষ্ণতা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নৌবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, যার কাছে রয়েছে পারমাণবিক সাবমেরিন এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি। ফলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের কৌশলগত আঙিনায় তাদের এই নিয়মিত উপস্থিতি দিল্লির জন্য একটি স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ন্যাটোর যেসব মিত্র দেশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না, তাদের জন্য মার্কিন তহবিল আটকে দেওয়া হতে পারে। এই মিত্রদের তিনি ‘ফ্রি রাইডার’ বা বিনা পয়সায় সুবিধাভোগী হিসেবে আখ্যা দেন।

ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক বৈঠকে হেগসেথ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ ছয় মাস চলবে। এ সময়ে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। কারণ ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সর্বনিম্ন সংখ্যা কত হবে, তা কংগ্রেসে আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। হেগসেথ সরাসরি বলেননি এ পর্যালোচনার কারণে ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানো হবে কি না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর মূল লক্ষ্য ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষায় আরও বেশি জোর দেওয়া।

হেগসেথ বলেন, ‘ইউরোপ যাতে দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে ন্যাটোর নেতৃত্বে আসে, তা নিশ্চিত করার জন্যই এ পর্যালোচনা করা। কেননা, ইউরোপের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে।’ পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় যেসব মিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেনি, হেগসেথ তাদের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই যুদ্ধের সময় কিছু দেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি জানান, এ পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনীর জন্য যেসব দেশের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা হবে’।

তার এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো নিজেদের জরুরি সংকটকালীন বাহিনীর ঘাটতি পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। ওয়াশিংটন ন্যাটোর জরুরি বাহিনীতে নিজেদের সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি দেখছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তিতে সই করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাফার তেবনিত শহরে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এর আগে নিহতের সংখ্যা একজন বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, এর পাশাপাশি জেবদিন শহরে ইসরায়েলি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।

লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে চালানো ইসরায়েলি হামলায় শত শত শিশু, নারী, চিকিৎসক এবং জরুরি সেবাকর্মীসহ ৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেক লেবানিজ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা