গত বছরের ডিসেম্বরে সারা দেশে ৫০৪ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩৯ জন নিহত এবং ৭৬৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৭ জন শিশু। এদিকে গত নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গত ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬২ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিল ১৫ দশমিক ৪ জন। ডিসেম্বরে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৭ দশমিক ৩৮ জন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার হার ৪৯ শতাংশ। ৯৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে, যার হার ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পথচারীকে চাপা ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১৬টি। এ ছাড়া যানবাহনের পেছনে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৫টি, যার হার ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত সপ্তাহে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণও ছিল যানবাহনের পেছনে ধাক্কা দেওয়া। সড়ক দুর্ঘটনায় যানবাহনের ৭২ চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭৮৪টি, যার মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৫৩টি এবং মোটরসাইকেল ২১৯টি। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৯৩টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৫টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৮টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৫৮টি দুর্ঘটনায় ১৭৭ জন নিহত হয়েছেন এবং সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় ৪১টি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম হয়েছে বরগুনা, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় জেলায়। এই তিনটি জেলায় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি। ঢাকায় ৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। সারা দেশে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। এর মধ্যে অন্তত চারটি পরিবারের সবাই নিহত হয়েছেন। সাতটি অটোরিকশায় ৩১ জন, তিনটি প্রাইভেটকারে ১২ জন, একটি মাইক্রোবাসে পাঁচজন এবং দুটি মোটরসাইকেলে ছয়জনসহ মোট ৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ দরকার। পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বিশেষ করে নিয়োগপত্র, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকার কারণে বাস এবং পণ্যবাহী যানবাহনের অধিকাংশ চালক শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ।’
তিনি বলেন, ‘তারা সবসময় অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালান। এতে দুর্ঘটনা ঘটে। এজন্য পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং কাঠামোগত সংস্কার করে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
জয়ন্ত সাহা/সুমন/পপি/