ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া

সহিংসতার বিস্তার তৃণমূলেও

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৪, ০১:১২ পিএম
সহিংসতার বিস্তার তৃণমূলেও
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশে বিতর্ক ও বিভাজনের রাজনীতির অভিজ্ঞতা নতুন নয়। সব সময়ই বিতর্ক-বিভক্তি ছিল, এখনো আছে। বিভেদ, বিতর্ক ও বিরোধিতা পৌঁছেছে রাজনৈতিক অঙন থেকে সমাজজীবন ও পারিবারিক-ব্যক্তি পর্যায়ে। রাজধানী, মহানগর ও শহর ছাড়িয়ে বিভেদ-বিভাজন এখন দেশের তৃণমূল ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। এই বিতর্ক, বিভাজনের শত্রুতা এখন বাড়ছেই। বিয়ে-শাদির সম্পর্কের মধ্যেও রাজনৈতিক বিভেদ প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক কারণে নিজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি, রেষারেষি, দূরত্ব ও অপ্রীতিকর ঘটনার বেশ কিছু চিত্র উঠে এসেছে খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানে। 

বরিশালের জেলা প্রতিনিধি মঈনুল ইসলাম সবুজের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরীতে দুই ভাই দুই দলের নেতা। একজন বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের, অপরজন আওয়ামী যুবলীগের নেতা। তারা হলেন- বরিশালের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা মোমেন শিকদার ও সাহিন শিকদার। মোমেন শিকদার যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। সাহিন শিকদার বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। মোমেন শিকদারের নিজস্ব ভবনের নিচতলায় দুই ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। গত এক দশক ধরে তারা দুই ভাই ওই অফিসের পাশাপাশি কক্ষে বসতেন, কাজ করতেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দুই ভাইয়ের বিভেদ এখন চরমে। ৫ আগস্টের পর সাহিন শিকদার অফিসে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। দুই ভাইয়ের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। শুধু সাহিন শিকদার আর মোমেন শিকদার নন, জেলায় ভিন্ন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্য পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে প্রকাশ্য বিরোধ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাহিন শিকদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগেও বড় ভাইয়ের কাছে বিএনপির বিভিন্ন লেভেলের লোকজন আসতেন। নানা কথা হতো। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অফিসে তেমন একটা যাওয়া হয় না। কারণ, বড় ভাইয়ের কাছে আসা লোকজনের সঙ্গে কখন কোন কথায় দ্বন্দ্ব বেঁধে যায় বলা-তো যায় না। এ নিয়ে পারিবারিক কোনো সমস্যা হোক, তা চাই না। তাই, ওই অফিসে যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছি।’ 

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘আমার ভাই চাচাতো ভাইয়েরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগের শাসন আমলে তারা বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর ক্ষতি করেনি। তবে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে তাদের নিয়ে বিএনপির ফোরামে কথা উঠলে বিব্রত বোধ করি। তার পরেও রক্তের সম্পর্ক তো কাটা যায় না।’

এ বিষয়ে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে প্রভার পড়ার কথা ছিল তা বরিশালেও পড়েছে। দলীয় একক পরিবারের চেয়ে মিশ্রিত পরিবারগুলোতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিরাপদে রয়েছেন।’ 

চট্টগ্রামের ব্যুরো চিফ ইফতেখারুল ইসলাম জানান, জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা কোন্দল, বসত বাড়িতে হামলা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে সরকারি কর্মস্থলে দুই কর্মচারীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির ঘটনাও ঘটেছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৩ নম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি সালিশ বৈঠকে যান রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সোহেল ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন। সেখান থেকে তাদের অপহরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী দুই নেতার হাত, পা, চোখ বেঁধে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ৩ মাইল দূরের চৌধুরী হাটের পাশে মাঝের চরে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে দুর্বৃত্তরা। বিএনপির দুই গ্রুপের আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মামলাও হয়েছে। 

আওয়ামী সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আধিপত্য বিস্তার করছে বিএনপি জামায়াত, যুবদল, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবির। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিএনপি ও জামায়াতের একটা প্রভাব তৈরি হয়েছে। ফলে প্রশাসন এখন তাদের সহযোগিতা নিচ্ছে। বাঁশখালীতে বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করাদের বাড়িতে সরকার পতনের পর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলো। কিন্তু সবাইকে তো ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর যে আচরণ সেটা কিন্তু সন্তোষজনক নয়। সারা দেশে একটা অরাজকতা তৈরি হয়ে গেছে। সরকারও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এখন দল-বদল হয়েছে, লুটপাট-চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।’

খুলনা প্রতিনিধি মাকসুদুর রহমান জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে দুটি মালিক সমিতির কার্যালয় দখলের ঘটনা ঘটে। একই ঘটনা ঘটে রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির ক্ষেত্রে। সরকার পরিবর্তনের পর শিরোমণি শুল্ক ঘাট, ফুলতলা উপজেলা ঘাট ও মন্দির ঘাট দখলের ঘটনা ঘটে। যে দল উৎখাত হয়েছে, তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া খুলনার সবচেয়ে বড় গরুর হাট ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ও আঠারো মাইল হাট দখল হয়ে গেছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে অনেক নিরীহ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীকে। ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। খুলনার রূপসা স্ট্যান্ড রোড, চাঁনমারী, রূপসা মাছ বাজার, শেখপাড়া বাজার, গোবরচাকা, টুটপাড়া, জিন্নাহপাড়া, লবণচরা, চানমারী বাজার, বানিয়াখামারসহ আশপাশ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা ঘটে। সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ৬ সেপ্টেম্বর তেরখাদায় কোলা বাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য সৈয়দ ফারুক মীরকে কুপিয়ে হত্যা করা- 

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা জানান, জনতার আন্দোলনের মুখে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে। এটি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা ছিল না। এক্ষেত্রে এ ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হওয়া অবান্তর কিছু না। একটি শ্রেণি নিজেদের সুবিধার্থে এক ধরনের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। পাশাপাশি জনগণেরও সচেতনতার দরকার রয়েছে। 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান মিন্টু জানান, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়েছেন। বালুমহাল দখলে রাখা লীগ নেতারা আর নেই। এমন সময়ে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী বালুমহাল কবজায় নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। এতে ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির আরেকটি পক্ষ সুবিধা নিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

এ ছাড়া কোন্দলের রাজনীতির মারপেঁচে এক নেতা আরেক নেতার অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। একে অপরকে বহিষ্কারের চেষ্টা করছেন। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

এদিকে ক্ষমতার পালাবদলের পর শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে পরিচিত ভালুকায় একটি পক্ষ জুট ও শ্রমিক পরিবহনের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপরতা শুরু করেছে। 

স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, যারা প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দখলবাজি শুরু করে এরা দলের প্রকৃত নেতা-কর্মী নন। যারা দলকে ভালোবাসে, তারা নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করে না। যারা অবৈধভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৎপর, দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্যরাও সচেতন হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, আমরা মারামারি কিংবা কোন্দল দেখতে চাই না। সমাজের প্রতিটি জায়গায় শান্তি চাই। এ জন্য ভূমিকা রাখতে হবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাসহ সচেতন মহলের। 

রাজশাহীর প্রতিনিধি এনায়েত করিম জানান, রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে জেলায় হত্যা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, ছিনতাই এবং পুকুর ও প্রতিষ্ঠান দখলের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। এক দশক আগে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় পা হারানো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে গত ৭ সেপ্টেম্বর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গণপিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর চার দিন আগে কন্যা সন্তানের জনক হন তিনি। 

গত ২৬ সেপ্টেম্বর কথাকাটাকাটির জেরে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বড় পালশা গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মী একসার আলীর হাঁসুয়ার কোপে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে বিএনপির এক কর্মী খুন হয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বাগমারা উপজেলার গাঙ্গপাড়া জনতা ব্যাংকের সামনে থেকে আফজাল হোসেন নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। একই দিনে তাহেরপুর পৌরসভা এলাকায় পৃথক স্থানে চারজনকে পিটিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গপাড়া এলাকায় রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাসিবুল আলমের ৯০ বিঘা জলকর দখল ও প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ লুটপাট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়িও। রাজশাহীর হড়গ্রাম এলাকার মিজান নামে এক ব্যক্তি জানান, ৬ আগস্ট একদল লোক অস্ত্রসহ তার জমি দখল করতে আসে। এ সময় তাকে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। পরে স্থানীয় জনতা তাদের আটকে রেখে অস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। একই দিনে নগরীর বাজে সিলিন্দা এলাকাতে খসরু পারভেজ নামে এক ব্যক্তির জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, ৬ আগস্ট একদল লোক বিএনপির কর্মী পরিচয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় তারা ওই জমিতে থাকা গ্যারেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ৯ আগস্ট মেহেরচণ্ডি এলাকার শাহিন আক্তারের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চলায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। একই দিন রাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলার সভাপতি আহমদ শফি উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, জাতির সফলতা ধ্বংসে নয়, গঠনে। সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মারামারি, হানাহানি, লুটতারাজ একটি জাতিকে ভালো কিছু দেয় না। তাই এগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে। 

রংপুর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রানা জানান, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় শুরু হয়েছে দখলবাজি। হাট-ঘাট, বালুমহাল দখলদারি, অন্যের জমি দখল নিয়ে পুরোনো দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এসেছে। রংপুর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অধ্যক্ষ ফখরুল আলম বেনজু জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন

গোটা জাতির জন্য অকল্যাণকর

‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিকদলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না- এটা পরিষ্কার করা দরকার যে, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে।’ 

যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনও কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। তারা প্রতীকী কারণে হয়তো মাঠে আছেন, বলছেন অনেক কিছু করে ফেলবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

রিফাত/

বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

ছয় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

অন্তরা/

আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৩ এএম
আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ মিছিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরী (২৬ জুন ২০২৬ খ্রি.) পবিত্র আশুরা উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতংক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ।

আরও বলা হয়, তাছাড়া মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

আরও উল্লেখ করা হয়, এই আদেশ তাজিয়া মিছিল শুরু হতে শেষ সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।

অন্তরা/

১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা
‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজ, পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার সময়ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ ১১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালী সফলভাবে অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আটকে থাকা জয়যাত্রা জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। সেটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে রয়েছে। দীর্ঘদিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে না পারা বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এটিকে একটি অনন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে নির্মিত ও ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু রয়েছেন, যারা বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের জলসীমায় জাহাজটি বাঙ্কারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করেছে।

গত ২৬ জানুয়ারি একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক চার্টারের অধীনে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে কাতার থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আসে। কিন্তু জাহাজটি বন্দরে অবস্থানকালেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই অঞ্চলে তীব্র সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। চরম ঝুঁকির মধ্যেই ১১ মার্চ সাহসিকতার সঙ্গে কার্গো খালাস সম্পন্ন করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী পার হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ক্ষতি এড়াতে অলস বসিয়ে না রেখে বিএসসি ম্যানেজমেন্ট দ্রুত একটি বিকল্প বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নেয়।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে পাঠিয়ে সেখান থেকে প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার বোঝাই করা হয়, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দরে যাওয়ার কথা। এই দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে জাহাজটি এক দিনের জন্যও ‘অফ-হায়ার’ বা ভাড়া ছাড়া থাকেনি। 

সার বোঝাই করার পর হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটির অবরুদ্ধ অবস্থা আরও দীর্ঘ হয় পড়ে থাকতে হয়। গত ১৮ এপ্রিল ইরান নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজটির যাতায়াতের অনুমতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকা পড়ে থাকে জাহাজটি।

​দীর্ঘ অবরুদ্ধ সময়ে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বিএসসি জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে। পাশাপাশি স্বাভাবিক সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদে বিশেষ প্রণোদনা এবং ‘ওয়ার ওয়েজ’ দেওয়া হয়।

এমভি বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ১১৫ দিন পর অবশেষে আমরা মুক্ত হয়েছি। এ দীর্ঘ সময় যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বড় আতঙ্কে ছিলাম।  আমাদের মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন ও মিসাইল গেছে। মনে হয়েছিল মুহুর্তে শেষ হয়ে যাব। আল্লাহ উপর ভরসা করে প্রতিটি রাত কাটিয়েছি। ঘুমানোর সময় মনে হতো আজই বুঝি জীবনেন শেষ রাত। 

আবদুস সাত্তার/আজহার/

বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। সেই দূষণের কবলে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকাও।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আইকিউএয়ারের সবশেষ সূচকে দেখা যায়, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১২৩। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম।

তালিকায় ১৭৮ স্কোর নিয়ে দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতা শহরে বায়ুমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৩। তৃতীয় অবস্থোনে ১৬০ স্কোর নিয়ে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ১৫৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার স্কোর ১৩৭।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
 
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্তরা/