চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেশে বন্যার আশঙ্কা করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার কথা জানান। সভায় ১১টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহিদুজ্জামান সরকার, পরিকল্পনা সচিব সত্যজিত কর্মকর, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সচিব ড. শাহনাজ আরেফিনসহ অন্য সচিবরা।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে এবার বন্যার আশঙ্কা আছে। বৃষ্টির প্রভাব পড়বে। সবাইকে বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।’ বিশেষ করে দেশের মানুষকে বন্যা থেকে রক্ষার জন্য আমাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কৃষি জমি ও ঘনবসতি এলাকায় প্রকল্প নিতে নিরুৎসাহিত করতে বলেছেন।”
মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ঢাকার আশপাশে যে কৃষি জমি দেখা যায়, সেগুলোতে আবাসন কাজ হচ্ছে। কৃষি কাজ যেন ব্যাহত না হয় সেই উদ্যোগ নিতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ বিশেষভাবে দেখতে হবে। তিন ফসলি এলাকায় প্রকল্প নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ থানার অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কোনো ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হতে পারবেন না।’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘২-৩ মাস বৃষ্টিতে প্রথমে কাজ হয় না। এর ফলে প্রথমে কাজের অগ্রগতি কম থাকে’। ”
এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কাজের অগ্রগতির ব্যাপারে চাপ দেওয়া হয়েছে বলেই এবার ৩৫৬টি প্রকল্প গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) শেষ হয়েছে। এটা রেকর্ড। কমপ্রোমাইজের কোনো বিষয় নেই। প্রতিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।’
পরিকল্পনা সচিব বলেন, ‘যেসব ঠিকাদার কাজ ফেলে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা আর কখনো টেন্ডারে অংশ নিতে পারবেন না।’