বিক্ষোভ-অবরোধ ও সংঘর্ষে অশান্ত মহানগরে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। নানা ইস্যুতে আকস্মিক অবরোধ-আন্দোলনে প্রতিদিন অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। জনমনেও বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
সোমবারও (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর ডেমরা, আগারগাঁও, শ্যামলী, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধ ও আন্দোলনের জেরে ভয়ানক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডেমরার কাজলায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে পুরান ঢাকার সরকারি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা-ভাঙচুর ও সংঘর্ষে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজেও এ সময় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে।
এ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নাফি (১৭)নামে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গতকাল বিকেলে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এর বাইরেও সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও ও শ্যামলীতে বেশ কিছু সময় সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। তবে দুপুরের পর উচ্চ আদালত থেকে এসব রিকশা চলাচলে বাধা-নিষেধ তুলে নেওয়া হলে অবরোধকারীরা শান্ত হয়ে সরে যান।
সোমবারও কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রবিবার রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স) ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি আহত হন। এভাবে নানা ইস্যুতে আন্দোলন, সড়ক ও স্থাপনা অবরোধ এবং হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা সামাল দিতে গিয়েও অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ডেমরা-যাত্রাবাড়ী রণক্ষেত্র-কলেজে তাণ্ডব
স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগের হামলা-ভাঙচুরের পাল্টা জবাব দিতে পূর্বঘোষণা দিয়ে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলার জন্য সোমবার সকাল থেকে পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হন কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখান থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ডেমরার মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের উদ্দেশে হেঁটে রওনা হন। সদরঘাট এলাকার বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে ডেমরায় মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে পৌঁছেই সেখানে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো শুরু করেন তারা। হ্যান্ড মাইকিং করে কলেজটিতে নির্বিচারে ভাঙচুর চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটও চালান তারা। কলেজের কম্পিউটার, চেয়ার, খাতাপত্রসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে অনেককে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ সময় তারা কলেজটির যে শিক্ষার্থীকে সামনে পেয়েছেন তাকেই বেধড়ক পিটিয়েছেন। বেশ কয়েকজন মারধরে গুরুতর আহত হয়ে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় বা ফুটপাতে পড়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা ও ডেমরা-কাজলার স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারী কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দীর শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় সেখানে সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। দীর্ঘ সময় যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-সিলেট সড়কসহ আশপাশের অধিকাংশ রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সংঘর্ষের দায় বা প্রশ্নের জবাবে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করে বক্তব্য দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে ডেমরার ওই কলেজ পর্যন্ত প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে গিয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটালেও তাদের বাধা দেওয়া বা রাস্তায় আটকাতে পুলিশ কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর তেমন কোনো ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি। পুলিশ ‘সতর্ক’ অবস্থানে থাকার কথা আগে জানালেও কার্যত যেন ‘কিছুই করার ছিল না’ অবস্থা দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কলেজ ভবনজুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন
শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সরে গেলে বেলা ২টার পর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সামনে সেখানকার শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবস্থান নেন।
এ সময় দেখা গেছে, কলেজটির ১০ তলা ভবনের প্রায় সব তলায় ভেতরে-বাইরে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন। অনেক কক্ষের সিলিং ফ্যানও দুমড়ে ফেলা হয়েছে। ভবনের ভেতরের নানা আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ভেঙে লণ্ডভণ্ড করে ফেলা হয়েছে। এমনকি ভবনের অভ্যন্তরীণ বারান্দায় বা চলাচলের পথে রাখা শোভাবর্ধক নানা প্রজাতির গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে।
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তথাকথিত সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ হামলায় অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থী নাফি গুলিবিদ্ধ: তিন কলেজের সংঘর্ষকালে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী নাফি (১৭) গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। কে বা কারা তাকে গুলি করেছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, সংঘর্ষে লিপ্ত থাকা ছাত্রদের মধ্যে থেকেই তাকে গুলি করা হয়েছে।
ডেমরার বামৈল বাজার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে নাফি ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। নাফির খালু মোহাম্মদ সাঈদ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারামারির খবর শুনে নাফি সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছিল। তার কিছু পরেই সে গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে ডেমরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান থেকে নাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তার পেটে গুলি ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনাটি অনেক বড় হলেও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে সেখানে গুলি করতে দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের দমাতে কঠোর কোনো পদক্ষেপ ছিল না। টিয়ার শেল বা রাবার বুলেটও ছোড়া হয়নি। এমন অবস্থায় নাফির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেছেন, তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের ওই সংঘর্ষকালে পুলিশ কোনো গুলি করেনি। গুলিতে শিক্ষার্থী আহতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম সোমবার বিকেলে জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা যেভাবে
গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহাবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) শিক্ষার্থী অভিজিৎ মারা যান। তার এই মৃত্যুর জন্য সহপাঠীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলাকে দায়ী করেন। তাদের আরও অভিযোগ, অভিজিতের মৃত্যুর পর টাকার জন্য তার লাশ আটকে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০ নভেম্বর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা লাশ নিতে এলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার পর লাঠিপেটা করে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। পরদিন ২১ নভেম্বর ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা আবার ন্যাশনাল মেডিকেলে গেলে এবার কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালান। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত রবিবার রাজধানীর ৩৫টি কলেজের ছাত্ররা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় সোহরাওয়ার্দী কলেজে সাত কলেজের পরীক্ষা চলছিল। এতে পরীক্ষা পণ্ড হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে এই পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এর বদলা নিতে রবিবার রাতেই সেন্ট গ্রেগরি কলেজে হামলা চালান সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্ররা। তারপর ঘোষণা দেওয়া হয় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা-ভাঙচুরের। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল এ হামলা-তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়।
অ্যাকশনে গেলে আরও রক্তপাত হতো: আসিফ
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সঙ্গে কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অ্যাকশনে গেলে আরও রক্তপাত হতো বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়নি
গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওই সব এলাকায় পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন করা হয়। মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। তথাপি উচ্ছৃঙ্খল ও মারমুখী শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা অতিক্রম করে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের দিকে অগ্রসর হয়ে ওই কলেজে হামলা চালান। পুলিশ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। ডিসি তালেবুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা মোটেই সঠিক নয়। চলমান পরিস্থিতিতে এমন গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ বন্ধ ঘোষণা
দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পুরান ঢাকার সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। গতকাল সোমবার কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, অনিবার্য কারণবশত ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কলেজের সব শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বুটেক্স-পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ৩০
গত রবিবার রাতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স) ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। গভীর রাত পর্যন্ত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ওই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।
আগারগাঁও-শ্যামলীতে অবরোধে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা
বিগত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় সোমবারও বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁও ও শ্যামলীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। এ সময় আগারগাঁও সড়কে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করেন অনেকে। এতে করে আশপাশের সড়কগুলোয় তীব্র যানজট দেখা দেয়। আন্দোলনকারীরা আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকে সড়কের মাঝখানে শুয়ে পড়েন। তবে উচ্চ আদালত থেকে গতকালই ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আপাতত তুলে নেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়ে রাস্তা থেকে সরে যান।
প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে আবারও অবস্থান
প্রথম আলো বয়কটের আন্দোলনের অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা গতকাল আবারও রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাদের আন্দোলন কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এর আগে গত রবিবারও প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনের সড়কে দিনভর অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন একদল ব্যক্তি। এতে রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি কাঁচাবাজারের আড়ত কারওয়ান বাজারের প্রধান সড়কটি যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। এতে কাজ না হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
কারও ইন্ধন থাকলে কঠোর হাতে দমন: প্রেস সচিব
সাম্প্রতিক এসব হামলা-সংঘর্ষের পেছনে কারও ইন্ধন থাকলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের সংঘর্ষের পেছনে কোনো ইন্ধন থাকলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব সংঘর্ষ হয়েছে, সরকার তার প্রতি নজর রাখছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের অন্য যেকোনো অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।