অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, `বর্তমান সময়ে এসে কেউ জমি দখলে ব্যস্ত, কেউ ক্ষমতায় যাবার জন্য ব্যস্ত, কেউ পদ-পদবী দখলে ব্যস্ত, কেউ নিজস্ব লোক পুনর্বাসনে ব্যস্ত। কিন্তু খুনিদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য, খুনিদের বিচারের জন্য আমাদের ওপর যে পরিমাণ চাপ প্রয়োজন ছিলো সেদিকে আপনারা ফোকাস করেননি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যত বেশি চাপে রাখবেন, আমরা তত বেশি এই বিষয়টাকে (বিচার) সামনের দিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় চেষ্ট থাকবো। আপনারা যত বেশি অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করবেন আমরা রাষ্ট্রকে এবং জনগণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ততবেশি এজেন্ডাভিত্তিক সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাব।'
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিচার বিভাগে সংস্কার ও ঐক্যের বিকল্প নেই উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'ঐক্য ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয়। সংস্কার ছাড়া যৌক্তিক কোন বাংলাদেশ আপনাদের উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। ঐক্য ছাড়া, সংস্কার ছাড়া এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে করাটা কঠিন এবং দুরুহ।'
বিচারের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আলোচনা কম হওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা বলেন, 'জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তের বিনিময়ে যে চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে আমরা রাস্তায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলাম, সেই লক্ষ্য, সেই ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা, সেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করার যে ঐক্য, সেই ঐক্যটাতে যে ফাটল ধরেছে সেই ফাটলটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।'
যে অপরাধগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঘটানো হয়েছে তার বিচার হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে সেটা ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৯৭৩ এর ১৯ নাম্বার আইনে গঠিত। সেই আইনে হত্যা, নির্যাতন, গুমসহ অনেকগুলো অপরাধের কথা বলা হয়েছে, অতএব ইন জেনারেল বিচার হবে।'
আমরা প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছি না। আমরা বিচার করতে চাচ্ছি, উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমরা আগামী প্রজন্মকে ইতিহাসের একটি দায় থেকে মুক্ত করতে চাচ্ছি।'
সাংবাদিক মনির হায়দারের সঞ্চালনায় উক্ত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন্দ, মায়ের ডাকের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাহিদ আহসান প্রমুখ।
জয়ন্ত সাহা/সিফাত/এমএ/