ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকালে নীলফামারী জেলার সদর এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটিইউ জানায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে আসামি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। গ্রেপ্তার আসামি বাবু মিয়া ওরফে মো. মনোয়ার হোসেন (৫২)।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এ তথ্য জানান এটিইউ সহকারী পুলিশ সুপার ওয়াহিদা পারভীন।
তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনোয়ার হোসেন পরিচয়ে প্রতারক বাবু সাভার উপজেলায় কর্মরত সার্ভেয়ার মো. আব্দুল করিমকে কল করেন। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কমিটি গঠন করে ১০৫ জন সার্ভেয়ারের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় বেশকিছু কর্মকর্তাকে। মন্ত্রণালয়ের নজরদারির মধ্যে আব্দুল করিমও রয়েছেন। প্রতারক এই সুযোগে করিমকে ফোন করে বলে, ‘আপনাকে নজরদারির তালিকায় রাখা হয়েছে, এর থেকে মুক্তি পেতে কিছু টাকা দিতে হবে।’ করিম ভয় পেয়ে প্রতারক বাবুকে বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে পাঁচ হাজার টাকা দেন।
ওয়াহিদা পারভীন জানান, আব্দুল করিম সরল বিশ্বাসে ভুয়া সচিব বাবুকে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক বাবু ওই টাকায় সন্তুষ্ট না হয়ে তার কাছে আবার ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে করিমের সন্দেহ হলে প্রতারকের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে জানা যায়, বাবু মিয়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা নন।
এটিইউ সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রতারক বাবু মিয়া একই মোবাইল নম্বর থেকে ঢাকায় কর্মরত একজন সহকারী ভূমি কমিশনারকে ফোন করেন এবং জানান তাকেসহ ৩৫ জন কমিশনারকে একসঙ্গে বদলি করা হয়েছে। বদলি বাতিল করতে হলে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ টাকা দিতে হবে। পরে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এই দুটো বিষয় অনুসন্ধানের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটকে।
এটিইউ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারে, মো. মনোয়ার হোসেন নামে অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি একজন প্রতারক। নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা দাবি করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নজরদারি এবং বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হলো তার কৌশল। এটিইউ তাকে ধরতে নীলফামারী জেলা পুলিশের সহায়তায় বাবুর আসল পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।
ওয়াহিদা পারভীন জানান, বাবুকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায় সে অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। এর আগে তার বিরুদ্ধে চুরি ও প্রতারণার অভিযোগে আরও দুইটি গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্ট রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রতারক বাবুর বিরুদ্ধে রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান এটিইউর এই কর্মকর্তা।