ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখুন, সাংবাদিকদের রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৫৬ পিএম
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখুন, সাংবাদিকদের রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গুজব, অপপ্রচার, অপতথ্য ও বিকৃত তথ্য প্রচার প্রতিরোধে এবং এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতেও বলেন রাষ্ট্রপতি।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

কমিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সমাজের দর্পণ।’ 

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের গৌরবময় অবদানের কথা স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমাজে সুবিচার, ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ 

সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী এবং প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ডিআরইউ নবনির্বাচিত কমিটির সহসভাপতি গাযী আনোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাই তুহিন, দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, নারীবিষয়ক সম্পাদক রোজিনা রোজী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমদাদুল হক খান, আপ্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (মেজবাহ) ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. জুনায়েদ হোসাইন (জুনায়েদ শিশির), আকতারুজ্জমান, মো. বোরহান উদ্দীন, আমিনুল হক ভূঁইয়া, মো. ফারুক আলম, সুমন চৌধুরী ও মো. সলিম উল্ল্যা (এস ইউ সেলিম) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং অনলাইন বেটিংসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটিতে এসব অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন।

বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে তিনি প্রস্তাব করেন, কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করবে। এ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষার পর প্রস্তাবিত বিলটি সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জুয়ার বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত এই আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, বাজি, টোটালাইজেটর, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এলিস/এসএন

আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব
ছবি: সংগৃহীত

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ হজরত মওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন- ইসলামে আদবের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার আদব-আখলাকের মাধ্যমে। মানুষকে মানুষের মাঝে সম্মানিত করে তার সম্পদ নয়, তার বংশ নয়, বরং তার আদব ও চরিত্র। আদব এমন একটি গুণ, যা একজন মানুষকে সমাজে মর্যাদাবান করে তোলে। “আদব ছাড়া ইলম হলো ফলহীন বৃক্ষের মতো”। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন আদব ও উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা। তাঁর জীবন আমাদের জন্য আদবের সর্বোত্তম শিক্ষা।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- আদবের প্রথম ধাপ হলো আল্লাহর সাথে আদব। এরপর পিতা-মাতার সাথে আদব। আজ অনেক সন্তান পিতা-মাতার কথা শুনতে চায় না। শিক্ষকদের সাথে আদব, আলেমদের সাথে আদব, প্রতিবেশীদের সাথে আদব বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই শিক্ষিত হচ্ছি, কিন্তু আদব শিখছি না। ফলে সমাজে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করা। মনে রাখতে হবে, আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে।

সোমবার (২২ জুন) মাগরিবের পর ছারছীনা দরবার শরীফ জামে মসজিদে হজরত পীর ছাহেব কেবলা পবিত্র হজব্রত পালন শেষে দেশে এসে ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নসিহত করতে গিয়ে একথা বলেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার আসাতিজায়ে কেরামগণ।

এসএন/

বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। শিল্প খাতে কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের বিপুল আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ওই অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বড় আকারের আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ও ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ও ইউরেশিয়ার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

আফ্রিকা অঞ্চলেও বাণিজ্য ঘাটতির বিস্তার রয়েছে। মরক্কো, বেনিন, ক্যামেরুন, মালি, বুর্কিনা ফাসো, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভরতার কারণেই এই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য কৌশল ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এলিস/এসএন

শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু
বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

তিনি বলেন, “হাসিনা আবার ফিরে এলে যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন কালো করে ছাড়বে।”

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিরোধী দলের উদ্দেশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, বর্তমান সরকারের মাত্র চার মাস হয়েছে। এখনই নতুন আন্দোলন বা বিপ্লবের কথা বলা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, সরকারকে সহযোগিতা করুন। আল্লাহ না করুক, আবারও যদি দানব হাসিনা ফিরে আসে, যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন কালো করে ছাড়বে।”

একই বক্তব্যে তিনি সম্প্রতি আলোচিত ‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, সেখানে এমন একটি চেয়ার দেখেছেন, যেখানে বিরোধী দলের নেতাদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। তার দাবি, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ওই চেয়ারে বসিয়ে একইভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বক্তব্যে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা একবার দাম বাড়ালে পরে আর তা কমাতে চান না। এ কারণে বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।

ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের সমালোচনা করে রেহানা রানু বলেন, কিছু ব্যাংকমালিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রাহকের টাকা লুট করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অথচ সাধারণ গ্রাহকরা নিজেদের টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি লুট হওয়া অর্থ ফেরত দিতে দায়ীদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির দাবি জানান।

এ সময় তিনি ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা এবং সঞ্চয়পত্রে ১০ শতাংশ কর কাটার প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

রানু আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ফেনীতে নিহত ১১ জনের পরিবার এখনও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করছে। নিহতদের স্বজনরা তাকে জানিয়েছেন- পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না, আবার গ্রেপ্তার হলেও আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছে। তারা শুধু হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকট দূর করা, সেখানে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, লালপোল ফ্লাইওভার নির্মাণ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, গ্যাস সংযোগ চালু, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো এবং ফেনীতে দ্রুত ফ্যামিলি কার্ড চালুর দাবি জানান বিএনপির এই সংসদ সদস্য।

এলিস/নাঈম

টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: সংগৃহীত

বিগত সরকারের আমলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পে বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের শাসনামলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের কর্মসূচির নামে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও অবকাঠামো সংস্কারের নামে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ বণ্টন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে অতীতে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও বরাদ্দ অপব্যবহারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
মন্ত্রী জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলিস/এসএন