ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে জব্দ করা ফায়ার কার্তুজ ও ফায়ার বুলেট সদৃশ বস্তু ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এ আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) আদালতের প্রসিকিউশন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জব্দকৃত আলামতসমূহ পরীক্ষা করে মতামত প্রদানের জন্য সিআইডিতে প্রেরণের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোড সংলগ্ন ডিআর টাওয়ারের সামনে দুষ্কৃতিকারীরা মোটরসাইকেলে করে এসে অটোরিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার কার্তুজ ও ফায়ার বুলেট সদৃশ বস্তু আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
তদন্তের স্বার্থে সিআইডির ব্যালিস্টিক শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারকে জব্দকৃত আলামতসমূহের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত মতামত প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার অভিযোগ সংযোজন করা হয়।
মামলায় বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের পাকা সড়কে শরিফ ওসমান হাদিকে পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ, রাহুল দাউদ এবং তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা চলন্ত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
জলিল/মেহেদী/