ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
Nagad desktop

১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ, পলাতকদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৩ এএম
১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ, পলাতকদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের মামলায় অভিযুক্ত ১৩ সেনা কর্মকর্তা ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে গুমের মামলায় পলাতক ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

বুধবার (২২ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তাদের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেন।

গুমের দুই মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর ও রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এই ট্র্যাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় বিশেষ প্রিজনভ্যানে রাজধানীর পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনাল তাদের হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আগেই।

যাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন– র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (এখন অবসরকালীন ছুটিতে); র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম।

টিএফআই সেলে নির্যাতনের মামলার আসামিরা হলেন:
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল,  সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. হারুন-অর-রশিদ, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল কে এম আজাদ, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন, র‌্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম, র‌্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল, সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নির্যাতনের মামলায় আসামিরা হলেন:
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, সিটিআইবির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, সিটিআইবি ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, সিটিআইবি ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, সিটিআইবি ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, সিটিআইবি ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হক।

সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা উপলক্ষে সকাল থেকেই নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রাইব্যুনালের আশপাশেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নেয়। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা টহল দেন।

সেনা সদর আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়েছে দুটি মামলা। আর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় হয়েছে একটি মামলা। এসব মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন আসামি। তাদের মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আজ হাজির করা হয়।

গত ৮ অক্টোবর গুমের দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ মহাপরিচালকসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ১১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে ১৫ জন কর্মরত সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় সেনাবাহিনী। আর্মি অফিসার্স মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, দুটি মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত, একজন এলপিআরে গেছেন এবং বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন।

পরবর্তী সময়ে ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করে গত ১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. হাফিজ আল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, 'বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪১(১) এর ক্ষমতাবলে এবং দ্য প্রিজন অ্যাক্ট এর ধারা ৩ এর বি অনুসারে ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত 'এমইএস' বিল্ডিং নং-৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো'।

>>ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা

অমিয়/

ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ
ছবি : খবরের কাগজ

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে ব্যভিচারের অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রীর তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। 

শরীয়তের বিধান মতেই তামিমার দেওয়া তালাক কার্যকর হয়েছিল। ফলে আইনগতভাবে নাসিরের  সাথে বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না মর্মে বিচারকের দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে মর্মে আদালত সূত্রে জানা গেছে। 

ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার বিচার শেষে রায় ঘোষণা করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাসির ও তামিমাকে বুধবার (১০ জুন) বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

খালাসের কারণ হিসেবে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, 'নাসির-তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না। আসামি তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। ৪৯৪ ধারা প্রমাণ করতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে তার দ্বিতীয় বিয়েটা অবৈধ। সেক্ষেত্রে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর নয় মর্মে গণ্য করতে হবে। তামিমা যে রাকিবকে তালাক দিয়েছে তার তালাক নামা রয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন বইতে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

এদিকে, তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়নি মর্মে আদালতে দাবি করেছেন বাদী। 

কিন্তু, আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের চিঠি পোস্ট করার রশিদ আদালতে দাখিল করেছে।

ডাকবিভাগের চিঠি বিলিকারক আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে তা গ্রহণ করেননি বাদী। 

আদেশে বলা হয়, ২০১৬ সালে তামিমা মামলার বাদি রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বাদির সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এটা থেকে অনুমেয় যে তারা স্বামী স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন—এটা প্রমাণ হয় না।

এছাড়া তাদের শিশু সন্তান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে যে তার মা তাকে সঙ্গে করে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছিল।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু বাদি আসামি তামিমাকে তালাকে তাফউইজ প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছিল, সেই ক্ষমতা প্রদান করে তিনি ২০১৬ সালে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ২০২১ সালের নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। 

আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ধারাও বাদী প্রমাণ করতে পারেননি। সেহেতু আসামি তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।' 

এর আগে, গত ৬ মে মামলার বাদী ও আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।  

২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা 

২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। 

এ ঘটনায় একই বছরের  ২৪ ফেব্রুয়ারি দন্ডবিধি-র ৪৯৪/৫০০/৩৪ ধারার অভিযোগে আদালতে একটি নালিশী (সিআর) মামলা করেন রাকিব। 

অভিযোগে বলা হয়, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়েছে। 

আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে  প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

পরের বছরের ২৪ জানুয়ারি  নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার বিচার চলাকালে ডাক বিভাগের একজন মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও দুইজন চেয়ারম্যানসহ মোট১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। 

নাসির তামিমা খালাস পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ বাদী ও তার আইনজীবী ইসরাত হাসান জানিয়েছেন, রায়ের আদেশের পুর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তারা আপিলে যাবেন। 

আসামিদের অন্যতম আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত যথার্থই রায় দিয়েছেন। সংক্ষুব্ধ পক্ষেরও আপিল করার আইনগত অধিকার রয়েছে। 

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এসএন

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
চট্টগ্রামে  ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
ছবি: আসামি মনির হোসেন

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।

এ সময় আসামি মনির হোসেন (৩০) উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন স্বাক্ষী রয়েছেন। প্রথম দিনের শুনানিতে বাদীসহ ৯ জন স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সবার আগে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবাও মামলার বাদী মেহেদী হাসানের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। পরে ৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

গত ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় আটক আসামিকে পুলিশ থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। তারা বলেন- তারাই ওই যুবকের শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

পরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় তাকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। 

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সেদিন রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। অপরদিকে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।

শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ
সালমান শাহ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

এর আগে, গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন। গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। 
তিনি বলেন, কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমান শাহকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং পরে তাকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তার মামা মো. আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে তার স্ত্রী সামীরা হক এবং শিল্পপতি ও প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

এর আগে, আদালত অপমৃত্যুর মামলা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময়কার সন্দেহজনক পরিস্থিতি ও নানা অসঙ্গতি নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন তৈরি করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সালমান/

ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হচ্ছেন। ছবি: খবরের কাগজ

ডিভোর্স সম্পন্ন না করেই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। 

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়, তাদেরকে খালাস প্রদান করেন। 

এর আগে, গত ৬ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। এ ঘটনায় একই বছরের  ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন রাকিব। আদালত মামলাটি তদন্ত করে  পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

রাকিবের অভিযোগ, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়। 

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

পরে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার বিচার চলাকালে  ১০ জন সাক্ষী আদালতে  সাক্ষ্য প্রদান করেন। 

রিফাত/

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
হাইকোর্ট

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন। এর পর গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

অমিয়/