ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন চুক্তিটি ঠিক কী শর্তে হয়েছে, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে রয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশগুলোর নেতারা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হ্রদের তীরে সোমবার (১৫ জুন) রাতে জি-৭ নেতাদের এক নৈশভোজে এই চুক্তির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বিশ্বনেতারা।
অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৈশভোজ শেষ হওয়ার পরও অনেক নেতা আগের মতোই বিভ্রান্ত ছিলেন।
গত রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেন। তবে মাত্র দেড় পাতার এই চুক্তির মূল বিষয়বস্তু এখনো কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও চুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
কখন প্রকাশ পাবে এই চুক্তি?
চুক্তিটি কবে নাগাদ প্রকাশ করা হবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বৈপরীত্য। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের এক বা দুই দিন আগেই এটি জনসমক্ষে আনা হবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প জানান, তিনি এটি প্রকাশ করতে চান, তবে সম্ভবত তা শুক্রবারের পরেই হবে।
চুক্তির অস্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
চুক্তির মূল বিষয়গুলো গোপন রাখায় ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ও রক্ষণশীল (কনজারভেটিভ) বিশ্লেষকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্ক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটি যদি শান্তির জন্য এতই বড় অর্জন হয়, তবে চুক্তিটি প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?’
যেসব বিষয়ে অমিল ও বিতর্ক
প্রকাশিত খবর ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা গেছে।
হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সমুদ্রপথটি স্থায়ীভাবে ‘টোলমুক্ত’ থাকবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এই পথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে এবং প্রয়োজনে তারা ফি বা টোল আদায় করবে।
পরমাণু কর্মসূচি: ইরানের মজুত থাকা পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম এবং সেন্ট্রিফিউজগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন: মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত না মানা পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তায় ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, মিশর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কাতার এই আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত থাকায় আজকের বৈঠকে চুক্তিটি নিয়ে আরও কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন বিশ্বনেতারা। সূত্র: সিএনএন
তামান্না রুপা/অমিয়/