ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাইকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার নেইমার কি আর খেলবে বিশ্বকাপ? পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী এমবাপ্পে আর ইয়ামালদের যুগেও মেসিই ফুটবলের 'ফাইনাল বস' রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা? আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ঘিরে বেরোবির স্মারক মাঠে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ রাজধানী ও গাজীপুরে আ.লীগের ৪৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার উপসচিব হলেই আগের এসিআর পাঠাতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হাইড্রেশন ব্রেক ম্যাচের গতি নষ্ট করছে: টুখেল বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার আরও অভিযোগ

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৪, ১১:১১ পিএম
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার আরও অভিযোগ
শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

রাজধানীর চানখাঁরপুলে গত ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস হত্যাসহ গণহত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে। 

বুধবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন করেন আনাসের নানা সাইদুর রহমান খান বাদল। 

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তারা আনাসের মতো শিশুদের হত্যার ঘটনাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করবেন। 

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট গেন্ডারিয়ার বাসা থেকে গোপনে বেরিয়ে চানখাঁরপুলে আন্দোলনে যোগ দেয় দশম শ্রেণির ছাত্র আনাস। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সে। আমরা কিছু ভিডিও পেয়েছি, কীভাবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সেখানে অলিতে-গলিতে ঢুকে গুলি করেছে। আনাস বাসা থেকে গোপনে বের হওয়ার সময় তার স্কুলের খাতায় বাবা-মায়ের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে আসে। চিঠিতে সে বলে, আমি যদি বেঁচে না ফিরি, তবে গর্বিত হইয়ো। জীবনে প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।’
 
৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ নিয়ে মোট ৩১টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হলো। এর মধ্যে ১৩টি চিফ প্রসিকিউটর বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো তদন্ত সংস্থায় দাখিল করা হয়।

আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

জুলাই-আগস্টে গণহত্যার সরাসরি হুকুমদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

বুধবার চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

অভিযোগে বলা হয়, হুকুমদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দল- সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, জাসদ (ইনু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মেনন), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, তরীকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাসদ ও জাতীয় পার্টি-জেপি গণহত্যায় সরাসরি জড়িত। তাই অপরাধী সংগঠন হিসেবে তদন্তপূর্বক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এর আগেও আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে পৃথকভাবে ১৪ দলের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম অভিযোগ।

সাবেক সেনাপ্রধানসহ ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ

সাবেক সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিনসহ ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ করা হয়েছে। অপর ২ কর্মকর্তা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে জে (অব.) মো. আকবর হোসেন ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মে জে (অব.) মো. সরোয়ার হোসেন। এতে আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই অভিযোগ দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। তিনি এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কাছেও একই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, তিনি ২০ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করার পরে, ২০০৭ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ২০০৮ সাল থেকে সুশাসন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্বৈরাচারের দোসর, গুম-খুনের হোতা, আয়নাঘরের সৃষ্টিকারী এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী। তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস, ভিন্নমত দমন করে রেখেছিল। তিনি যেহেতু গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকারের জন্য কথা বলেন এবং ফ্যাসিস্ট রেজিমের সমালোচনা করেন, সে জন্য তারা সরোয়ারের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আসামিরা তাকে (ব্যারিস্টার সরোয়ার) অত্যাচার, ক্রসফায়ার বা গুম করার সুযোগ খুঁজছিল। আকবর হোসেন ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক থাকাকালে ২০১৩ সালের অক্টোবরে তাকে ৯টি মামলায় শোন এরেস্ট দেখান। একাধারে তাকে ৬ মাস কারান্তরীণ রাখা হয়।  

অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন একটি লিগ্যাল নোটিশের জবাব দেওয়ায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গুম করার উদ্দেশে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর চা খাওয়ার কথা বলে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে ডেকে নিয়ে যান। আসামিরা ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাশীল। ভিন্নমত অবলম্বনকারীদের ক্রসফায়ার করা, গুম-খুন করা ছিল তাদের নেশা ও পেশা। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করে, মানবাধিকার অপরাধ করে সেনাপ্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান এস এম সফিউদ্দিন। সেনাপ্রধান হিসেবে ২০২৪ সালে পাতানো নির্বাচনে সহযোগিতা করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। এ ছাড়া আকবর হোসেন ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পদে ডিজিএফআইয়ে চাকরি করেছেন। অগণিত মানুষকে আয়নাঘরে বন্দি করে রেখেছিলেন। অনেক মানুষকে ক্রসফায়ার করেন, যা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। আকবর হোসেন ঘৃণিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পাতানো নির্বাচনে সহায়তা করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। তিনি ছিলেন পতিত স্বৈরাচারের অন্যতম দোসর। মে জে (অব.) মো. সরোয়ার হোসেন ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত নিজেকে জাতীয়তাবাদী ঘরানার লোক বলে পরিচয় দিতেন। ২০০৯ সালের পর হঠাৎ তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী হয়ে অতি আওয়ামী লীগ সেজে বসেন। ২০১৫-১৬ সালে ডিজিএফআইয়ের পরিচালক থাকাকালীন গুম, খুনসহ নানাবিধ মানবাধিকার অপরাধ সংঘটিত করেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তিনিও ছিলেন পতিত স্বৈরাচারের অন্যতম দোসর।  

ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘আটক অবস্থায় তাকে ভয়ভীতি প্রদান করেন মে জে (অব.) মো. সরোয়ার হোসেন। আসামিরা বলেন ব্যারিস্টার সরোয়ারের মুখ এমনভাবে বন্ধ করা হবে, যাতে আর কোনো দিন কথা বলতে না পারেন। আসামিরা তাকে (ব্যারিস্টার সরোয়ার) আয়নাঘরে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। ১১ ঘণ্টা গুম থাকার পর তাকে (ব্যারিস্টার সরোয়ার) ছেড়ে দেন। গুমের ঘটনায় আসামিদের শাস্তিসহ ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেন ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন।’

বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। সেই দূষণের কবলে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকাও।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আইকিউএয়ারের সবশেষ সূচকে দেখা যায়, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১২৩। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম।

তালিকায় ১৭৮ স্কোর নিয়ে দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতা শহরে বায়ুমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৩। তৃতীয় অবস্থোনে ১৬০ স্কোর নিয়ে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ১৫৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার স্কোর ১৩৭।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
 
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্তরা/

যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের সব বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রিফাত/

উপসচিব হলেই আগের এসিআর পাঠাতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
উপসচিব হলেই আগের এসিআর পাঠাতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাদের পূর্ববর্তী চাকরিজীবনের সব বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত এক নির্দেশনা সোমবার (২২ জুৃন) জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের চাকরিজীবনের এসিআরসংক্রান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পদোন্নতির আগ পর্যন্ত সংরক্ষিত সব এসিআর ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের উভয় কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিআর অধিশাখায় সংরক্ষণ করতে হবে।

এ লক্ষ্যে প্রশাসন ক্যাডার ব্যতীত অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও দপ্তরে সংরক্ষিত তাদের সব এসিআর দ্রুত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় নির্দেশনায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে।

সহযোগিতার নতুন দিগন্তে ঢাকা-কুয়ালালামপুর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
সহযোগিতার নতুন দিগন্তে ঢাকা-কুয়ালালামপুর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গতকাল মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আগমুহূর্তে। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমনে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উভয়দেশের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়।

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে কিছুক্ষণ একান্ত বৈঠক শেষে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক সই এবং দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান।  

বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা ঢাকা-কুয়ালালামপুর সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’
প্রত্যাশা ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় সফরে দেশটির শ্রমবাজার দ্রুতই খুলবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, খুব দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমবাজার খুলতে আরও সময় লাগতে পারে। কী প্রক্রিয়ায় দেশটিতে নতুন করে কর্মী যাবে, সেই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি মালয়েশিয়ার সরকার। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বন্ধ করতে এআই সিস্টেম ব্যবহারের চেষ্টা করছে দেশটি। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ আছে।

২০২৪ সালের ১ জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বিদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় ভিসা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। 

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চুক্তির পরপরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার কোনো নজির নেই। চুক্তির পর কী পরিমাণ কর্মী যাবে, কোন প্রক্রিয়ায় যাবে, শর্ত কী থাকবে–এগুলো নিয়ে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী যাওয়া শুরু করে। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সবশেষ সমঝোতা চুক্তি হয় এবং এর মাধ্যমে সেই বাজার খুলতে সময় লেগেছিল তিন বছর। এই বছর চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি আছে, সেটা নতুন করে নবায়ন করব। সেটির জন্য ইতোমধ্যে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আজকে প্রধানমন্ত্রীসহ দুই দেশ যেহেতু একসঙ্গে বসেছেন, আমাদের শ্রম চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দুটো প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি বেগবান হবে।’

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটি সফরকালে মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।  

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’ বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে গতকাল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন।

দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে চার স্তরবিশিষ্ট জটিল কর কাঠামোর কারণে তামাক পণ্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। ফলে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার পরিবর্তে সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেটে চলে যাচ্ছেন, যা কর বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।

সোমবার (২২জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: তামাক কর ও নীতি সংস্কারের শেষ সুযোগ’ শীর্ষক পোস্ট-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। ‘শুধু দাম বেড়েছে কি না, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং এই বৃদ্ধি তামাকের ব্যবহার কমাতে এবং সরকারি রাজস্ব সর্বোচ্চ করতে যথেষ্ট কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন রাজস্বের বড় সুযোগ নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ই-সিগারেটের নিয়ন্ত্রণমূলক সংজ্ঞা দুর্বল করে এগুলোকে কার্যত সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া আগামী দিনগুলোতে তরুণদের জন্য একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বিষয়ে উপস্থাপনা পেশ করেন পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মুহম্মদ ইহতিসাম হাসান। তিনি দেখান, ২০২৪ সাল থেকে বাজারে সামগ্রিক সিগারেট সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বারবার কর ও মূল্য সমন্বয়ের পরও তামাক পণ্য এখনো সাশ্রয়ী রয়ে গেছে। তামাক সেবন হ্রাস এবং যুবসমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ ছাড়া প্রতি ১০ স্টিকের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়, যাতে মূল্যবৃদ্ধির টাকা সরাসরি সরকারের রাজস্বে জমা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ যদি চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তরিত হতে চায়, তবে তামাক করকে প্রধান হাতিয়ার করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহীন শিমুল তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।