আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) শেষ হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে গত শুক্রবার শুরু হয় তাবলিগ জামাতের শুরায়ে নেজামের অনুসারীদের আয়োজনে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বাদ ফজরের বয়ানের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন। ফজরের নামাজের পর থেকেই বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা খোরশেদ। বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা ওবায়দুর রহমান। ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের অন্যতম একটি পর্ব ছিল যৌতুকবিহীন বিয়ে।
আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের পদচারণে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে লাখো মুসল্লির জিকির-আসকার, তসবিহ পাঠ, আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত তুরাগ তীর।
তাবলিগের ছয় উসুলের বয়ানে মানুষের মধ্যে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা এবং দ্বীনের বাণী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার পদ্ধতি এবং বিশ্বের মুসলমানদের কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করা যায়, সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিকে টঙ্গী যেন এখন পরিণত হয়েছে ধর্মীয় নগরীতে। যেই দিকে চোখ যায়, দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পরা মানুষ আর মানুষ।
বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের শুরায়ে নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমার শুরায়ে নেজামের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে দুই ধাপে। এর মধ্যে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হবে প্রথম ধাপের ইজতেমা। এ ধাপে অংশগ্রহণ করছেন ৪১ জেলা ও ঢাকার একাংশের মুসল্লিরা। এরপর আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। এ ধাপে অংশ নেবেন ২২ জেলা ও ঢাকার বাকি অংশের মুসল্লিরা।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান ইজতেমা ময়দানে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের কাছে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। আখেরি মোনাজাতের আগে সকাল ৬টা থেকে ঢাকার ৩০০ ফিটের মাথায়, ধউর ব্রিজের মাথায় এবং ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে ইজতেমাগামী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ইজতেমার মুসল্লিরা ময়দান ত্যাগ করার পর সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাবোধ করা হচ্ছে না। আমরা মুসল্লিদের সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া ইজতেমা কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিয়েছে। তারাও নিরাপত্তার দিকটি দেখছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই ইজতেমার প্রথম পর্বটি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রেস ব্রিফিংকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যৌতুকবিহীন ৬৩ বিয়ে
এদিকে গতকাল বাদ আসর ইজতেমার ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় যৌতুকবিহীন ৬৩টি বিয়ে। রেওয়াজ অনুযায়ী বয়ান মঞ্চের মিম্বরের কামরার পাশে সকাল থেকেই যৌতুকবিহীন বিয়ের হবু দম্পতিদের নামের তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়। চলে আসর নামাজের আগ পর্যন্ত। একটি রেজিস্ট্রারে নাম তালিকাভুক্তির পর হবু দম্পতিদের লোকজনদের কাছে একটি করে সিরিয়ালের টোকেন দেওয়া হয়। সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর বয়ান মঞ্চ থেকেই এ বিয়ে পড়ানো হয়।
শুরায়ে নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, এ বিয়ের নিয়ম অনুযায়ী কনের অনুপস্থিতিতে বর-কনের অভিভাবক এবং বর সশরীরে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিয়ের আগে বর-কনের উদ্দেশে বয়ান দেওয়া হয়। বিয়ের পর বয়ান মঞ্চ থেকেই মোনাজাতের মাধ্যমে নব দম্পতিদের সুখ-সমৃদ্ধিময় জীবন কামনায় দোয়া করা হয়। বর-কনের অভিভাবকরা বয়ান মঞ্চের আশপাশে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে খেজুর বিতরণ করেন। বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা হয় ‘মোহরে ফাতেমি’র নিয়মানুযায়ী। এ নিয়ম অনুযায়ী মোহরানা ধরা হয় দেড়শ তোলা রুপা বা এর সমমূল্যের অর্থ।
মেহেদী/