বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয়ভাবে রয়েছে। এটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আর কিছু দিন পরেই বিদায় নেবে মৌসুমি বায়ু। তাই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াসংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ও গবেষক বজলুর রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, ১২ থেকে ১৩ অক্টোবরের দিকে বৃষ্টিপাত কমে একেবারে শুষ্ক হয়ে যাবে। এরপর মৌসুমি বায়ু চলে যাবে, বিদায় নেবে। রবিবার (আজ) ও আগামীকাল সোমবার বৃষ্টি হবে। ময়মনসিংহ, ঢাকা, রংপুর, সিলেট বিভাগে বৃষ্টিটা বেশি হবে। আর দক্ষিণাঞ্চলে একটু কম হবে। তারপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত কমে যাবে। মৌসুমি বায়ু একেবারে বিদায় নেওয়ার আগে এ রকম বৃষ্টি হয় বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণজনিত কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা
গতকাল সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। তবে দুপুরের দিকে নামে ঝুম বৃষ্টি। ঘণ্টাখানেক চলে ভারী বৃষ্টির দাপট। অল্প সময়ে ভারী বৃষ্টির ফলে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। পুরান ঢাকার বংশাল, সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, পান্থপথ, তেজকুনিপাড়া, তেজতুরী বাজার, গ্রিনরোডসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। পানিতে আটকা পড়ে অনেক যানবাহন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯ মিলিমিটার, যা বৃষ্টিপাতের শ্রেণিতে ভারী। হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন কাজে বের হওয়া নগরবাসীকে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সচিবালয়ের উল্টোপাশে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সামনের সড়কে জমে যায় হাঁটুপানি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে আসা শিক্ষকদেরও মুখোমুখি হতে হয় তিক্ত অভিজ্ঞতার। অনেকে জুতা খুলে, কাপড় গুটিয়ে রাস্তা পার হতে বাধ্য হয়েছেন। এ সময় ড্রেনের পানিতে থাকা ময়লা ভাসতে থাকায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হুমায়ুন কবির নামে একজন বেসরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ড্রেন সিস্টেমটা এখনো উন্নত করতে পারিনি। ঢাকা শহরের ড্রেনগুলো আরও প্রসারিত করা দরকার। তাহলে অনেক পানি ধারণ করতে পারত। এখন সামান্য বৃষ্টিতেও সবখানে পানি জমে যাচ্ছে।’
আবার অনেকে যানবাহন না পেয়ে এক জায়গাতেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। পানি জমে যাওয়ায় রিকশাচালকরাও দাবি করছিলেন অতিরিক্ত ভাড়া। বিভিন্ন মোড়ে বাসের আশায় যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। বাস পাওয়া গেলেও আবার বসার সিট ছিল ভেজা। অস্বস্তির কথা জানিয়ে বিহঙ্গ বাসের যাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে বাস পেলাম, কিন্তু বসার মতো অবস্থা নেই। জানালার পাশের সব সিট ভেজা।’