জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বা আদেশ জেলা প্রশাসকরা যাতে সরাসরি পেতে পারেন সেজন্যে কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীন।
তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা, আদেশ ও জরুরি নোটিশ দ্রুত প্রেরণ ও গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল বা ই-হটলাইন তৈরি করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালত ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে তথ্য বিনিময় ত্বরান্বিত হবে।’
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই পরামর্শ দেন তিনি।
সম্মেলনে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর দেওয়া বক্তব্যেও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ সংকটের চিত্র উঠে আসে।
তিনি বলেন, ‘এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ আদালতের কোনো সাময়িক বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কিনা তা জানা সম্ভব হয় না। এর ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা আদেশ প্রদান করা হয়ে থাকে এবং নবীন কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ঝুঁকির সম্মুখীন হন।’
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অভিভাষণ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
অভিভাষণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টা জনসাধারণের আস্থাকে দৃঢ় করার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখে। শুধু তা-ই নয়, বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোতে জেলা প্রশাসন সমাজে ন্যায়বিচারকে দৃশ্যমান করে তোলে। আর এসবের মধ্য দিয়ে একজন জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে সূক্ষ্ম ভূমিকা পালন করে থাকেন।’
সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব এবং ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি তার ভাষণে বলেন, একটি জেলার বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসন দুটি স্বতন্ত্র স্তম্ভ হলেও অবিচ্ছেদ্যভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দুটি স্তম্ভেরই উদ্দেশ্য অভিন্ন।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। আর নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব হচ্ছে আইনের শাসন, নীতির বাস্তবায়ন, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শাসনকে সহজতর করা। কাজের ধরণ আলাদা হলেও বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের কাজ সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। কোনোভাবেই তা বিরোধপূর্ণ হওয়া উচিত নয়।
মাহমুদুল আলম/অমিয়/