সম্পদের হিসাব দিতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের। এ জন্য একটি নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপস্থাপন করা ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করে উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ যারা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতি বছর আয়কর জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নীতিমালায় সংযুক্ত ছকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন। এ বিধান রেখে খসড়া আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়।
বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার কোন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তা জানিয়ে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ ২০২৪’ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এরই মধ্যে সরকারি সব কর্মচারীর সম্পদের হিসাব দিতে হবে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীকে চাকরিতে প্রবেশের সময় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা দিতে হয়। এরপর পাঁচ বছর অন্তর সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধির বিবরণী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নিয়ম। দুর্নীতি রোধ এবং চাকরিজীবীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আচরণবিধিমালায় এমন নিয়ম থাকলেও কাগজের এই নিয়ম এত দিন মানা হয়নি বললেই চলে। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দিলেও অগ্রগতি হয়নি। এর আগে প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর সম্পদ বিবরণী সরকারের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ রকম পরিস্থিতিতে আলোচনা হয়েছিল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতি বছরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আয়কর বিবরণী জমা দেন, যেখানে সম্পদের বিবরণীও উল্লেখ করার বিধান রয়েছে। তাই আলাদা করে পাঁচ বছর পরপর সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার চেয়ে সেটির একটি অনুলিপি বা আলাদা ফরমে জমা দিলেই হবে কি না, সেই আলোচনাও হয়েছিল। এ জন্য বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনেরও উদ্যোগ নিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিগত সরকারের আমলে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি জানা গেছে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এখন অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সব সরকারি কর্মচারীকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার পর বিচার বিভাগীয় সব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে-বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবারে উপদেষ্টা ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদেরও সম্পদের হিসাব দাখিলে আইনি বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে।