ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান করলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী

বিক্ষোভ-সংঘর্ষে অশান্ত ঢাকা

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৪৭ এএম
বিক্ষোভ-সংঘর্ষে অশান্ত ঢাকা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

বিক্ষোভ-অবরোধ ও সংঘর্ষে অশান্ত মহানগরে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। নানা ইস্যুতে আকস্মিক অবরোধ-আন্দোলনে প্রতিদিন অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। জনমনেও বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

সোমবারও (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর ডেমরা, আগারগাঁও, শ্যামলী, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধ ও আন্দোলনের জেরে ভয়ানক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

এর মধ্যে সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডেমরার কাজলায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে পুরান ঢাকার সরকারি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা-ভাঙচুর ও সংঘর্ষে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজেও এ সময় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে।

এ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নাফি (১৭)নামে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গতকাল বিকেলে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। 

এর বাইরেও সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও ও শ্যামলীতে বেশ কিছু সময় সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। তবে দুপুরের পর উচ্চ আদালত থেকে এসব রিকশা চলাচলে বাধা-নিষেধ তুলে নেওয়া হলে অবরোধকারীরা শান্ত হয়ে সরে যান।

সোমবারও কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রবিবার রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স) ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি আহত হন। এভাবে নানা ইস্যুতে আন্দোলন, সড়ক ও স্থাপনা অবরোধ এবং হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা সামাল দিতে গিয়েও অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

ডেমরা-যাত্রাবাড়ী রণক্ষেত্র-কলেজে তাণ্ডব
স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগের হামলা-ভাঙচুরের পাল্টা জবাব দিতে পূর্বঘোষণা দিয়ে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলার জন্য সোমবার সকাল থেকে পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হন কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখান থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ডেমরার মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের উদ্দেশে হেঁটে রওনা হন। সদরঘাট এলাকার বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে ডেমরায় মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে পৌঁছেই সেখানে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো শুরু করেন তারা। হ্যান্ড মাইকিং করে কলেজটিতে নির্বিচারে ভাঙচুর চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটও চালান তারা। কলেজের কম্পিউটার, চেয়ার, খাতাপত্রসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে অনেককে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ সময় তারা কলেজটির যে শিক্ষার্থীকে সামনে পেয়েছেন তাকেই বেধড়ক পিটিয়েছেন। বেশ কয়েকজন মারধরে গুরুতর আহত হয়ে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় বা ফুটপাতে পড়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা ও ডেমরা-কাজলার স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারী কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দীর শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় সেখানে সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। দীর্ঘ সময় যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-সিলেট সড়কসহ আশপাশের অধিকাংশ রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সংঘর্ষের দায় বা প্রশ্নের জবাবে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করে বক্তব্য দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে ডেমরার ওই কলেজ পর্যন্ত প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে গিয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটালেও তাদের বাধা দেওয়া বা রাস্তায় আটকাতে পুলিশ কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর তেমন কোনো ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি। পুলিশ ‘সতর্ক’ অবস্থানে থাকার কথা আগে জানালেও কার্যত যেন ‘কিছুই করার ছিল না’ অবস্থা দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। 

কলেজ ভবনজুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন
শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সরে গেলে বেলা ২টার পর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সামনে সেখানকার শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবস্থান নেন।

এ সময় দেখা গেছে, কলেজটির ১০ তলা ভবনের প্রায় সব তলায় ভেতরে-বাইরে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন। অনেক কক্ষের সিলিং ফ্যানও দুমড়ে ফেলা হয়েছে। ভবনের ভেতরের নানা আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ভেঙে লণ্ডভণ্ড করে ফেলা হয়েছে। এমনকি ভবনের অভ্যন্তরীণ বারান্দায় বা চলাচলের পথে রাখা শোভাবর্ধক নানা প্রজাতির গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে। 

ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তথাকথিত সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ হামলায় অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থী নাফি গুলিবিদ্ধ: তিন কলেজের সংঘর্ষকালে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী নাফি (১৭) গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। কে বা কারা তাকে গুলি করেছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, সংঘর্ষে লিপ্ত থাকা ছাত্রদের মধ্যে থেকেই তাকে গুলি করা হয়েছে।

ডেমরার বামৈল বাজার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে নাফি ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। নাফির খালু মোহাম্মদ সাঈদ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারামারির খবর শুনে নাফি সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছিল। তার কিছু পরেই সে গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে ডেমরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান থেকে নাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তার পেটে গুলি ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনাটি অনেক বড় হলেও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে সেখানে গুলি করতে দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের দমাতে কঠোর কোনো পদক্ষেপ ছিল না। টিয়ার শেল বা রাবার বুলেটও ছোড়া হয়নি। এমন অবস্থায় নাফির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেছেন, তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের ওই সংঘর্ষকালে পুলিশ কোনো গুলি করেনি। গুলিতে শিক্ষার্থী আহতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম সোমবার বিকেলে জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। 

ঘটনার ধারাবাহিকতা যেভাবে
গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহাবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) শিক্ষার্থী অভিজিৎ মারা যান। তার এই মৃত্যুর জন্য সহপাঠীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলাকে দায়ী করেন। তাদের আরও অভিযোগ, অভিজিতের মৃত্যুর পর টাকার জন্য তার লাশ আটকে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০ নভেম্বর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা লাশ নিতে এলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার পর লাঠিপেটা করে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। পরদিন ২১ নভেম্বর ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা আবার ন্যাশনাল মেডিকেলে গেলে এবার কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালান। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত রবিবার রাজধানীর ৩৫টি কলেজের ছাত্ররা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় সোহরাওয়ার্দী কলেজে সাত কলেজের পরীক্ষা চলছিল। এতে পরীক্ষা পণ্ড হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে এই পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এর বদলা নিতে রবিবার রাতেই সেন্ট গ্রেগরি কলেজে হামলা চালান সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্ররা। তারপর ঘোষণা দেওয়া হয় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা-ভাঙচুরের। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল এ হামলা-তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। 

অ্যাকশনে গেলে আরও রক্তপাত হতো: আসিফ
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সঙ্গে কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অ্যাকশনে গেলে আরও রক্তপাত হতো বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়নি
গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওই সব এলাকায় পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েন করা হয়। মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। তথাপি উচ্ছৃঙ্খল ও মারমুখী শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা অতিক্রম করে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের দিকে অগ্রসর হয়ে ওই কলেজে হামলা চালান। পুলিশ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। ডিসি তালেবুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা মোটেই সঠিক নয়। চলমান পরিস্থিতিতে এমন গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। 

সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ বন্ধ ঘোষণা
দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পুরান ঢাকার সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। গতকাল সোমবার কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, অনিবার্য কারণবশত ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কলেজের সব শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বুটেক্স-পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ৩০
গত রবিবার রাতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স) ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। গভীর রাত পর্যন্ত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ওই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। 

আগারগাঁও-শ্যামলীতে অবরোধে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা
বিগত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় সোমবারও বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁও ও শ্যামলীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। এ সময় আগারগাঁও সড়কে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করেন অনেকে। এতে করে আশপাশের সড়কগুলোয় তীব্র যানজট দেখা দেয়। আন্দোলনকারীরা আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকে সড়কের মাঝখানে শুয়ে পড়েন। তবে উচ্চ আদালত থেকে গতকালই ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আপাতত তুলে নেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়ে রাস্তা থেকে সরে যান।

প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে আবারও অবস্থান
প্রথম আলো বয়কটের আন্দোলনের অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা গতকাল আবারও রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাদের আন্দোলন কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এর আগে গত রবিবারও প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনের সড়কে দিনভর অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন একদল ব্যক্তি। এতে রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি কাঁচাবাজারের আড়ত কারওয়ান বাজারের প্রধান সড়কটি যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। এতে কাজ না হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

এ প্রসঙ্গে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

কারও ইন্ধন থাকলে কঠোর হাতে দমন: প্রেস সচিব
সাম্প্রতিক এসব হামলা-সংঘর্ষের পেছনে কারও ইন্ধন থাকলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের সংঘর্ষের পেছনে কোনো ইন্ধন থাকলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব সংঘর্ষ হয়েছে, সরকার তার প্রতি নজর রাখছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের অন্য যেকোনো অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান করলেন প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২ এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে, আমাদের ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডি’র মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি। 

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি  ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়।

জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার  কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজকেও আধুনিকীকরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছি। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচি’র মাধ্যমে, আমরা বনাঞ্চল সম্প্রসারণ করব, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করব, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং তাপমাত্রা হ্রাস করব।

বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য বিনিয়োগ করছি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করছি। একই সাথে, আমাদের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পকেও উৎসাহিত করি।  সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন-ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনের জন্য একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনাও করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবুজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। এখন আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯ টিই বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১ এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

নাঈম/

‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং অনলাইন বেটিংসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটিতে এসব অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন।

বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে তিনি প্রস্তাব করেন, কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করবে। এ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষার পর প্রস্তাবিত বিলটি সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জুয়ার বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত এই আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, বাজি, টোটালাইজেটর, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এলিস/এসএন

আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব
ছবি: সংগৃহীত

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ হজরত মওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন- ইসলামে আদবের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার আদব-আখলাকের মাধ্যমে। মানুষকে মানুষের মাঝে সম্মানিত করে তার সম্পদ নয়, তার বংশ নয়, বরং তার আদব ও চরিত্র। আদব এমন একটি গুণ, যা একজন মানুষকে সমাজে মর্যাদাবান করে তোলে। “আদব ছাড়া ইলম হলো ফলহীন বৃক্ষের মতো”। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন আদব ও উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা। তাঁর জীবন আমাদের জন্য আদবের সর্বোত্তম শিক্ষা।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- আদবের প্রথম ধাপ হলো আল্লাহর সাথে আদব। এরপর পিতা-মাতার সাথে আদব। আজ অনেক সন্তান পিতা-মাতার কথা শুনতে চায় না। শিক্ষকদের সাথে আদব, আলেমদের সাথে আদব, প্রতিবেশীদের সাথে আদব বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই শিক্ষিত হচ্ছি, কিন্তু আদব শিখছি না। ফলে সমাজে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করা। মনে রাখতে হবে, আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে।

সোমবার (২২ জুন) মাগরিবের পর ছারছীনা দরবার শরীফ জামে মসজিদে হজরত পীর ছাহেব কেবলা পবিত্র হজব্রত পালন শেষে দেশে এসে ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নসিহত করতে গিয়ে একথা বলেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার আসাতিজায়ে কেরামগণ।

এসএন/

বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। শিল্প খাতে কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের বিপুল আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ওই অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বড় আকারের আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ও ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ও ইউরেশিয়ার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

আফ্রিকা অঞ্চলেও বাণিজ্য ঘাটতির বিস্তার রয়েছে। মরক্কো, বেনিন, ক্যামেরুন, মালি, বুর্কিনা ফাসো, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভরতার কারণেই এই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য কৌশল ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এলিস/এসএন

শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু
বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

তিনি বলেন, “হাসিনা আবার ফিরে এলে যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন কালো করে ছাড়বে।”

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিরোধী দলের উদ্দেশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, বর্তমান সরকারের মাত্র চার মাস হয়েছে। এখনই নতুন আন্দোলন বা বিপ্লবের কথা বলা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, সরকারকে সহযোগিতা করুন। আল্লাহ না করুক, আবারও যদি দানব হাসিনা ফিরে আসে, যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন কালো করে ছাড়বে।”

একই বক্তব্যে তিনি সম্প্রতি আলোচিত ‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, সেখানে এমন একটি চেয়ার দেখেছেন, যেখানে বিরোধী দলের নেতাদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। তার দাবি, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ওই চেয়ারে বসিয়ে একইভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বক্তব্যে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা একবার দাম বাড়ালে পরে আর তা কমাতে চান না। এ কারণে বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।

ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের সমালোচনা করে রেহানা রানু বলেন, কিছু ব্যাংকমালিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রাহকের টাকা লুট করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অথচ সাধারণ গ্রাহকরা নিজেদের টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি লুট হওয়া অর্থ ফেরত দিতে দায়ীদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির দাবি জানান।

এ সময় তিনি ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা এবং সঞ্চয়পত্রে ১০ শতাংশ কর কাটার প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

রানু আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ফেনীতে নিহত ১১ জনের পরিবার এখনও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করছে। নিহতদের স্বজনরা তাকে জানিয়েছেন- পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না, আবার গ্রেপ্তার হলেও আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছে। তারা শুধু হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকট দূর করা, সেখানে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, লালপোল ফ্লাইওভার নির্মাণ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, গ্যাস সংযোগ চালু, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো এবং ফেনীতে দ্রুত ফ্যামিলি কার্ড চালুর দাবি জানান বিএনপির এই সংসদ সদস্য।

এলিস/নাঈম