কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসের স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ জুলাই) ইইউ সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইইউর বহিঃসম্পর্কবিষয়ক মহাসচিব স্টিফানো সেনিনো বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি সংকট নিরসনে সংলাপের আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স পেজে স্টিফানো এক পোস্টে এ আহ্বান জানান।
ওই পোস্টে স্টিফানো সেনিনো লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগে গভীর উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমি আন্দোলনে যুক্তদের সঙ্গে আচরণের জবাবদিহি নিশ্চিত ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সম্পর্কের একটি মৌলিক উপাদান হলো মানবাধিকার।’ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংকট উত্তরণে ইইউ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ‘দেখামাত্র গুলির নির্দেশ’ দেওয়া ও আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন ইইউ।”
গত ২৭ জুলাই লাওসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের আঞ্চলিক ফোরামের মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বুধবারের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০১৮ সালে সরকারের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত, সাম্প্রতিক সময়ে রিট ও শেষে সর্বোচ্চ আদালতের রায়সহ ঘটনাপ্রবাহ সবিস্তারে উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুর্বৃত্তরা অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, যা অনেক ক্ষেত্রে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
স্টিফানো সেনিনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হতাহত ও হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করি, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে ও দ্রুত বাংলাদেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং আন্তরিক।’