আয়নাঘর বা গোপন বন্দিশালায় ২৪ ঘণ্টা থাকার ভয়বহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। সেখানকার ভয়বহ অভিজ্ঞতার কথা অনেকেই বলতে চান না। সরকার এই ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলতে চাইলেও আয়নাঘর বা গোপন বন্দিশালা সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চান না, বলে উল্লেখ করেছেন সরকারের এই উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বিদ্রূপ ও উপহাসের রাজনীতি: জুলাই বিদ্রোহের সময় কার্টুন ও গ্রাফিতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আয়নাঘরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাসহ অসংখ্য নিপীড়নের গল্প আছে আমাদের এবং এগুলো এতটাই ভয়াবহ যে, তারা এখনো সেগুলো বলতে চান না। যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বারবার বলতে অনুরোধ করা হচ্ছে, কিন্তু তার পরও তারা বলতে চান না। আমার আয়নাঘরে ২৪ ঘণ্টা থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমি থেকেছি সেই রুমটায় এবং দেখেছি দেয়ালে তাদের লেখা, যারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বন্দি ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে এত এত নিপীড়ন এবং মানুষের যে এত এত গল্প, এগুলো মানুষ আর্টওয়ারের মধ্যদিয়ে জানছে। মূলধারার পত্রিকাগুলোতেও কিন্তু তখন কার্টুন আঁকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।’
গুম কমিশনে ৫ হাজারের মতো আবেদন পড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘প্রায় ১৬ শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে গুম কমিশনে এবং সংখ্যাটা বেড়ে ৫ হাজার হতে পারে। গত ১৫-১৬ বছরে ৫ হাজার মানুষের গুমের অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো, আমরা এই কথাগুলো কেউ বলতে পারতাম না।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাভিন মুরশিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।
আরিফ জাওয়াদ/জোবাইদা/