আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকার হচ্ছে, গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যার যে অপরাধ বাংলাদেশের মাটিতে হয়েছে সেই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড এবং যারা সর্বোচ্চ জায়গায় বসে থেকে এই অপরাধগুলো সংগঠিত করেছেন, তাদের বিচার করা। সেই ক্ষেত্রে আমরা হাজার হাজার মানুষের বিচার করতে পারব না এবং সেই লক্ষে আমরা অগ্রসরও হচ্ছি না।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
৬ হাজার বর্গমাইলের সর্বত্র এই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'এর সঙ্গে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলো। এর সঙ্গে গোটাবাহিনীর অধিকাংশ অফিসারকে সংযুক্ত করা হয়েছিলো। 'দেশব্যাপী সকল কিছুর বিচার করতে চাই' এই ট্রাইব্যুনালের পক্ষে সেই বিচার করা সম্ভব নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাধারণত টপ কমান্ডারদের বিচার করা হয়। আমরা সে কারণেই এই গণহত্যার যিনি প্রধান নিউক্লিয়াস ছিলেন শেখ হাসিনাসহ তার যে নিচের দিকের কয়েকজন ছিলেন তাদের বিচারকে প্রায়োরাটাইজ করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা তাদের বিচারটা করতে চাই এবং করতে সক্ষম বলে আমরা মনে করি।'
সারা দেশব্যপী বিভিন্ন জায়গায় যত অপরাধ হয়েছে গ্রাউন্ড লেভেলে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে, আদালতে যে বিচার চলছে সেটা চলমান থাকবে। সেই বিচারগুলো করতে কত সময় লাগবে সেটা সংশ্লিষ্ট আদালত বলতে পারবেন বলেও যোগ করেন তিনি।
আগামী এক বছরের মধ্যে প্রধান অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের একটা ট্রাইব্যুনাল আছে, একটা তদন্ত সংস্থা আছে যেখানে ১৭ জন ইনভেস্টিগেশন অফিসার আছেন। আমাদের প্রসিকিউটর এজেন্সিতে ১০ জন প্রসিকিউটর আছেন। আরও হয়তো ২/৪ যুক্ত হবেন।
দুই দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে সাহস পেয়েছি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, সরকারের অনেক প্রায়োরিটি আছে কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রায়োরিটি হচ্ছে যারা দেশটাকে গুম এবং খুনের স্বর্গ রাজ্য করেছিলো, যারা ছাত্র জনতার রক্তে বাংলাদেশের মাটি রঞ্জিত করেছে তাদের বিচার করা। কাজেই এই জায়গায় ব্যর্থ হবার কোন সুযোগ নাই।'
তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সবার বিচার করতে পারবো না কিন্তু টপ স্কোরারদের বিচার ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে নিখুঁত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছভাবে আপনাদের বুঝিয়ে দিবো যে কতটা স্বচ্ছভাবে বিচার করা যায় এবং যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের অপরাধটা কী।
সাংবাদিক মনির হায়দারের সঞ্চালনায় উক্ত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন্দ, মায়ের ডাকের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাহিদ আহসান প্রমুখ।
জয়ন্ত সাহা/সিফাত/এমএ/