ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু এনড্রিককে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয় : আনচেলত্তি না ফেরার দেশে কবি আল মুজাহিদী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা

ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বকে ভুল বার্তা দিচ্ছে: হাসান হাফিজ

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৮ পিএম
ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বকে ভুল বার্তা দিচ্ছে: হাসান হাফিজ
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবি হাসান হাফিজ। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়া আমাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্ববাসীর কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। জাতীয় সংকট আমাদের আছে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আরও অনেক ষড়যন্ত্র হবে। এসবের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। 

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়্যা। 

কবি হাসান হাফিজ বলেন, চট্টগ্রাম বিট্রিশবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার। আমি গর্বিত যে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের ছাত্র ছিলাম। আমি এই পেশায় এসেছি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছোট ভাই মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের হাত ধরে। আমি সম্পাদক হওয়ার পর থেকে মাত্র তিন দিন ছুটি নিয়েছি। একদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে। আরেক দিন ইকোনোমিক রিপোটার্স ফোরামের নির্বাচনে এবং আজকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জন্য। আমার দুইবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয়েছে। আমি ওনাকে বলেছি, আমাদের একজন মাহাথির মোহাম্মদ লাগবে, আমাদের একজন রিকুয়ানিও লাগবে। আমরা ১০০ বছর ৫০ বছর অপেক্ষা করতে পারব না। আমরা একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজেদেরকে মাথা তুলে দাঁড়াতে চাই। আমরা যে সুযোগ পেয়েছি সেটি যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে হয়তো আরও স্বৈরাচার আমাদের ওপর চেপে বসবে। আমি এও বলেছি, আপনাদেরকে বেশি সময় দেবে না। একটা যৌক্তিক সময় দেবে। এর মধ্যে যতটা পারা যায়। 

তিনি আরও বলেন, আমরা মিডিয়া যেন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই। আমরা যেন স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা না করি। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার চাই, পরির্বতন চাই। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-সাংবাদিকসহ অনেক মানুষ প্রাণ দিয়েছে। আমাদের সবার রক্তের সঙ্গে যেন আমরা বেঈমানি না করি।

তিনি বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের গণমাধ্যমগুলো এখনো সঠিক লাইনে আসে নাই। ভারতীয় মিডিয়া আমাদের দেশ নিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। আমাদেরকে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়। এখনও কেন রক্ত ঝড়বে, আমাদের সীমান্তের কাঁটাতারে ফেলানীর মতো লাশ দেখতে চাই না। আমাদের বন্ধুত্ব হতে হবে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

হাসান হাফিজ বলেন, আমরা যেন সত্যিকারের বৈষম্যমুক্ত, সাম্যের, ন্যায়ের এবং শোষণমুক্ত, মুক্তচিন্তার প্রতিধ্বনি থাকবে সেই রকম একটা বাংলাদেশ চাই। সাংবাদিকদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আমরা সবাই মিলে কাজ করব।

তিনি বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব আপনাদের পাশে আছে। আপনারা যখনই ঢাকায় যাবেন আপনাদের জন্য আমাদের দরজা সবসময় অবারিত। আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব।  

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, নতুন বাংলাদেশে নতুন স্বপ্ন দেখছি আমরা। নতুন করে সাংবাদিকতাকে আবার বাংলাদেশে এস্টাবলিশ করার জন্য স্বপ্ন দেখছি। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা চলে গিয়েছিল জাদুঘরে। আজকে সাংবাদিকতাকে জাদুঘর থেকে বের করে আনতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করব। যার ফলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা ঢাকায় গেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তবর্তী কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব অন্তবর্তী কমিটির সদস্য মুস্তফা নঈম, গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ও মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত।

প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সদস্য, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনু্ষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বার্তা সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়্যাকে ক্রেস্ট তুলে দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিবসহ নেতারা।

মাহফুজ/এমএ/

 

হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৭৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৬ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ হাজার ১৫৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এসএন/

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নগর ও পৌর এলাকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন একটি উচ্চ জলাধার নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলকে যেভাবে উন্নত ও আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করেছি। আমি নিজে কোনো অন্যায় করব না এবং কোনো অন্যায়কেও প্রশ্রয় দেব না।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী টাঙ্গাইল পৌরসভার আওতাধীন আশেকপুর বাইপাস এলাকায় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুইটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার এবং দুইটি ৬৮০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হয়।

এ প্রকল্পে পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ কাজের মোট কার্যাদেশ মূল্য ১৯ কোটি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং উচ্চ জলাধার নির্মাণ কাজের মোট কার্যাদেশ মূল্য ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ৩১১ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর পৌরসভার ৪, ৫, ৬, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৯টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং পৌরবাসী নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমীনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জুয়েল/আমান

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহুদিনের। উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এই সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারত্বকে ছাড়িয়ে বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে সেই কৌশলগত সহযোগিতা নতুন মাত্রায় নেওয়া হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এখন চীনের কাছে শুধু অনুদান বা প্রকল্প সহযোগিতা নেওয়ার সম্পর্কে থাকতে চাইছে না। এই সম্পর্কের ব্যাপ্তি এখন আরও গভীরে নিতে চায়। নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ঢাকা-বেইজিং। বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতার অধিকাংশই চীনের। নতুন করে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা বৃদ্ধিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন তৈরিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে কৌশলগত সহযোগিতার ব্যাপ্তি আরও বাড়াতে সম্মত দুই দেশ। এই সফরে উভয় দেশের মধ্যে এক ডজন সমঝোতা স্মারক সই করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি খাত, গণমাধ্যম ও শিক্ষাক্ষেত্রে এসব সমঝোতা স্মারক সই হবে। 

এ বিষয়ে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ খবরের কাগজকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে এবং অনেকগুলো সমঝোতা চুক্তিও হবে। কিন্তু কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও চুক্তির কারণে তা অন্য কোনো দেশের জন্য যেন দুশ্চিন্তার কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, প্রতিবেশী ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো এসব সফরের দিকটি পর্যবেক্ষণে রাখে। ফলে এসব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক যাতে বজায় থাকে, সেদিকটি লক্ষ রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক বাংলাদেশের থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা যেন কারও জন্য উসকানিমূলক না হয়। কেননা এসব দেশের নিজেদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে থাকে। যেমন, চীন ও ভারতের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে বিরোধ থাকলেও আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যুতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে। কাজেই এই তিন পরাশক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই লক্ষ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য চীনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে তড়িঘড়ি করে প্রথম সফর মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু করা হচ্ছে, তা আবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার খাতিরে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র কোন দেশকে কখন অগ্রাধিকার দেবে, সেটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেই মনে করেন কেউ কেউ।

বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অনেক বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সহায়তা রয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের ইতিহাসে সড়ক, সেতু, রেল, বিদ্যুৎ, বন্দর এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর অনেক প্রকল্পে চীনের অবদান রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে নদীর নাব্যসংকট, ভাঙন, পানির স্বল্পতা এবং সেচ সমস্যা রয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনা এবং সেচ অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে। যদিও এই প্রকল্পটি এককভাবে চীনকে দেওয়ায় ভারতের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সরকার কীভাবে সমন্বয় করবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। 

তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট উৎপাদন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো আগামী দিনের অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ যদি এসব খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আকৃষ্ট করতে পারে, তাহলে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের একটি।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। অন্যদিকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে এ পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
 
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রত্যাবর্তনকারী ৬০ হাজার ৫৮৮ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৬ হাজার ২৬৯ জন। সৌদি আরবে মারা যাওয়া ৫৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্তরা/

দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তার। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সতর্কবার্তাটি ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্তরা/