গত ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। তাতে ৯০ দিনের জন্য বিদেশি সহায়তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং নতুন সাহায্য অনুমোদন বন্ধ রেখেছে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশেও সহযোগিতা কার্যক্রম স্থগিত করেছে দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড।
গত শনিবার ইউএসএআইডি বাংলাদেশ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে অংশীদারদের ইউএসএআইডির অধীন সব চুক্তি, কার্যাদেশ, মঞ্জুরি, সহযোগিতামূলক চুক্তি কিংবা অন্য সব প্রকল্পের সব ধরনের কাজ বন্ধ, জব্দ বা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটির উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের অর্থায়নে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন সব প্রকল্প ও কর্মসূচির ব্যয় অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দেশনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে না জানালেও এটি প্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের বিষয়ে আমি এখন উত্তর দিতে পারব না। কারণ আমার কাছে এ রকম কিছু আসেনি। তবে এটা ইতোমধ্যে পত্রিকায় চলে এসেছে। মোটামুটি এটা প্রত্যাশিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের জন্য সব ধরনের তহবিল বন্ধ রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিন্তু নির্বাচনের আগে থেকে বলছিলেন, এগুলো বিবেচনা করে নতুনভাবে দেখবেন। তারা বিবেচনার জন্য সময়টা নিয়েছে। এ ধরনের তহবিল কমবে, এটা তো সবাই আশঙ্কা করেছিলেন।’
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বার্ষিক অর্থায়নে প্রভাব পড়বে কি না- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটা নতুন বাস্তবতায় এসেছি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট এসেছেন। তার যে নীতিমালা সেগুলো আগের থেকে ভিন্ন, এটা সবাই জানতেন। আমাদের দেখতে হবে, আসলে শেষ অবধি কী দাঁড়ায়। কোনো পরিস্থিতি যখন সৃষ্টি হবে, তখন সেটা আমাদের ঘটনার অন্তরালে গিয়ে বের করতে হবে যে কীভাবে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।’

চিকিৎসার জন্য ভারতের বিকল্প হতে পারে চীন
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার সাম্প্রতিক চীন সফর বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা বন্ধ রাখায় চীন সে ক্ষেত্রে বিকল্প দেশ হতে পারে। চিকিৎসার জন্য ভারতের বিকল্প হতে পারে চীনের কুনমিং। সেখানে চিকিৎসা খরচ ও যাতায়াতের খরচ তুলনামূলক কম। এ ক্ষেত্রে চীনকে ভিসা ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি বড় হাসপাতাল করে দিতে রাজি হয়েছে চীন। সেটির স্থান নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। আমরা বলেছি আমাদের হাতে পূর্বাচলে ভালো জায়গা আছে। সেখানে আমরা জায়গা দেওয়ার কথা তাদের বলেছি।’
ঋণের সুদহার কমানো এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়াতে চীনের মনোভাব ইতিবাচক
উপদেষ্টা আরও বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে তাদের প্রকল্পগুলোতে দেওয়া ঋণের সুদহার কমানো এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে বিষয়টি দেখবে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের বিষয়ে তথ্য বিনিময়সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। তবে তিস্তার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।