ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পিটিয়ে দুই যুবককে হত্যা, ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পাঁয়তারা ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) যৌথ বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, দ্রুত এসব সহিংস কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবৃতিতে উদীচীর নেতারা বলেন, গত কিছুদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চোর সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রনেতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকজনকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এমন অমানবিক কাজ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্তরায় বলে মনে করে উদীচী।
এসব ঘটনা ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকার বিলোপের যে অনন্য অর্জন, ওই অর্জনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। উদীচী নেতারা বলেন, কেউ দোষী হলে বা কোনো অন্যায় করলে তাকে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনাটাই যুক্তিযুক্ত কাজ। কিন্তু তা না করে, একশ্রেণির মানুষ নিজেদের হিংস্র প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য মানুষকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে উদীচীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কখনোই কাম্য নয় বলে মনে করে উদীচী। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। তাই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ না করে বরং যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে তাদের নিষিদ্ধ করাটাই বেশি জরুরি বলে মনে করে উদীচী।
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সংঘটিত সহিংসতায় কয়েকজনের প্রাণহানি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চক্রান্তসহ নানা ধরনের অপকর্ম করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উদীচী নেতারা বলেন, অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জয়ন্ত সাহা/এমএ/