প্রথমবারের মত বাংলাদেশের কোনো নারী অভিযাত্রী দল নেপালে অভিযান চালিয়ে ল্যাংটাং হিমালয়ের তিনটি চূড়ায় উঠেছেন। প্রতিটি চূড়ায় দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন। পর্বতারোহী ইয়াসমিন লিসা, তাহেরা সুলতানা রেখা, ট্রেকার এপি তালুকদার ও অর্পিতা দেবনাথকে নিয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেন পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড মাস্টার কার্ডের সার্বিক সহযোগিতায় এই পর্বত অভিযান আয়োজন করেছে পবর্তারোহীদের সংগঠন ‘অভিযাত্রী’। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয় ‘সুলতানাজ ড্রিম অনবাউন্ড’।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এ অভিযানের সফলতা এবং পতাকা হস্তান্তর উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অভিযাত্রীরা। এসময় মাস্টারকার্ডের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের কাছে অভিযানের পতাকা হস্তান্তর করেন অভিযাত্রী দল।
অভিযানের সময় নানা প্রতিকূলতায় পড়ার কথা জানিয়ে তারা বলেন, অভিযানে তারা ৫ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতার ইয়ালা শৃঙ্গ, ৫ হাজার ১৪৫ মিটার উচ্চতার সুরিয়া শৃঙ্গ এবং ৪ হাজার ৭৪৭ মিটার উঁচু গাঁসাইকুণ্ড শৃঙ্গ জয় করেছেন। তবে অভিযানে নতুন প্রশিক্ষণার্থী ট্রেকার এপি ও অর্পিতা বেইজক্যাম্প পর্যন্ত ট্র্যাক করেন।
হিমালয় অভিযান বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তারা বলেন, শীতকালে তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় তা আরও বেড়ে যায়। সাধারণত এ সময়ে হিমালয়ে অভিযান থেকে বিরত থাকেন পর্বতারোহীরা। এ চ্যালেঞ্জটাই গ্রহণ করেছেন তারা।
অভিযাত্রীরা আরও বলেন, বাঙালি মুসলিম জাগরণে অন্যতম পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এমনই স্বপ্ন দেখাতেন উনিশ শতকে। তার লেখা ‘সুলতানাজ ড্রিম’ জাতিসংঘের ইউনেস্কোর বিশ্বস্মৃতি বা মোমোরির তালিকায়ও স্থান পেয়েছে। সেই অনুপ্রেরণায় হিমালয়ে এ বিশেষ পর্বত অভিযানে যান তারা।
ইউনেস্কোর ঢাকার হেড অব কমিউসনিকেশন অ্যান্ড পাললিক এনগেইজমেন্টের নুসরাত আমিন বলেন, রোকেয়া সুলতানার স্বপ্ন কীভাবে আরও বেশি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়েছে। সুলতানার স্বপ্ন ছিল অবারিত। একটি স্বপ্ন যেমন জাগরুক থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তেমনই আমরা আশা করছি এ অভিযান ভবিষ্যতেও আমরা চলমান রাখতে পারব।
মাস্টারকার্ডের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, আমরা এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পেরে আনন্দিত। আমরা ভবিষ্যতেও এর সঙ্গে থাকতে চেই এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি এই অভিযানে বিদেশি নারীদের যাতে সম্পৃক্ত করা যায় আমরা সে চেষ্টা করছি। প্রতি বছর অন্তত একটি অভিযান যেন পরিচালনা করা যায় সে ভাবনা আমাদের আছে। আমরা আশা করছি প্রতিটি নারীরে এমন উদ্যোগে উৎসাহিত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, আমি বলব এই সফলতার নাম ‘পঞ্চকন্যার হিমালয় বিজয়’। আয়োজনটি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সুলতানা’স ড্রিমকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি। এরই অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি। আগামীতে আমরা এটিকে এগিয়ে নিতে আরও কাজ করব।
তিথি/মাহফুজ